দত্তক নেওয়ার নামে জালিয়াতির ব্যবসা , ধরল পুলিশ
কবরডাঙ্গা মোড়ের কাছে রাউন্ডে ছিলেন হরিদেবপুর থানার সাব-ইনস্পেকটর প্রীতম বিশ্বাস। ঘুরতে ঘুরতে নজরে পড়ে একটি বিজ্ঞাপনী পোস্টার, যেটির বক্তব্যের সারমর্ম, 'সন্তান দত্তক নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা আমাদের আশ্রমে যোগাযোগ করুন'। সঙ্গে দেওয়া রয়েছে দুটি ফোন নম্বর, একটি ল্যান্ডলাইন ও একটি মোবাইল।

বিজ্ঞাপনের ভাষা এবং চেহারাছবি দেখেই সন্দেহ জাগে প্রীতমের মনে। বিজ্ঞাপনে উল্লিখিত জনৈক রঞ্জিত দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেই সন্দেহ দৃঢ়তর হয়। রঞ্জিত জানান, তিনি, তাঁর স্ত্রী মাধবী রায়, আত্মীয়া সুপ্রিয়া নাইয়া, ও অন্যান্যরা মিলে চালান এই 'আশ্রম', পোশাকি নাম শ্রী রামকৃষ্ণ নতুন জীবনদান সেবাশ্রম। সন্তানহীন দম্পতিদের 'সহজে দত্তক নেওয়ার সুবিধে' দেওয়া হয় এই আশ্রমে, প্রতিটি শিশুর 'মূল্য' চার লক্ষ টাকা।
হরিদেবপুর থানার ওসি ইনস্পেকটর সুব্রত দে-কে গোটা ঘটনা অবিলম্বে জানিয়ে দেন প্রীতম, এবং রঞ্জিতের ঠিকানায় তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, আশ্রম ও তার কার্যকলাপ সংক্রান্ত কোনও বৈধ নথিপত্র নেই তাঁর কাছে। যা কাগজপত্র আছে, তা থেকে স্পষ্টই বোঝা যায় যে সন্তান দত্তক নেওয়ার নামে চলছে জালিয়াতির ব্যবসা, সন্তানহীন দম্পতিদের আশা-আকাঙ্ক্ষার সুযোগ নিয়ে তাঁদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে টাকা, যা শাস্তিযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়ে।
সেই ভিত্তিতেই তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় রঞ্জিতকে, বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশ কিছু বিজ্ঞাপনী পোস্টার ও নথিপত্র। কবরডাঙ্গা মোড়ে প্রদর্শিত পোস্টার-টিও তুলে নিয়ে আসা হয়।
হরিদেবপুর থানায় ইনস্পেকটর দে-র নির্দেশে রঞ্জিত (৪৬), মাধবী রায় (৩৫), সুপ্রিয়া নাইয়া, ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে দায়ের হয় এফআইআর, অভিযোগকারী সাব-ইনস্পেকটর প্রীতম বিশ্বাস স্বয়ং। তদন্তকারী অফিসার সাব-ইনস্পেকটর দেবাশীষ সাধুখাঁর তত্ত্বাবধানে চলছে তদন্ত। রঞ্জিত বাদে এফআইআর-এ উল্লিখিত বাকি সকলেই আপাতত ফেরার, তবে বেশিদিনের জন্য নয়।

কলকাতা পুলিশ ফোর্স হলো পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের দুটি পুলিশ ফোর্সের মধ্যে একটি (অন্যটি হল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, যা একটি পৃথক অধিক্ষেত্র)। কলকাতা পুলিশের কাজ হল কলকাতা মহানগর এলাকায় পুলিশি কাজ, ভারতের মধ্যে যেটা ১৮৬৬ সালের 'কলকাতা পুলিশ' আইন' এবং ১৮৬৬ সালের 'কলকাতা উপ-পৌর পুলিশি আইন'-এর অধীনে।
বর্তমান কলকাতা পুলিশ প্রশাসনের ইতিহাসের উৎপত্তি হয় কলকাতার ঔপনিবেশিক সময় থেকে, যখন এই কলকাতা ক্যালকাটা' নামে পরিচিত ছিল, যখন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কলকাতায় তাদের পক্ষোদ্ভেদ নিষ্পত্তি করেছিল। কলকাতা একজন ইংরেজ মানুষ আবিষ্কার করেছিলেন যার নাম হল জব চার্নক, যার হাতেই ছিল এই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দ্বায়ভার। ১৬৯০ সালে হুগলী নদীর তীরে তিনি খুঁজে পান সুতানুটি বলে একটি গ্রাম। সেই গ্রামেই ১৬৯৬ সাল থেকে সামরিক নিষ্পত্তির একটি নিউক্লিয়াস গঠিত হয় জব চার্নকের মৃত্যুর ঠিক ৩ বছর পরে। সুতানুটির সাথে ছিল আরোও দুটো গ্রাম যার একটির নাম ছিল গোবিন্দপুর এবং আরেকটির নাম ছিল কলিকাতা এটাই ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান ক্ষেত্র।
১৭৭৮ সালে একটি সংবিধি পাশ হয় কলকাতা পুলিশের শক্তি উত্থাপিত হয় ৭০০ টা পাইক, ৩১ টা থানাদার এবং ৩৪ টা নায়েব একজন অধীক্ষকের অধীনে। ১৭৮০ সালে সংরক্ষণের কমিশনার নিযুক্ত করা হয়েছিল যারা ঘড়ি বা ওয়ার্ড দেখাশোনা করত। পুলিশি প্রশাসন তখনও খুব নড়বড়ে ছিল।
১৭৯৪ সালে শান্তি বিচারপতি কলকাতা এবং তার শহরতলির পৌর প্রশাসনের জন্য নিযুক্ত করা হয়েছিল, একজন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট অধীনে যে সরাসরি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ছিল। ১৮০৬ সালে শান্তি বিচারপতি ২৪ পরগণার ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে চলে আসে যা শহরের ২০ মাইল মধ্যে অবস্থিত।












Click it and Unblock the Notifications