সিবিআই থেকে মমতার ধরনা, এই ১৭টি পয়েন্টে একনজরে দেখে নিন ঘটনার টাইম লাইন
'ভারত রক্ষায়' এবার সংবিধান বাঁচানোর দাবি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত এখন বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক রণাঙ্গণে।
'ভারত রক্ষায়' এবার সংবিধান বাঁচানোর দাবি নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধরনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে সিবিআই তদন্ত এখন বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক রণাঙ্গণে। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একের পর এক বিবৃতি দিতে শুরু করেছেন বিজেপি এবং বিজেপি-র সঙ্গে থাকা নেতা-নেত্রীরা।
অন্যদিকে বিজেপি-র বিরুদ্ধে থাকা মহাজোটের নেতারাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সিবিআই যেভাবে ভোটের আগে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে গর্জে উঠেছেন রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে অখিলেশ যাদব, তেজস্বি যাদব, মায়াবতী, চন্দ্রবাবু নাইডুরা। একনজরে দেখে নেওয়া যাক রবিবার সন্ধ্যা থেকে সিবিআই নিয়ে তুলকালাম পরিস্থিতির কিছু ছবি।

রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে সিবিআই
চিটফান্ডের কেলেঙ্কারির তদন্তে রাজীব কুমারকে ২ বছর ধরে জেরা করতে চাইছে সিবিআই। কিন্তু, তিনি হাজির হচ্ছেন না বলে বারবার অভিযোগ করছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় লাউডাউন স্ট্রিটে রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে হাজির হয় সিবিআই অফিসার-দের নিয়ে তৈরি ২৩ জনের একটি দল।

সিবিআই অফিসার-দের চ্যালেঞ্জ পুলিশের
কী ভাবে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে তল্লাশি করতে আসেন সিবিআই অফিসাররা? কলকাতা পুলিশের এই প্রশ্নের জবাবে সিবিআই দলের প্রধান তথাগত বর্ধন দাবি করেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে। কিন্তু, কলকাতা পুলিশের অফিসাররা আদালতের নির্দেশ দেখতে চান। কলকাতা পুলিশের অফিসারদের দাবি, সিবিআই অফিসাররা তেমন কোনও নির্দেশ দেখাতে পারেননি।

সিবিআই অফিসারদের তুলে নিয়ে থানায়
সিবিআই বনাম কলকাতা পুলিশের মধ্যে বিতণ্ডা একটা সময়ে চূড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছয়। অভিযোগ, কলকাতা পুলিশের কয়েক শ'কর্মী ও অফিসার এক প্রকার সিবিআই-এর দলটিকে ঘিরে ফেল। সিবিআই অফিসারদের দাবি, একপ্রকার মারধর করেই তাদের পুরো দলটিকে পুলিশ গাড়িতে তোলে। সিবিআই-এর দলটিকে শেক্সপিয়ার সরণি থানায় নিয়ে গিয়ে জেরা করতে শুরু করে পুলিশ।

রাজীব কুমারের বাড়িতে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়
রাত পৌনে আটটা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে রাজীব কুমারের বাড়িতে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক চলে।

কলকাতা পুলিশের সাংবাদিক সম্মেলন
কলকাতা পুলিশের অতিরিক্তি পুলিশ কমিশনার জাভেদ শামিম এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানেই তিনি দাবি করেন যে সিবিআই অফিসারদের কাছে কোনও সঠিক নথি ছিল না, যার ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনারের বাড়ি তল্লাশি করা যায়। এমনকী, কলকাতা পুলিশের কমিশনার গ্রেফতার হতে পারেন বলে যে ভাবে খবর ছড়ানো হয়েছে তাতে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন শামিম।

সিবিআই দফতর ঘিরে ফেলে পুলিশ
নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতর ও সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই-এর দফতর ঘেরাও করে বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাস্তায় বড় বড় গার্ড-রেল দিয়ে এই দুই দফতরে ঢোকার রাস্তা ব্যারিকেড করে পুলিশ।

মমতার নির্দেশ, সিবিআই অফিসারদের মুক্তি
শেক্সপিয়ার সরণি থানায় সিবিআই অফিসারদের আটকে রাখা হয়েছিল। পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শেষমেশ শেক্সপিয়ার সরণি থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয় সিবিআই অফিসারদের।

পুলিশ সরতেই নামে আধা সেনা
ইতিমধ্যে সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তব কেন্দ্রকে ফ্য়াক্স করে জানান তিনি তাঁর জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এরপরই সিআরপিএফ বাহিনী পৌঁছে যায় নিজাম প্যালেস ও সিজিও কমপ্লেক্সে। আধা সেনা-ই এরপর নিজাম প্যালেস ও সিজিও কমপ্লেক্সের দখল নিয়ে নেয়।

রাজীব কুমারের বাড়িতে মমতার সাংবাদিক সম্মেলন
রাজীব কুমারের বাড়িতে বৈঠক শেষ হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ করেন দেশের গণতন্ত্র বিপন্ন। সাংবিধানিক পদকেও আক্রমণ করতে কসুর করছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। দেশ জুড়ে যে সুপার এমারজেন্সি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করছেন। রাজীব কুমারের বাড়ি থেকেই তিনি মেট্রো চ্যানেলে গিয়ে অনির্দিষ্টকালে ধরনায় বসছেন বলে ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টরের হুঁশিয়ারি
সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর পঙ্কজ শ্রীবাস্তব জানান, তাঁদের কাছে রাজীব কুমারের বাড়়ি তল্লাশি-র প্রয়োজনী কাগজপত্র ছিল। ২ বছর ধরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজীব কুমারকে তলব করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। কিন্তু, কলকাতা পুলিশের কমিশনার দেখাই দেননি। চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তকারী সিট-এর প্রধান ছিলেন রাজীব কুমার। সুতরাং তাঁকে জেরা করাটা জরুরি বলেও দাবি করেন পঙ্কজ শ্রীবাস্তব। রাজীব কুমারের বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি-তে কোনও বাধা এলে তাঁরা চরম ব্যবস্থা যাতে নিতে পারেন তার নির্দেশও সঙ্গে ছিল বলে জানান পঙ্কজ। কিন্তু কলকাতা পুলিশ একপ্রকার জোর করে তাঁদের রাজীব কুমারের বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়।

সিবিআই-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টরের হুঁশিয়ারি
সিবিআই-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিরেক্টর নাগেশ্বর রাও দিল্লি থেকে প্রতিক্রিয়া দেন এবং গোটা ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা পুলিশের দিকে আঙুল তোলেন। সিবিআই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়
রাত ৯টা থেকে মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ, কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমার, মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস এবং সাংসদরা। এখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এই সাংবাদিক সম্মেলনেই নরেন্দ্র মোদী সরকারকে তিনি 'পাগল' বলে সম্বোধন করেন।

মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ফোন বিরোধী নেতাদের
গোটা ঘটনা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন বিরোধী নেতারা। যাদের মধ্যে ছিলেন রাহুল গান্ধী, ওমর আব্দুল্লা, তেজস্বি যাদব, অখিলেশ যাদব, মায়াবতী, চন্দ্রবাবু নাইডু, অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা। এঁরা সকলেই সিবিআই-এর অতি সক্রিয়তা নিয়ে সরব হন।

সারারাত মেট্রো চ্যানেলে
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় জানিয়ে দেন সারারাত তিনি মেট্রো চ্যানেলেই থাকছেন এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য তাঁর এই সত্যাগ্রহ চলবে। এই ধরনাস্থল থেকেই রাজ্য বাজেট অধিবেশনে তিনি অংশ নেবেন বলে জানিয়ে দেন।

রাজ্য বিজেপি-র প্রতিক্রিয়া
রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই অফিসারদের উপরে যে ভাবে কলকাতা পুলিশ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে বিজেপি। এই ঘটনা নজিরবিহীন বলেও দাবি করেন তাঁরা। চিটপান্ডের যাবতীয় কেলেঙ্কারির পর্দা ফাঁস হওয়ার ভয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাজীব কুমারকে বাঁচাতে চাইছেন বলেও দাবি করেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বামেদের কটাক্ষ
চিটফান্ড কেলেঙ্কারি সামনে আসার সময় সিবিআই কেন তৎপরতা দেখাল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সীতারাম ইয়েচুরি। এতদিন চিটফান্ডের তদন্ত ঝুলিয়ে রেখে এখন ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নরেন্দ্র মোদীরা নাটক শুরু করেছেন বলেও কটাক্ষ করে বামেরা।

সিবিআই দফতরে রাতভোর বৈঠক
সন্ধে ৭টা থেকে সিবিআই-এর নিজার প্যালেস দফতরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল। ভোর ৫টা নাগাদ সেই বৈঠক শেষ হয়। এই বৈঠকে পরবর্তী প্ল্যান অফ অ্যাকশন কী হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে এক বিশ্বস্ত সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications