‘দু’শো বার এলেও পরিবর্তন আসবে না’, শাহকে বাংলার আশা ছাড়তে বললেন পার্থ
কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঁছাছোলা ভাষায় বিঁধেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তাঁর আক্রমণের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাঁছাছোলা ভাষায় বিঁধেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। তাঁর আক্রমণের কড়া জবাব দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'আগে বকেয়া টাকা দিন, তারপর হিসেব চাইবেন।'
এর পাশাপাশিই অমিত শাহকে তীব্র কটাক্ষ করে পার্থবাবু বলেন, 'অমিত শাহের কথা একেবারেই মূল্যহীন। তার কারণ উনি অর্থমন্ত্রী নন, উনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে ওঁর কথা আমরা ধর্তব্যের মধ্যে আনছি না। তথ্য না জেনেই অমিত শাহ আক্রমণ করছেন মমতার সরকারকে।'

উল্লেখ্য এদিন অমিত শাহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে হিসেব চান, কেন্দ্রের অনুদানের টাকা কোথায় গেল? ওই টাকা সিন্ডিকেট খাতে খরচ হয়ে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই পার্থবাবু বলেন, বার দুয়েক রাজ্যে এসেই ভাবছেন ক্ষমতা পেয়ে যাবেন! তার জন্য মানুষের পাশে থেকে আন্দোলন করতে হয়। যা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপিকে এদিন বার্তা দেন, 'দু'বার কেন রাজ্যে দু'শো বার এলেও রাজ্যে পরিবর্তন আসবে না।'
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সাফ জবাব, 'কেন্দ্রের কাছে রাজ্য বকেয়া পড়ে রয়েছে বহু টাকা। মাত্র অর্ধেক অনুদান দিয়েছে কেন্দ্র। তাহলে হিসেবের প্রশ্ন উঠছে কেন? আগে কেন্দ্র সমস্ত বকেয়া মেটাক, তবেই তো হিসেব!' সেইসঙ্গে পার্থবাবু বলেন, 'বিহার ও অসমের বন্যায় সাহায্য করা হলষ অথচ বাংলা রয়ে গেল ব্রাত্যের তালিকায়। কেন? সেই জবাব কি দেবেন অমিত শাহ!'
বাংলা পিছিয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অমিত শাহ। তার জবাবে পার্থবাবু জানিয়েছেন, কোন কোন ক্ষেত্রে বাংলা এগিয়ে রয়েছে, কোন ক্ষেত্রে বাংলরা স্থান কত নম্বরে। তারপরে তিনি জুড়েছেন, বাংলা যদি পিছিয়েও পড়ে কোনও ক্ষেত্রে, তা হয়েছে কেন্দ্রে অসহযেগিতার জন্য। কেন্দ্র আজও চূড়ান্তভাবে বঞ্চনা করে চলেছে বাংলার সঙ্গে।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, 'দুর্নীতির পাহাড় জমে রয়েছে বিজেপির অন্দরে। তারপর নোংরা রাজনীতির করে চলেছে পরতে পরতে। শিশুদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। বিজয়া দশমীর সময় শিশুরা ত্রিশূল পাবে। ভয় দেখানের রাজনীতি হচ্ছে। বঞ্চনার রাজনীতি করছে।'
মানুষের
পাশে থেকে একটাও কর্মসূচি নিতে দেখা যায়নি বিজেপিকে। এমনকী রাজ্যে এতবড় বন্যায় কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে গিয়েও মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দেয়নি। এদিন বিজেপির নৈতিকতা নিয়েও প্রশ্ন ছুড়ে দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আদিবাসী পরিবারে মধ্যাহ্নভোজের পর পাঁচতারা হোটেলে গিয়ে অমিত শাহ ভুরিভোজ করেন বলেও কটাক্ষ করেন তৃণমূল মহাসচিব।












Click it and Unblock the Notifications