একটু বেশি আশঙ্কায় ভুগছেন! নিয়োগ দুর্নীতিতে মামলায় অভিষেককে যুক্ত করা নিয়ে বড় নির্দেশ বিচারপতি অমৃতা সিনহার
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তদন্তে সহযোগিতা করতে সমস্যা কোথায়? যে কোনও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারে তদন্তকারী সংস্থা। এতে অসুবিধা কোথায়? তদন্তে সহযোগিতা করলে আপনার সমস্যা কোথায়? শুনানিতে প্রশ্ন বিচারপতি অমৃতা সিনহার।
তিনি বলেন, সিঙ্গল বেঞ্চে তাঁর (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করে কিছু বলেছে দেখছেন না। বিচারপতি বলেন, তদন্তের সময় একাধিক ব্যক্তির নাম আসতেই পারে। এতে একজনের নাম এলে তিনি কেন সহযোগিতা করবেন না? একটু বেশি আশঙ্কায় ভুগছেন বলেও মন্তব্য করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।

শুনানিতে অংশ নিয়ে আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত দাশগুপ্ত বলেন, ইতিমধ্যেই তার রক্ষাকবচ তুলে নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পর সিঙ্গল বেঞ্চের রায় বহাল রাখা হোক। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই মামলায় মক্কেলকে পার্টি করেনি। শুধু বক্তব্য রাখা হয়েছে। এতে কেন জিজ্ঞাসাবাদ হবে?
সিঙ্গল মেঞ্চের বিচারপতি অমৃতা সিনহা বলেন, তিনি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) নিজে আসেননি কেন? পার্টি হওয়ার অপেক্ষা কেন করছিলেন। তাঁর কি কিছু আশঙ্কা আছে? তদন্তে সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন করেন তিনি।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি প্রশ্ন করেন, তদন্ত কেন দুদিন বন্ধ থাকবে? এই মামলার পরবর্তী শুনানি ১২ মে শুক্রবার। সেদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য শোনা হবে।
রাজ্যের পক্ষে এজি সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, শুধু পুরসভার মামলায় সিবিআই নির্দেশের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয়েছে। অভিষেকের মামলায় রাজ্যের কোনও আবেদন নেই। এটি ব্যক্তিগত মামলা বলেও জানিয়েছেন এজি সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ।

উল্লেখ করা প্রয়োজন, চলতি মাসের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির এজলাস থেকে প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত দুটি মামলা গিয়েছে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। সৌমেন নন্দী-রমেশ মাহাতোর মামলা গিয়েছে বিচারপতি সিনহার এজলাসে।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জেলে থাকা প্রাক্তন যুব তৃণমূল নেতার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আসার পরেই বিচারপতি গাঙ্গুলি প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরা করার কথা বলার পরেই টানাপোড়েন শুরু হয়। মামলা যায় সুপ্রিম কোর্টে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট দুটি মামলা থেকে বিচারপতি গাঙ্গুলিকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
প্রসঙ্গ ক্রমে বলে রাখা ভাল গত ১৩ মে শুনানিতে বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি মন্তব্য করেছিলেন খুব দ্রুত ইডি-সিবিআই-এর উচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুন্তল ঘোষকে জেরা করা। এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি একটি সংবাদ মাাধ্যমে দেওয়া বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলির সাক্ষাৎকারের অনুবাদ জমা দেন। তার ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ নির্দেশ দেয়।












Click it and Unblock the Notifications