বিজেপি ৫০ আসন পার করতে পারবে না, আত্মবিশ্বাসী অভিষেক
এই লড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২৫০-এর বেশি আসন নিয়ে চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী করার লড়াই। আপনাদের এমনভাবে লড়াই করতে হবে যাতে বিজেপি ৫০-এর নীচে নেমে আসে। আজ যদি ওরা বাংলায় ৫০-এর কম আসন পায়, তবে আমার মনে হয় না ২০২৯ সাল পর্যন্ত তারা দিল্লিতে ক্ষমতায় থাকতে পারবে।
আজ নজরুল মঞ্চে তফশিলির সংলাপ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, তফশিলি জনজাতি অধ্যুষিত ৮৪টি আসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে।

অভিষেক বলেন, আমি ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়ার মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা পুরুলিয়া আসনটি সামান্য ব্যবধানে হেরেছি। আমরা আরামবাগে জিতেছি। উত্তরবঙ্গে আমাদের ফলাফল ভালো হয়নি। আমরা সেখানকার মানুষের কাছে পৌঁছব। ২০১৯ সালে বিজেপি ১৮টি আসন পেয়েছিল। ২০২৪-এ তাদের সংখ্যা ৬টি কমেছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে আগামী দিনে তারা যেন শূন্যে নেমে আসে। ১৮টি বিষধর সাপ আর ১২টি বিষধর সাপের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই। তারা বাংলা-বিরোধী।
অভিষেকের কথায়, বিধানসভায় বিজেপির বিধায়কদের হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেখুন। উত্তরবঙ্গ বা রানাঘাট বা বনগাঁয় যান। তাঁদের জিজ্ঞাসা করুন যে তাঁদের নির্বাচনী এলাকার গরিব মানুষের জন্য তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার থেকে ক'টি প্রকল্প আনতে পেরেছেন। গত পাঁচ বছরে বিজেপির বিধায়করা কোনও গ্রামে একটি বাল্বও জ্বালাতে পারেননি। এরাই সেই লোক যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং যুবসাথী নিয়ে উপহাস করে। আমরা মানুষের সেবা করেছি। গত দুই মাসের উদাহরণটাই দেখুন। বিজেপি SIR-এর নামে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত করে তাঁদের লাইনে দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে, বেকার যুবক-যুবতীদের সাহায্য করতে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে তাঁদের মাসে ১,৫০০ টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অগণিত মানুষ এর সুবিধা নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী কেড়ে নিচ্ছেন, আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আছেন, বাংলাকে বঞ্চিত করা যাবে না।
বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা নিয়ে অভিষেক বলেন, দিল্লির জমিদাররা রথযাত্রা শুরু করেছে। এই প্রথম আমি মার্চ মাসে রথযাত্রা দেখছি। আমরা জগন্নাথ দেবের রথের কথা জানি, দেবদেবীদের রথের কথা শুনেছি। কিন্তু প্রতারকদের রথযাত্রার কথা এই প্রথম শুনলাম। জনপ্রতিনিধিদের থাকার কথা রাস্তায় মানুষের পাশে, অথচ তাদের দেখা যাচ্ছে রথের উপর। বিরোধী দলে থেকেও ওরা রথে চড়ছে; ভাবুন তো, ক্ষমতায় এলে ওরা কীসে চড়ত!
অভিষেক বলেন, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম 'adjudication' (বিচারধীন) অবস্থায় আছে। আগামী মে মাসে তারাই বিজেপিকে under adjudication-এর লাইনে দাঁড় করাবে। যদি ৬০ লক্ষ মানুষ 'adjudication'-এ থাকতে পারেন, তবে কেন প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী under adjudication থাকবেন না? যখন SIR ঘোষণা করা হয়েছিল, আমি আমাদের BLA-2 প্রতিনিধিদের বলেছিলাম যে এই লড়াই ছয় মাস চলবে। ইতিমধ্যেই চার মাস কেটে গিয়েছে। শেষ দুই মাস আপনাদের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে হবে।
অভিষেক আরও বলেন, তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতির জন্য সংরক্ষিত ৮৪টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। আপনাদের এই সব কটি বিধানসভার দায়িত্ব নিতে হবে। যদি একজন ব্যক্তিও বিজেপিকে ভোট দিতে চান, আপনাদের সেই ব্যক্তিকে বোঝাতে হবে যে বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে বিপদ ডেকে আনা। যে তফশিলি জাতির ভোটাররা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরা গেরুয়া শিবিরের দ্বারা অপমানিত হয়েছেন। গাইঘাটার মতুয়ারা রাম মন্দিরের উদ্বোধনে পবিত্র জল নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভারতের রাষ্ট্রপতি একজন তফশিলি জনজাতির মহিলা। তাঁকে রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধিকেও রাম মন্দিরের উদ্বোধনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ভারতের রাষ্ট্রপতি যখন বাংলায় এসেছিলেন, তখন তিনি 'জয় বাংলা' বলেছিলেন। বিজেপি বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি হিসেবে দাগিয়ে দিয়েছে। তারা আমাদের বঞ্চিত করেছে, হেনস্থা করেছে এবং অত্যাচার করেছে। দু'মাস পরে নির্বাচনে বিজেপি এর জবাব পাবে। অতি-তুষ্ট বা অতি-আত্মবিশ্বাসী হবেন না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই প্রতিটি বুথে এবং প্রতিটি গ্রামে। তফশিলি জাতি ও তফশিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিটি সদস্য যারা বিজেপি-কে ভোট দিয়েছিলেন, তাঁদের বোঝান যাতে তাঁরা আর বিজেপি-কে ভোট না দেন।
-
বাংলায় বিজেপি নাকি তৃণমূল, কারা গড়বে সরকার? কী বলছে সাম্প্রতিক জনমত সমীক্ষা -
অঙ্গ কলিঙ্গের পথে এবার বঙ্গও, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিজেপি সরকার গড়ার ডাক অমিত শাহের -
তামিলনাড়ু নির্বাচন: ডিএমকে-র প্রার্থী তালিকা ঘোষণা, ১৬৪ আসনে লড়বেন স্টালিনরা -
ধর্ম ও জাতির নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে উন্নয়নবিমুখ বিজেপি, দাবি অভিষেকের -
বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ভোটের আগে বিতর্ক, তৃণমূল প্রার্থীর শংসাপত্র নিয়ে হাই কোর্টে বিজেপি প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ -
সকালেই বিজ্ঞপ্তি, রাতের মধ্যেই মনোনয়ন জমা, রাজ্যে ভোটের আবহে তৎপর প্রার্থীরা -
প্রথম চার্জশিট হওয়া উচিত মোদী-শাহের বিরুদ্ধে, মন্তব্য মমতার -
একদিনে ২৬৭ আধিকারিক বদলি, কমিশনের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ -
২০ শতাংশ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই! বাংলার ভোটে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে এই কেন্দ্রগুলি -
মমতার প্রচার বন্ধে কমিশনের দ্বারস্থ বিজেপি, পাল্টা তৃণমূলের কটাক্ষ: ভয়েই মরিয়া পদক্ষেপ -
রবিবার রাজ্যে কালবৈশাখীর সতর্কতা, বৃষ্টির সতর্কতা ৬ জেলায় -
ভোটের আগেই বকেয়া ডিএ নিয়ে নয়া পদক্ষেপ, বিজ্ঞপ্তিতে পরিবর্তন করে নতুন ঘোষণা রাজ্যের











Click it and Unblock the Notifications