রাজ্যে অ্যাডিনো দাপট, শহরে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
কলকাতা সহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় বাড়ছে অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ
তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি পার করে গিয়েছে। কিন্তু তারপরেও অ্যাডিনো ভাইরাসের দাপট কমছে না রাজ্যে। অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিয়েছে কলকাতা শহরে। মঙ্গলবার শহরের হাসপাতালে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অ্যাডিনো ভাইরাসে আক্রান্ত শিশুদের আইসিইউতে রাখতে হচ্ছে। এমনই কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্যে। এর আগে এই ভাইরাস থাকলেও এর দাপট এতটা মারাত্মক কখনও হয়নি।

আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
রাজ্যে বাড়ছে অ্যাডিনো ভাইরাসের দাপট। ইতিমধ্যেই একের পর এক হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে। আবারও শহরে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত তিন দিনে ১০ জনের মৃত্যু হল। তাদের অধিকাংশের শরীরেই বাসা বেঁধেছিল অ্যাডিনো ভাইরাস। আবার নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়েও শিশুর মৃত্যু হচ্ছ। অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে নিউমোনিয়া। ২ বছর পর্যন্ত শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এবং তাঁদের সংকট বেশি দেখা দিচ্ছে।

ভয়াবহ অ্যাডিনোর দাপট
মরশুমের বদলের সময় প্রতিবছরই সর্দি-কাশি-জ্বর হয়ে থাকে শিশুদের। এবারও প্রথমে সেরকমই শুরু হয়েছিল। সাধারণ সর্দি-কাশি। কিন্তু সেটা এবার ভয়বহ আকার নেয়। শয়ে শয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করে। যারাই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তাদের বেশিরভাগ শিশুকেই আইসিইউতে রাখতে হয়েছে। পরিস্থিতি একতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে সব সরকারি হাসপাতালের শিশুবিভাগ ভর্তি হয়ে গিয়েছিল। শয্য পাওয়া যাচ্ছিল না। বেসরকারি হাসপাতালেও বাড়ছিল শিশুদের ভর্তির প্রবণতা। তার পরেই বাড়তে থাকে শিশুদের মৃত্যুর হার।

অ্যাডিনোর উপসর্গ
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন সাধারণ মরশুমি সর্দি কাশির সংক্রমণ বলে অবহেলা করবেন না। সেটা অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে। টানা চার-পাঁচ দিন বেশি মাত্রার জ্বর থাকলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করুন। আবার শিশুর চোখ হাত পা লাল হয়ে যাচ্ছিল অ্যাডিনো ভাইরাসের সংক্রমণ। তার সঙ্গে বাড়ছিল শ্বাসকষ্ট। আইসিউইকে ভর্তি অধিকাংশ শিশুকেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছিল। তার সঙ্গে জ্বর-সর্দি-কাশি সেরে গেলেও কাশি কিছুতেই যাচ্ছিল না। সেটা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে রয়ে গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকা
পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝতে পেরেই সতর্ক হয় রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর। তার পরেই স্কুলে স্কুলে নির্দেশিকা জারি করা হয়। অ্যাডিনো সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুদের মাস্ক পরিয়ে স্কুলে পাঠাতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে শিশুদের পাশাপাশি বড়দেরও সংক্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জ্বর নিয়ে যাতে শিশুদের স্কুলে পাঠানো না হয় তার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। সব সরকারি হাসপাতালে শিশু বিভাগে শস্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়।












Click it and Unblock the Notifications