তৃণমূলে সংঘাত তীব্র, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দ্বন্দ্ব তৃণমূলের বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতির
মানুষকে মেরে নেতা বা বিধায়ক হওয়া যায় না। মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, তাঁদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করে নেতা হতে হয়।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে তৃণমূলে শুরু হল অন্তর্বর্তী সংঘাত। তৃণমূলের বিধায়ক বনাম ব্লক সভাপতির অন্তর্কলহ ফের সামনে চলে এল মুর্শিদাবাদে। বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একহাত নিলেন ব্লক সভাপতিকে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তিনজন তৃণমূলকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, সেই হিংসার মধ্যে দলে তীব্র অন্তর্কলহ দেখা দিল।

ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বিতর্কিত মন্তব্যে জানালেন, আমাদের একজন নেতা হয়েছেন, তিনি নিজেকে অনেক মাতব্বর ভাবেন। বুধবার মুর্শিদাবাদের সালারে সভা মঞ্চ থেকেই তিনি গর্জে ওঠেন। সালারের মঞ্চ থেকে বোমা উদ্ধার নিয়ে ব্লক সভাপতিকে নাম না করেই আক্রমণ করলেন হুমায়ুন কবির ।
তিনি বলেন, "অনেক বোমা নষ্ট করতে হয়েছে প্রশাসনকে। আমাদের কেন বোমা রাখতে হবে। এই বোমা কি খাড়েরা গ্রামে রাখতে গিয়েছিল। সালু অঞ্চলের কোনো লোক রেখেছিল কাউকে মারার জন্য। আমাদেরকে বোমা বাঁধতে কেন হবে। আমি এর বিরোধী। আমি মানুষকে মেরে নেতা বা বিধায়ক হতে চাই না। মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে, তাঁদের জন্য উন্নয়নমূলক কাজ করে আমি তাদের নেতা হতে চাই।
ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবির আরও বলেন, আমরা যখন আসল খেলা খেলব তখন মাঠে নেমে আমরা খেলা দেখাব। পঞ্চায়েত রেজাল্টে সার্টিফিকেট দেখিয়ে প্রমান দেব। আমি কারও সহ্গে বিভেদের লড়াই করতে চাই না। সালারের একটি বুথভিত্তিক কর্মিসভা আয়োজন করা হয়। ভরতপুর দুই ব্লক যুব তৃণমূলের উদ্যোগে এই কর্মিসভার আয়োজন করা হয়।
সেই কর্মিসভায় হুমায়ুন কবীর নাম না করেই ব্লক তৃণমূলের সভাপতিকে একহাত নেন। তিনি নিজে কী করলেন, সেই অঞ্চলের লোকদের কেন ডাকলেন না। আসলে সেই অঞ্চলের বেশি নেতাই নেই। ঢাক ঢোল পিটিয়ে একটি জায়গায় বৈঠক করছেন। আইসিডিএস সেন্টারে বসে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা যা জিজ্ঞাসা করবে তাই বলবে।
ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে তোপ দেগে হুমায়ুন কবীর বলেন, এই রাজনীতি বেশিদিন চলবে না। ছলচাতুরি করলে আমিও আর আগামীদিনে ভোটে দাঁড়াতে পারব না। রাজনীতিতে সততার মুল্যায়ন দরকার। তাই প্রয়োজনে সরে দাঁড়াতে পারেন তিনি, সেই সম্ভাবনাও উসকে দিয়েছেন।
হুমায়ুন কবীর এও বলেন, আজকে যারা নিজেদেরকে খুব বেশি মোড়ল ভাবছেন, তারা কতদিন এই জায়গায় থাকে তা দেখব। আমরা নিজেদের মতো ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। যদি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়, যদি তারা সমঝোতা করে আমাদের সঙ্গে চলে, তাহলে আমাদের মানতে কোনো অসুবিধা নেই। তাদের সঙ্গে এক টেবিলে চা খেতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।












Click it and Unblock the Notifications