SSC-র তালিকায় কারসাজি কীভাবে ধরলেন ববিতা? অঙ্কিতার বরখাস্তের পরে ফাঁকা পদে অগ্রাধিকারের নির্দেশের পরেও প্রশ্ন
এসএসসির (ssc) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (partha chatterjee) রক্ষাকবচের প্রার্থনা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Coirt) ডিভিশন বেঞ্চ। অন্যদিকে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে সিবি
এসএসসির (ssc) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (partha chatterjee) রক্ষাকবচের প্রার্থনা খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Coirt) ডিভিশন বেঞ্চ। অন্যদিকে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে সিবিআই (cbi)-এর অফিসে ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা চলছে। কীভাবে মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর (ankita adhikari) নিয়োগ হল, কোন প্রভাবশালী এর পিছনে রয়েছে, তা জানার চেষ্টায় সিবিআই আধিকারিকরা। কিন্তু এই বিষয়টি যিনি সামনে আনেন সেই ববিতা সরকার (Babita Sarkar) চেষ্টা না করলে পুরো বিষয়টি ধামা-চাপা পড়ে যেত। তালিকা দেখে সন্দেহ হওয়ার পরেই তিনি এগিয়েছেন ধাপে ধাপে। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় এসে লড়াইয়ে সামিল হয়েছেন।

তালিকায় ৭২-এর জায়গায় কীভাবে ৭৩ হল?
ববিতা সরকার সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তিনি কোনও মন্ত্রীর কন্যার বিরুদ্ধে লড়াই করেননি। এই লড়াইটা যদি কোনও একজন সাধারণ পরিবারের মেয়ে হতেন তাহলেও তিনি লড়াইটা লড়তেন। ববিতা বলেছেন, অঙ্কিতা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিংবা দেননি, তা প্রথমে তিনি জানতেন না। তাঁর প্রথম সন্দেহ হয় তালিকা দেখে। যেখানে প্রথমে ৭২ জনের নাম থাকলেও হঠাৎই তা বেড়ে ৭৩ হয়ে যায়। তাঁর প্রথম প্রশ্ন ছিলে কীভাবে তালিকায় একজনের নাম ঢুকে গেল?

মেধাতালিকা বদলের তিনদিন পর থেকে লড়াই শুরু
ববিতা বলেছেন, ২০১৮-তে যখন তালিকা প্রকাশ হয়, তখন থেকেই সন্দেহ হয়েছিল কোথাও কিছু একটা হচ্ছে। তবে কারসাজিটা ঠিক কোথায় নম্বর বিভাজন না থাকায় তা ধরতে পারেননি তিনি। কিন্তু একজনের নাম কীভাবে যুক্ত হল সেই প্রশ্ন বারে বারে ঘুরপাক খেয়েছে। তিনি বলেছেন, যেদিন মেধা তালিকায় বদল হয়, তার তিনদিন পর থেকে লড়াই শুরু করেন। সেই সময় তাঁর দ্বিতীয় সন্তানের বয়স মাত্র ১০ মাস। তিনি বলেছেন, কমিশনে গিয়েছেন, আরটিআই করেছেন, স্থানীয় নেতাদের কাছে গিয়েছেন, কোথাও তিনি সদুত্তর পাননি। কীভাবে এগনো যেতে পারে, সেই পরামর্শও ওইসব লোকেদের থেকে পাননি। পঞ্চম কাউন্সেলিং-এ ডাক পাওয়ার কথা থাকলও কেন তচা পেলেন না, তার উত্তরও তিনি পাননি।

২০২১-এর ডিসেম্বরে মামলা
২০২১-এর ডিসেম্বরে বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন ববিতা সরকার। এরপর মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সব প্রকাশ হয়ে পড়ল। তবে তিনি আদালতের রায়ে খুশি বলেই জানিয়েছেন ববিতা। তিনি প্রশ্ন করেছেন, শিক্ষিকা হিসেবে উনি (অঙ্কিতা) কি কাউকে ন্যায়বোধের শিক্ষা দিতে পারবেন? তিনি আরও বলেছেন, যিনি একটা ইন্টারভিউয়ে না বসে চাকরি পেয়ে যাচ্ছেন, তিনি কীভাবে অন্যদের মূল্যবোধের শিক্ষা দেবেন?

আদালতের নির্দেশ কি মানবে কমিশন?
এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়েকে স্কুলের চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন এবং ৭ জুলাইয়ের মধ্যে দুই কিস্তিতে এতদিন বেতন হিসেবে পাওয়া সব টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিচারপতি বলেছেন, ওই ফাঁকা পদে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ববিতা সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যা নিয়ে ববিতা প্রশ্ন করেছেন, আদালত বলে দিয়েছে, কিন্তু কমিশন কি এব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে?
ববিতা বলেছেন, তিনি সব প্রক্রিয়া মেনে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছিলেন। ওই চাকরি তো তাঁর (ববিতা) পাওয়ার কথা। সেই কারণে কমিশনের প্রতি তাঁর আবেদন ওই চাকরি যেন তাঁকেই দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।












Click it and Unblock the Notifications