কালো চাদর গায়ে জড়িয়ে রেড রোডে ধরনায় মমতা, হেমন্ত সোরেনের পাশে রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রতিবাদে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কলকাতার রেড রোডে ৪৮ ঘন্টা ব্যপী এই কর্মসূচি চলবে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত রয়েছেন। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার প্রতিবাদ স্বরূপ কালো রংকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
শাড়ি পরেছেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,শশী পাঁজা, জুন মালিয়া সহ অন্যান্য মহিলা নেত্রীরা। কালো পাঞ্জাবি পরেছেন অরূপ বিশ্বাস দেবাশিস ঘোষ, নির্মল কুমার সহ অন্যান্যরা। মুখ্যমন্ত্রী নিজে কালো চাদর গায়ে জড়িয়ে মঞ্চে বসেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দুদিন রেড রোড থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্ম করবেন। সেই জন্য রেড রোডে অস্থায়ী অফিসও তৈরি করা হয়েছে। সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজের জন্য আলাদা জায়গা রাখা হয়েছে মঞ্চের পিছনে। একাধিক ফাইল জমে রয়েছে। সে কারণেই আগামী দুদিন ধর্না মঞ্চ থেকেই সেই সব কাজ হবে। এ কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবার বেলা একটার কিছু সময় আগে মুখ্যমন্ত্রী এসে পৌঁছান রেড রোডে। বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তি পাদদেশে মালা দেন তিনি। এরপর ধরনা মঞ্চের দিকে এগিয়ে যান। কেন্দ্র রাজ্যের পাওনা টাকা দিচ্ছে না। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ দীর্ঘ সময় ধরে। আবাস যোজনার টাকাও বন্ধ করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক প্রকল্পের টাকা রাজ্যে আর পাঠানো হচ্ছে না।
এর আগে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে আওয়াজ তুলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করেছেন তিনি। তারপরও কোনও কাজ হয়নি। এবার এই ধর্না কর্মসূচিতে সামিল হল বাংলার শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রী নিজে ৪৮ ঘন্টা এই ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। তবে রাজ্যের তরফে একটি সুসংবাদও রয়েছে। জল জীবন মিশনে কেন্দ্র রাজ্যের জন্য টাকা বরাদ্দ করেছিল। প্রায় এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হল বাংলায়।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তার প্রতিবাদ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। টুইটারে শুক্রবার তিনি কড়া বার্তা দিয়েছেন। হেমন্ত তাঁর কাছের বন্ধু। এই কঠিন সময়ে তিনি হেমন্তের পাশে রয়েছেন। বিজেপি প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করছে।
হেমন্ত সোরেনকে শক্তিশালী আদিবাসী নেতা হিসেবে ব্যক্ত করেছেন মমতা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে বিজেপি একটি নির্বাচিত সরকারকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র করছে। এমনই অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই যুদ্ধে হেমন্ত সোরেন জয়ী হবেন। এমনই আশা তাঁর।
কৃষ্ণনগরের সভায় গতকাল তিনি নিজেও গ্রেফতারির আশঙ্কা করেছিলেন। তবে তাঁকে জেলে আটকে রাখা যাবে না। তিনি জেল ফুটো করে বাইরে চলে আসবেন। এমনই বক্তব্য রেখেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷












Click it and Unblock the Notifications