Dipa Karmakar: "উত্তর পূর্বের প্রতিনিধি বলেই ছাত্রীর প্রতি এই বঞ্চনা", বিস্ফোরক দীপার কোচ
ট্রায়ালে শীর্ষে থেকেও এশিয়াডের জিমন্যাস্টিক দল থেকে বাদ পড়েছেন দীপা কর্মকার। চোট আঘাতের সমস্যা, ডোপিং বিতর্ককে পিছনে ফেলে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করেছিলেন আগরতলার বঙ্গ তনয়া। কিন্তু ফেডারেশনের নিয়মের জাঁতাকলে এশিয়ান গেমসের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দীপা। যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দীপার কোচ তথা দ্রোণাচার্য বিজয়ী বিশ্বেশ্বর নন্দী।
ভারতের এই তারকা জিমন্যাস্ট দীর্ঘ ২১ মাস নির্বাসন ছেড়ে সদ্য ফিরেছেন। রিও অলিম্পিক্সে প্রথম ভারতীয় জিমন্যাস্ট হিসাবে অংশ নেওয়া দীপা দুই দিনের যোগ্যতাঅর্জন পর্বের শেষে মোট ৪৭.০৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তালিকায় শীর্ষে থেকেই এশিয়ান গেমসে নামার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন।কিন্তু হঠাত করেই জানানো হয় এশিয়াডে অংশ গ্রহণের জন্য যে যোগ্যতামান রয়েছে তা পূরণ করতে পারেননি দীপা।

এশিয়াডে অংশগ্রহণের জন্য ক্রমতালিকা এবং শেষ এক বছরের পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত নির্বাসিত থাকায় শেষ এক বছর কোনও আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিতে পারেননি দীপা। এরফলে ট্রায়ালে শীর্ষে থেকেও এশিয়াডের দল থেকে বাদ পড়েছেন। ছাত্রীর প্রতি এই বঞ্চনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী।
ওয়ান ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্বেশ্বর নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'উত্তর পূর্বের ছোট্ট রাজ্যের মেয়ে বলেই দীপার প্রতি এই বঞ্চনা করা হচ্ছে। ও বড় কোনও রাজ্যের প্রতিনিধি হলে এই ঘটনা ঘটত না।কে এই যোগ্যতামান বানিয়েছে, নিজেদের ইচ্ছে মতো নিয়ম বানাচ্ছে। ভারতবর্ষের জিমন্যাস্টিককে ধংস্ব করার চিন্তাভাবনা নিয়ে এই নিয়ম বানানো হয়েছে।'

একইসঙ্গে তিনি বলেন, 'আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিককে বলা হয় মাদার অফ স্পোর্টস। যারা এই নোংরামি করছে তারা ভারতবর্ষের খেলাধুলার গলা টিপা মারছে। আমি নিজেও বহু আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশ নিয়েছি এবং কোচিং করিয়েছি। কিন্তু আমার জীবনে কখনও দেখিনি বর্তমান নয় অতীত পারফরম্যান্স দেখে দল গঠন করতে। তাও এই টেকনিক্যাল গেমে।'
একটা সময় দেশের এক নম্বর জিমন্যাস্ট হঠাত করেই ডোপিং বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। শরীরের নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে তাঁকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। এই নির্বাসন কাটিয়ে উঠে ফের নিজের স্বমহিমায় ফিরে এসেছেন দীপা। এশিয়াডে পদক জয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ট্রায়ালে শীর্ষে থেকেও এশিয়ান গেমসে সুযোগ পেলেন না দীপা।
দ্রোণাচার্য পুরস্কার জয়ী কোচ বলছেন, 'তাহলে ট্রায়াল নেওয়ার অর্থ কী? মেয়েটা ট্রায়ালে এক নম্বরে থাকল। তারপরও সুযোগ দেওয়া হবে না। ও যদি পাঁচ নম্বরে থাকল আমাদের কিছু বলার ছিল না। কিন্তু এক নম্বরে থাকার পরও কেন দলে জায়গা হবে?'

রিও অলিম্পিকে একটুর জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল, কিন্তু দীপার প্রদুনোভো ভল্ট সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।কিন্তু তারপর থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় ভুগতে থাকেন দীপা। কখনও চোট-আঘাতের সমস্যা। আবার নিষিদ্ধ ড্রাগ নেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিনের নির্বাসিত থাকা। সেই নির্বাসন শেষ হবার পর প্রত্যাবর্তনও করেছিলেন আগরতলার বাঙালি মেয়ে দীপা। কিন্তু বিধি বাম।
তবে লড়াই ছাড়তে নারাজ দীপা ইতিমধ্যেই ক্রীড়ামন্ত্রকে চিঠি দিয়েছেন। এমনকি ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্রীড়ামন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এশিয়াডে পদকের লড়াইয়ে নামার আগে দীপাকে লড়তে হচ্ছে মাঠের বাইরের নিয়মের সঙ্গে।












Click it and Unblock the Notifications