RG Kar Case: তরুণী চিকিৎসককে কেন খুন? আরজি কর কাণ্ডে এখনও প্রশ্নের পাহাড়, অধরা উত্তর
RG Kar Case Verdict: আরজি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় (RG Kar rape and Murder case) শিয়ালদহ আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে (Sanjay Roy)। ঘটনার ১৬২ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করল আদালত। কিন্তু অপরাধী কি একা সঞ্জয় রায়? বাকিদের কী হবে? কেন খুন করা হয়েছিল তরুণী চিকিৎসককে? সেই প্রশ্নের উত্তর অধরাই রয়ে গেল।
গত ২০২৪ সালের ৯ অগাস্টের সেই অভিশপ্ত দিন। আরজি কর হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের সেমিনার হল থেকে উদ্ধার হয় তরুণী চিকিৎসকের দেহ। তাঁরে ধর্ষণ করে খুন করে হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। জানা যায়, ৮ অগাস্টের রাতেও ডিউটিতে ছিলেন তরুণী চিকিৎসক। রাতে সতীর্থদের সঙ্গে অনলাইনে খাবার অর্ডার করে নৈশভোজও সেরেছিলেন। কিন্তু তারপর কী এমন ঘটে গেল? সতীর্থরাই বা কোথায় গেলেন?

প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নেই। তড়িঘড়ি আরজি করের নির্যাতিতার দেহ সৎকারের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি টাকা দিয়ে পরিবারের মুখ বন্ধ করার প্রয়াস চলেছেও বলে অভিযোগ ওঠে। রাতারাতি তথ্য প্রমাণ লোপাট করার অভিযোগ ওঠে। ডিএনও থেকে সিএফএসএল রিপোর্ট, এতকিছু আসার পরে সঞ্জয়ই একমাত্র দোষী? খুনের পেছনে বৃহত্তর স্বার্থ লুকিয়ে ছিল না? সিবিআইয়ের চার্জশিটের ভিত্তিতে আদালত রায় জানালেও এমনই একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে জুনিয়র চিকিৎসক থেকে সাধারণ মানুষদের মনেও।
কী জেনে ফেলেছিলেন আরজি করের তরুণী চিকিৎসক? নির্যাতিতা মুখ খুললে কাদের বিপদ ছিল? তাই কি আগেভাগে পথের কাঁটা সরিয়ে দেওয়া হল? সোমবার সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সাজা তো ঘোষণা হবে, কিন্তু বাকি উপরের প্রশ্নের জবাব মিলবে কবে? সিবিআই সূত্র এর আগে দাবি করেছিল, হাসপাতালে ডিউটি চলাকালীন নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছিল ওই তরুণী চিকিৎসককে। তা নিয়ে আদালতগ্রাহ্য প্রমাণ সংগ্রহ হয়েছে? মেলেনি উত্তর।
সিবিআই সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছিল, হেনস্থার বিষয়ে উপরমহলকে লিখিতভাবে জানাবেন। কিন্তু বিষয়টি নাকি হাসপাতালেরই কয়েক জনকে 'সামলে নেওয়ার' নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কারা এই উপরমহল? কাদের কে নির্দেশ দিয়েছিল? উত্তর অধরা। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই ৩৫টি প্রশ্ন তুলে ৫৭ পাতার একটি ফাইল শিয়ালদহ আদালতে বিচারককে জমা দিয়েছিলেন নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা মা।
সূত্রের খবর, ওই ফাইলে তরুণীর পরিবারের তরফে মূলত ক্রাইম সিনের প্রমাণ লোপাট নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার প্রাক্তন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নিহত চিকিৎসকের পরিবার। প্রমাণ লোপাটে সন্দীপ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। পাশাপাশি সিবিআই কেন সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারেনি তাও বলা হয়।
রাতে অভয়া ও সহকর্মীরা অনলাইনে অর্ডার করা খাবার খেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছিল। খাবার কোন অ্যাকাউন্ট থেকে অর্ডার করা হয়েছিল, ফুড ডেলিভারি অ্যাপের কাউকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে কি না, বা ফুড কন্টেনার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না, সিবিআই কেন প্রমাণ জোগাড়ের চেষ্টা করেনি, সেসব প্রশ্ন তুলেছিল নিহত তরুণী চিকিৎসকের পরিবার। কিন্তু সেসব প্রশ্নের উত্তর মিলল কই?
সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণায় এদিন অবশ্য নির্যাতিতার বাবা বলেন, বিচারক তাদের আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন। বাকি সওয়াল জবাব শেষে সাজা ঘোষণা সোমবার। তবে মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেল তা এখনই বলা যাবে না। সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে রায়দান ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এই পর্ব মিটিয়েই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপদের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট দিতে পারে সিবিআই।












Click it and Unblock the Notifications