মমতা ও তৃণমূল থেকে কি দূরে সরছেন মদন, পার্থকে নিশানায় জল্পনা তুঙ্গে
মমতা ও তৃণমূল থেকে কি দূরে সরছেন মদন, পার্থকে নিশানায় জল্পনা তুঙ্গে
শ্রীরামপুরের তৃণমূল (Trinamool Congress) সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) তোলা প্রশ্ন এখনও মিলিয়ে যায়নি তৃণমূলে, সেই সময়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের (Madan Mitra) মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে। এদিন তিনি যা বলেছেন, তাতে রাজনৈতিক বিশ্লেশকরা বলছেন, এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) থেকে অনেকটাই দূরে মদন মিত্র। যা নিয়ে তিনি এদিন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) নিশানা করেছেন।

মদন মিত্রের ক্ষোভ
মদন মিত্র এদিন সংবাদ মাধ্যমের সামনে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার কারণে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের কার্যালয়ের সামনে যাওয়া যায় না। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এতটাই ব্যস্ত যে তাঁর (অভিষেক) কাছে তাঁর (মদন) মতো সাধারণ কর্মীরা পৌঁছতে পারেন না। এব্যাপারে তিনি তপশিয়ার দলীয় কার্যলয়ের নতুন করে তৈরি করার কথাও উল্লেখ করেছেন।

কোথায় বলব, কাকে বলব
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রের প্রশ্ন এইসময় কিছু জানানোর থাকলে কাকে, জানাবেন, কীভাবেই বা তা জানানো যাবে? তবে সঙ্গে তিনি বলেছেন, দলের বিরুদ্ধে তিনি কিছুই বলছেন না। শনিবারও কার্যত তিনি একই মন্তব্য করেছিলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায়। তিনি বলেছিলেন যাঁর যা ক্ষোভ তা দলের মধ্যে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মধ্যে কোথায় কাকে বলতে হবে, তাঁকে কোথায় পাওয়া যাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। কেননা তৃণমূল ভবনে সুব্রত বক্সি ছাড়া কাউকেই পাওয়া যায় নি।

সরাসরি পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা
এদিন আরও একধাপ এগিয়ে মদন মিত্র দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে নিশানা করে বলেছেন, তিনি (পার্থ) যদি বলেন, ওঁর বাড়ির নিচে যে কনস্টেবল থাকেন, তাঁর কাছে কিছু দিয়ে আসতে, তাহলে তিনি তাই করবেন।

এবার কি মদনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
আগামী দুমাস রাজ্যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশে রাশ টানার কথা বলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, এটা তাঁর ব্যক্তিগত মত। তবে এই মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। যার জবাব দেন কুণাল ঘোষ। পাল্টা জবাব দেন কল্যাণ। যা নিয়ে শনিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন কারও কোনও মন্তব্য থাকলে, দলের অভ্যন্তরে করতে হবে। না হলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরপরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর কোনও মন্তব্য সামনে আসেনি। কুণাল ঘোষকেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে কিছু বলতে শোনা যায়নি। তবে দলের মধ্যে কোথায় কাকে ক্ষোভের কথা জানানো যাবে, তা নিয়ে শনিবারের পরে রবিবারও প্রশ্ন তুললেন মদন মিত্র। শুধু তাই নয় এবার দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করলেন। তাহলে কি এবার মদন মিত্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দল, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications