গড়িয়ায় বন্ধ ফ্ল্যাটে বাবা, মা, ছেলের ঝুলন্ত মৃতদেহ, এলাকায় পচা গন্ধ
একই পরিবারের তিনজনের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল। গড়িয়া স্টেশন এলাকার আবাসনে বুধবার এই মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ওই তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করল। খুন না কি আত্মহত্যা? তাই নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই ওই পরিবারের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। স্থানীয়রা এ কথাই জানাচ্ছেন।
নতুন বছরের সবে তৃতীয় দিন। তার মাঝখানেই গড়িয়া স্টেশন এলাকার আবাসনে রীতিমতো মর্মান্তিক ঘটনা। একই পরিবারের তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার হল ফ্ল্যাট থেকে। স্বপন মৈত্র, অপর্ণা মৈত্র ও তাদের একমাত্র সন্তান সুমনরাজের দেহ উদ্ধার হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে এলাকায় পচা, কটু গন্ধ বার হচ্ছিল। তারপরেই এই ঘটনা সামনে আসে।

স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে ওই আবাসনের একটি ফ্ল্যাটেই থাকতেন স্বপন মৈত্র। স্বপনবাবুকে খুব একটা বেশি মেলামেশা করতে দেখা যেত না। এমনই কথা প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। তবে পরিবারের মধ্যে কোনও গণ্ডগোল ছিল না। তেমন কথাও শোনা গিয়েছে। গত শনিবার থেকে তাদের আর বাইরে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা এই বিষয় নিয়ে প্রথমে খুব একটা গা করেননি। গত কয়েকদিন ধরে ফ্ল্যাটের দরজা, জানলা সব বন্ধ ছিল। বুধবার সকাল থেকে এলাকায় একটি পচা গন্ধ বার হতে থাকে। তখনই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। ওই ফ্ল্যাটের ভিতর থেকেই গন্ধ আসছে। এ কথা আন্দাজ করা যায়। নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
ফ্লাটের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকা হয়। আরও বিকট গন্ধ বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। মর্মান্তিক ঘটনা দেখতে পাওয়া যায় ফ্ল্যাটের ভিতর। গলায় দড়ি বাঁধা অবস্থায় তিনজন ঝুলছেন। স্বামী- স্ত্রী ও সন্তানের মৃতদেহ ওই ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয়েছে। দেহে পচন ধরেছে বলে খবর। অর্থাৎ একদিন আগেই এই অঘটন ঘটেছে। এমনই মনে করা হচ্ছে।
মৃতদেহ তিনটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। এটি খুন না কী আত্মহত্যা? সেই প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে। ফ্ল্যাটের ভিতর তল্লাশি চালানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সূত্র খোঁজার চেষ্টা করছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয়রা ভিড় করেন ঘটনার খবর পেয়েই। এই ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এমনই জানাচ্ছেন প্রতিবেশীরা। কিন্তু কী কারণে এমন ঘটল? আর্থিক সমস্যায় ভুগছিল কি ওই পরিবার? সেই প্রশ্নও উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications