এসআইআর নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা অভিষেকের, দলীয় হেল্প ডেস্ক তৈরির সিদ্ধান্ত
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (Special Intensive Revision - SIR) সময় যদি প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) আইনি ব্যবস্থা এবং গণ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল। আজ রাজ্যের প্রায় ১৫ হাজার দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই বার্তা গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এদিন রুদ্ধদ্বার ভার্চুয়াল বৈঠক করলেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে "নিঃশব্দে, চুপি চুপি কারচুপি" করতেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে বিজেপি।

সূত্রের খবর, অভিষেক বৈঠকে বলেন, গত ২৭ অক্টোবর ঘোষিত এই SIR প্রক্রিয়াটি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা ম্যানিপুলেট করার জন্য বিজেপির ইশারায় করা হচ্ছে। অভিষেকের কথায়, "আপনারা সবাই জানেন, ২৭ অক্টোবর বিজেপির নির্দেশে বাংলায় SIR ঘোষণা করা হয়েছিল। বিহারে ভোটার তালিকা সংশোধনের ঘোষণা হওয়ার পর আমরা বলেছিলাম, এর অর্থ হলো 'Silent Invisible Rigging' (চুপি চুপি কারচুপি)। টিএমসি সংসদ, আদালত এবং রাস্তায় এর প্রতিবাদ করেছে এবং আমরা তা করতে থাকব।"
বৈঠকের শুরুতে অভিষেক আরও বলেন, "যদি একজন যোগ্য ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে বাংলার এক লক্ষ মানুষ দিল্লির নির্বাচন কমিশনের (EC) অফিসের বাইরে ধর্না দেবেন।"
অভিষেকের ডাকা সভায় বক্তব্য পেশ করেছেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও। ভোটার তালিকা সংশোধনের উপর নজরদারির জন্য দলের কৌশল তৈরি করতেই এই বৈঠক। দলীয় অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর, আমন্ত্রিতদের মধ্যে জেলা, ব্লক ও বুথ স্তরে সাংগঠনিক কাজে নিযুক্ত টিএমসি নেতা-কর্মীরা যেমন ছিলেন, তেমনই খোলামেলা অভ্যন্তরীণ আলোচনার জন্য সভাটি রুদ্ধদ্বার রাখা হয়েছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বাড়ি-বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং ভোটারদের নাম পুনঃ-পরীক্ষার এই প্রক্রিয়াটির কারণে রাজ্য জুড়ে একটি "ভয়ের পরিবেশ" সৃষ্টি হয়েছে। যদি প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়, তবে আমরা চুপ থাকব না। আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য দিল্লিতেও একটি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করব।"
টিএমসি সূত্র অনুসারে, অভিষেক সমস্ত নেতাদের সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে, বেশ কয়েকটি এলাকায়, বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং কোচবিহার জেলায় "হাজার হাজার প্রকৃত ভোটারের নাম" তালিকায় নেই সেটা দেখা গিয়েছে। অভিষেক এই বিষয়টি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও বলেছেন। তাঁর মতে, এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বিষয় নয়, একটি গণতান্ত্রিক বিষয়।
অভিষেক বৈঠকে বলেন, "এই প্রক্রিয়ার কারণে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মানুষ ভয় পাচ্ছেন যে তাঁদের নাম হয়তো বাদ পড়ে যেতে পারে এবং গণতন্ত্রে এটা একেবারেই মেনে নেওয়া যায় না।" নাগরিকদের সহায়তা করার জন্য, অভিষেক ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে অঞ্চলভিত্তিক হেল্প ডেস্ক স্থাপনের ঘোষণা করেন। এই ডেস্কগুলি মানুষকে তাঁদের ভোটার বিবরণ যাচাই করতে, দাবি ও আপত্তি জমা দিতে এবং সংশোধনের সময়কার অনিয়ম রিপোর্ট করতে সাহায্য করবে।
অভিষেক আরও বলেন, "যে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম অন্যায়ভাবে মুছে ফেলা হলে বা আটকে রাখা হলে টিএমসি তাঁদের পাশে দাঁড়াবে।" তিনি জেলা ও ব্লক-স্তরের দলগুলিকে সক্রিয় থাকার এবং ভোটার দমনের কোনও ঘটনা ঘটলে রাজ্য নেতৃত্বকে জানানোর আহ্বান জানান।












Click it and Unblock the Notifications