উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগে ফের জটিলতা, অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কমিশনকে ৩ মাস সময় হাইকোর্টের
উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগে ফের জটিলতা, অভিযোগের নিষ্পত্তিতে কমিশনকে ৩ মাস সময় হাইকোর্টের
উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ফলে আলো দেখিয়েও ফের নিভে গেল আশার প্রদীপ। উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে ফের জটিলতা তৈরি হল আদালতের এই রায়ের ফলে। হাইকোর্ট জানিয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একাধির অভিযোগ পেয়েই তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি ছিল হাইকোর্টে। হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি চলছিল। সেই শুনানিতে স্কুল সার্ভিস কমিশন তথা এসএসি কর্তৃপক্ষ জানায় এত বিপুল সংক্যক অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আরও সময় প্রয়োজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁরা সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে পারেননি। তাই কমিশনের তরফে আরও সময় চেয়ে আবেদন জানানো হয় হাইকোর্ট।
কমিশনের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট জানায় সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য আরও তিনমাস সময় দেওয়া হবে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে। এই সময়ের মধ্যে তাঁরা কোনও নিয়োগ করতে পারবে না। শিক্ষা দফতরের অধিকর্তাকে প্রত্যেকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। কোনও অভিযোগ নিয়ে যেন নতুন করে সমস্যা না তৈরি হয়। তার সুষ্ঠু সমাধানের বার্তা দেয় হাইকোর্ট।
২০১৬ সালে উচ্চ প্রাথমিকে ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ তোলে একটা শ্রেণি। আদালতের দ্বারস্থ হন একাধিক আবেদনকারী। জুলাই মাসে কলকাতা হাইকোর্টে নির্দেশ দেয়, সচিব পদমর্যাদার আধিকারিককে দিয়ে তিন মাসের মধ্যে সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটাতে হবে।
সেই মামলাতেই বুধবার কমিশন হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানায় তারা সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটাতে পারেনি এখনও। এত অভিযোগ জমা পড়েছে যে তার নিষ্পত্তি ঘটানোর পর্যাপ্ত সময় পাননি তাঁরা। বুধবার কমিশন জানায়, এতদিন পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬ হাজার অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটাতে পেরেছেন তাঁরা।
কমিশন হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানায়, বাকি বাকি অভিযোগের নিষ্পত্তি ঘটাতে আরও তিন মাস সময় দেওয়া হোক। এরপর হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ স্কুল সার্ভিস কমিশনের আবেদন মেনে অতিরিক্ত তিন মাস সময় মঞ্জুর করে। এর পাশাপাশি সচিব পদমর্যাদার আধিকারিকের অভাব থাকায় গ্রুপ এ পর্যায়ের আধিকারিকদের দিয়ে অভিযোগ খতিয়ে দেখা ও নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ১৫ সপ্তাহ পরে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।












Click it and Unblock the Notifications