Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

অভিনব, দেবীর চক্ষুদানের আগেই শহরে হল ১০০ চক্ষুদান

অভিনব, দেবীর চক্ষুদানের আগেই শহরে হল ১০০ চক্ষুদান

দুর্গাপুজোর শুরুতে চক্ষুদান হয় । মায়ের চোখ আঁকা হয়। কিন্তু এই যে চক্ষু দান তা মানব জীবনেও খুব প্রয়োজন রয়েছে। যারা দৃষ্টিহীন তাদের সুস্থ চোখ নতুনভাবে আল দেখাতে পারে। কিন্তু করোনার কারণে চক্ষু দান কমেছে। তাই পুজোর ইতিহাসে এমন চক্ষুদান সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা দিয়েছে। ঠিক সেটাই করল পল্লীর যুবক বৃন্দের দুর্গাপুজো কমিটির প্রায় ১০০ জন সদস্য। তারা সবাই খুঁটি পুজোর দিনে চক্ষু দান করলেন। সঙ্গে থাকলেন মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ।

অভিনব, দেবীর চক্ষুদানের আগেই শহরে হল ১০০ চক্ষুদান

কবি তো সেই কবেই বলে গিয়েছেন , অন্ধজনে দেহো আলো, মৃতজনে দেহো প্রাণ, তুমি করুণামৃতসিন্ধু করো করুণাকণা দান। তিনি অবশ্য অন্য অর্থে বলেছেন। অন্ধ জনে দেহ আলো বলতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে মূর্খকে জ্ঞান দান কর। অধিকাংশ মানুষের এই চরণটি বুঝতে অসুবিধা হয় কারণ,এখানে দাও কে দেহ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। প্রাচীন কালে ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'হ' যোগ করার নিয়ম ছিল। আবার এটাও বলা যায় যে, এই চরণটি আরেক দিক থেকে অর্থ প্রকাশ করছে, মরণোত্তর চক্ষু দানের কথা ও বলা যায়। তার মানে অর্থ দাঁড়ায় যে অন্ধকে চক্ষু দানের মাধ্যমে সে মারা গেলেও এই সুজলা-সুফলা পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে এবং তার দেহ আলোকিত হবে ।তাই বলা হয়েছে অন্ধ জনে দেহ আলো। ঠিক সেটাই করলেন পল্লীর যুবক বৃন্দের দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা।

ক্লাব কর্তা জানিয়েছেন , মায়ের চক্ষুদান শাস্ত্র রীতিনিতি মেনে যেমন হবার তেমন তো হবেই। এর বাইরে সামাজিক ভাবে ভাবতে গেলে দেখা যাচ্ছে যে করোনার সময় চক্ষুদান কমে গিয়েছে। আমাদের ছোট্ট ক্লাব। তবে এবার আমাদের ৭৫ বছরে পড়ল আমাদের পুজো। এখন ঘটনা হল এই দুপলক্ষে আমাদের সমাজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করা উচিৎ বলে আমরা মনে করেছি। কিন্তু একটু অন্যভাবে করতে চাইছিলাম। সেখান থেকেই খুঁটিপুজোতে চক্ষুদানের ভাবনা শুরু।

দেবীর চক্ষুদান কী ? এটি দুর্গাপুজোয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আচার হল চক্ষুদান। মহাসপ্তমীর সকালে শুদ্ধাচারে ডান হাতে কুশের অগ্রভাগ নিয়ে দেবীকে কাজল পরানো হয়। প্রথমে ত্রিনয়ন বা ঊর্ধ্বনয়ন, তারপর বাম চক্ষু এবং শেষে ডান চক্ষু অঙ্কন করা হয়। প্রতিটি চোখ অঙ্কনের সময় রীতি মেনে মন্ত্র বলতে হয়। ত্রিনয়ন-বাম-ডান প্রতিটি চোখ অঙ্কনের জন্যই আলাদা আলাদা মন্ত্র রয়েছে। এই চক্ষুদান পর্বের পর প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। পর্দায় ঢাকা ঘেরাটোপে পূজারি এবং তন্ত্রধারকের উপস্থিতিতে লেলিহান মুদ্রায় মোট ১০৮ বার বীজমন্ত্র জপ করা হয়। উপাচারে লাগে রক্তচন্দন, বিল্বপত্র, আতপচাল এবং ফুল। দেবীর হৃদয়ে হাত রেখে মন্ত্র বলতে থাকেন পূজারি। অন্যদিকে সমস্ত উপাচার সঠিক ভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে নজর রাখেন তন্ত্রধারক। এই রীতির ফলেই মাটির প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়। মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী রূপে প্রতিষ্ঠিত হন দেবী। প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয় লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী, কার্তিক এবং তাঁদের বাহনদেরও। এমনকী বাদ যায় না অসুরও। প্রত্যেকের জন্যই রয়েছে আলাদা আলাদা মন্ত্র এবং উপাচার।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+