শুধু হিন্দু নয়, আর্মেনিয়-পর্তুগীজদের পুজোও নিয়েছেন এই কালী
শুধু হিন্দু নয়, আর্মেনিয়-পর্তুগীজদের পুজোও নিয়েছেন এই কালী
প্রধানত শাক্ত ধর্মাবলম্বীরা কালীর পূজা করেন। তন্ত্রশাস্ত্রের মতে, তিনি দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত ৷ তন্ত্রমতে পূজিত প্রধান দশ জন দেবীর মধ্যে প্রথম দেবী। বাঙালি হিন্দু সমাজে দেবী কালীর মাতৃরূপের পূজা বিশেষ জনপ্রিয়। পুরাণ ও তন্ত্র গ্রন্থগুলিতে কালীর বিভিন্ন রূপের পরিচয় পাই আমরা৷ মা সিদ্ধেশ্বরী তাঁরই একটা রূপ৷

কালীবাবুর বাজারের কাছে অবস্থিত এই সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির হাওড়ার একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির৷ কারোর কারোর অরণিকা মতে এটি ৫০০ বছরের পুরানো আবার কারোর মতে ৬০০ বছরের৷আনুমানিক ৩০০ বছর আগে মৃত্যুঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় এই পূজার দায়িত্বভার অর্পণ করেছিলেন ভূকৈলাশ এর মহারাজাকে। বর্তমানে ব্যানার্জ্জী ও বটব্যালদেরা এই পুজোর সেবাইত৷ মৃত্যুঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় এর উত্তারাধিকারীর মতে তখনকার দিনে আর্মেনিয়ান এবং পর্তুগীজ বনিকরা মা এর পুজো দিতে আসতেন৷ মা এর মূর্তি তখন মাটির তৈরি ছিল৷অরণিকা বর্তমান মা এর মূর্তিটি কষ্টিপাথরের তৈরি, বারাণসীর একজন শিল্পী মূর্তিটি খোদাই করেছিলেন৷ মন্দিরটিও অনেক পরে তৈরি হয়েছিল৷
প্রতিদিন পুজো হলেও মঙ্গল ও শনিবার ভিড় সবথেকে বেশী হয় তারফলে নেতাজি সুভাষ রোডে জ্যামের সৃষ্টি হয়৷ এছাড়া অমাবস্যা তিথিতে এবং পয়লা বৈশাখ, অক্ষয়তৃতীয়া ও কালীপুজোতে খুব ভিড় হয়৷ কালীপুজোতে পশুবলি দেওয়ার চল এখনও আছে৷ পয়লা বৈশাখ ও অক্ষয়তৃতীয়ায় ব্যবসায়ীরা নতুন খাতা পুজো করাতে আসেন৷
সেবাইত রা নিয়মিত ভাবে,দক্ষিনেশ্বরের আদ্যাপীঠ এর আশ্রম(দাতব্য)ও অন্যান্য আশ্রমে দান করতেন। অরণিকা সরকার থেকে এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষন করা হয়না এটি সম্পূর্ণ পারিবারিক একটি মন্দির৷পুরাণ ও তন্ত্র সাহিত্যে কালীর বিভিন্ন রূপের বর্ণনা পাওয়া যায়। এগুলি হল-দক্ষিণাকালী(শ্যামা),মহাকালী,শ্মশানকালী গুহ্যকালী, ভদ্রকালী, সিদ্ধকালী, আদ্যাকালী, চামুন্ডাকালী।
আবার বিভিন্ন মন্দিরে "ব্রহ্মময়ী", "ভবতারিণী", "আনন্দময়ী", "করুণাময়ী" ইত্যাদি নামে কালীপ্রতিমা পূজা করা হয়। এই সব রূপের মধ্যে দক্ষিণাকালীর বিগ্রহই সর্বাধিক পরিচিত ও পূজিত। দক্ষিণাকালী চতুর্ভূজা। তার চার হাতে খড়্গ, অসুরের ছিন্ন মুণ্ড, বর ও অভয়মুদ্রা রয়েছে। তার গলায় রয়েছে নরমুণ্ডের মালা। দেবীর গায়ের রং কালো। মাথায় আলুলায়িত চুল এবং তিনি শিবের বুকে ডান পা আগে রেখে দণ্ডায়মান।
ব্রহ্মযামল নামক তন্ত্রগ্রন্থের মতে, কালী বঙ্গদেশের অধিষ্ঠাত্রী দেবী। কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপূজা বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয়। এছাড়া মাঘ মাসের চতুর্দশী তিথিতে রটন্তী কালীপূজা ও জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালীপূজাও বিশেষ জনপ্রিয়। এছাড়াও ভাদ্র ও পৌষ মাসের অমাবস্যায় কালী পুজো বিশেষ জনপ্রিয়।












Click it and Unblock the Notifications