কেন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শপথ নেওয়া হয়? কবে থেকে শুরু পরম্পরা? কী বলা হয়?
কেন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শপথ নেওয়া হয়? কবে থেকে শুরু? মানেই বা কী?
করোনা ভাইরাসের চ্যালেঞ্জ না থাকলে অন্যান্য বারের মতো টোকিওতেও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে থাকতো জমকালো আয়োজন, লক্ষ ফ্ল্যাশের ঝলকানি। অতিমারীর আবহে এবার অনুষ্ঠান হচ্ছে ঠিকই, তবে আড়ালে। ফাঁকা স্টেডিয়ামেই ফ্ল্যাগ-মার্চ করবেন অ্যাথলিটরা। নেবেন পরম্পরা নির্ভর ঐতিহাসিক শপথ। কেন এই ব্যবস্থা, এর অর্থই বা কী, তা জেনে নেওয়া যাক।

কবে থেকে শুরু
১৯২০ সালে বেলজিয়ামের আন্টভের্প শহরে বসেছিল অলিম্পিকের আসর। সেবার এক বেলজিয়াম ফেন্সার নিজের উদ্যোগে প্রথমবার গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শপথ নিয়েছিলেন। সেই থেকে ওই শপথগ্রহণ পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। আয়োজক দেশের এক অ্যাথলিট গেমসের সব প্রতিযোগীদের হয়ে শপথবাক্য পাঠ করে থাকেন। ইতিহাস কথা বলে চলেছে আজও।

ওই শপথে কী বলা হয়
অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাঠ করা শপথ বাক্যে সব বৈষম্য, বিভেদ, বিচ্ছিন্নতা এবং প্রতিহিংসা দূরে সরিয়ে ফেরায় প্লে-র কথা উল্লেখ করা হয়। দুর্ব্যবহার দূরে সরিয়ে একে অপরের প্রতি সম্মান, শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা প্রদর্শন করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ক্রীড়ার মাধ্যমে বিশ্বকে উন্নততর স্থানে পরিণত করার লক্ষ্যের মধ্যেই অলিম্পিকের ভাবনা লুকিয়ে রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

সার্বজনীন শপথ
১৯৬৮ সালের অলিম্পিক পর্যন্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেবল শপথ নিতেন অ্যাথলিটরা। ১৯৭২ সালে সেই অন্য চিত্র দেখা গিয়েছিল। সেবার আয়োজক দেশের অ্যাথলিটের সঙ্গে শপথবাক্য পাঠ করেছিলেন গেমস ইভেন্টের এক বিচারক। এরপর থেকে ২০০৮ সালের অলিম্পিক পর্যন্ত এই পরম্পরা বজায় থাকে। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ফের ব্যতিক্রম হয়েছিল। সেবারের গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাথলিট এবং বিচারকের পাশাপাশি একজন কোচও শপথ বাক্য পাঠ করেছিলেন।

২০১৮ সালের পর থেকে নতুন রীতি
২০১৮ সালে পিয়ংচাংয়ে হওয়া শীতকালীন অলিম্পিকে অ্যাথলিট, বিচারক এবং কোচের শপথবাক্য পাঠ করা রীতিতে পরিণত হয়। 'In the name of the athletes', 'In the name of the all judges' এবং 'In the name of all the coaches and officials'-এর হয়ে শপথবাক্য পাঠ করবেন তিন জন। টোকিও অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা যাবে এই রীতি।












Click it and Unblock the Notifications