Australian Open: বঞ্চনা, আর্থিক প্রতিকূলতাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন সুমিত, দ্বিতীয় রাউন্ডে ভারতীয় টেনিস তারকা
বঞ্চনা, আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিঙ্গলসে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন সুমিত নাগাল। মঙ্গলবার মেলবোর্ন পার্ক সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ম্যাচের। ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিঙ্গলসে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন ভারতীয় টেনিস তারকা। সেইসঙ্গে আরও একটি মাইলস্টোন স্পর্শ করলেন সুমিত।
ডেভিস কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে না খেলায় নাগালের জন্য ভারতীয় টেনিস সংস্থা ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিরআবেদন করেনি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমতালিকার বিচারে ওয়াইল্ড কার্ড পাওয়ার দাবিদার ছিল নাগাল। ওয়াইল্ড কার্ডে সুযোগ না পেয়ে যোগ্যতা অর্জন পর্ব খেলতে হয় নাগালকে। কিন্তু দেশীয় টেনিস সংস্থার বঞ্চনার জবাবটা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনর প্রথম ম্যাচে দিলেন সুমিত।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের প্রথম রাউন্ডে আলেকজান্ডার বুবলিককে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে জায়গা করে নিলেন সুমিত নাগাল। দ্বিতীয় বার কোনও গ্র্যান্ড স্লাম ইভেন্টে প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরোলেন ভারতীয় টেনিস তারকা। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সিঙ্গলসে দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিলেন ভারতের সোমদেব দেব বর্মণ। এরপর থেকে পুরুষ বিভাগে কোনও ভারতীয়ই প্রথম রাউন্ডের বাধা টপকাতে পারেননি।
মঙ্গলবার প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে কাজাখস্তানের অ্যালেক্সান্ডার বুবলিককে স্ট্রেট সেটে হারিয়ে দেন নাগাল। বিশ্ব টেনিসের ক্রমতালিকায় বুবলিকের স্থান ২৭ নম্বর। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি ৩১ নম্বর বাছাই। বিশ্ব ক্রমতালিকায় ভারতীয় টেনিস তারকার স্থান ১৩৭ নম্বর। নাগাল জিতলেন ৬-৪, ৬-২, ৭-৬ ফলাফলে। শেষ সেট গড়ায় টাইব্রেকারে, সেখানে নাগাল জেতেন ৭-৫ ব্যবধানে। সেইসঙ্গে ইতিহাসের পাতায়ও জায়গা করে নিলেন।
১৯৮৯ সালের পর প্রথম কোনও ভারতীয় টেনিস খেলোয়াড় গ্র্যান্ড স্ল্যাম টুর্নামেন্টে বাছাই খেলোয়াড়কে হারালেন। নাগালের আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন রমেশ কৃষ্ণণ। হারিয়েছিলেন সেই সময়কার ক্রমতালিকায় এক নম্বর ম্যাটস উইল্যান্ডারকে।
শুধু দেশীয় টেনিস সংস্থার বঞ্চনাই নয় একইসঙ্গে আর্থিক প্রতিকূলতাও ছিল। গত সেপ্টেম্বরে সুমিত বলেছিলেন, এটিপি টুরে খেলার জন্য নাম নথিভুক্ত করতেই প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টাকার মতো খরচ হয়। ২০২৪ সালে আর সেই অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা নেই তাঁর। কারণ ব্যাঙ্কে মাত্র ৯০০ ইউরো পড়ে রয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় তাঁর গচ্ছিত অর্থের পরিমাণ ছিল মাত্র আশি হাজার টাকা।
তাঁর ছিল না কোনও স্পনশরশিপ। কেবলমাত্র পুরস্কারমূল্য ও বেতনের উপর নির্ভর করেই কোনওমতে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এই টেনিস তারকা। কিন্তু সব প্রতিকূলতাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাসের কাণ্ডারী হলেন সুমিত।












Click it and Unblock the Notifications