বরাহনগরের দত্ত বাড়ির পুজো ২০০ পেরিয়েও, সাবেকিয়ানার ছোঁওয়ায় আজও প্রাণবন্ত
১৭৭৪ সালে জানকীরাম দত্ত শুরু করেছিলেন 'শ্রী শ্রা শিব দুর্গা মাতার পুজো'। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম পেরিয়ে আজও সেই পুজোয় বনেদিয়ানা বজায় রেখেছেন
ইতিহাসের শহর কলকাতা। এর আনাচেকানাচে ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি হাতে হাত ধরে পথ চলে। তেমনিই বরাহনগরের দত্ত বাড়ি। এই নিয়ে ২৪২ বছরে পা দিল দত্ত পরিবারের দুর্গাপুজো। বর্তমানে অসিতবরণ দত্তের হাত ধরে একইরকম আচারের পবিত্রতা মেনেই চলছে পুজো।

প্রতিমার অভিনবত্ব
বরাহনগরের দত্ত বাড়িতে প্রতিমা হর-পার্বতী রূপে আসেন। মাতা দুর্গা কন্যারূপে পূজিতা হন। তাই তাঁর সপরিবার আগমন। তাই এই পুজোকে বলা হয় 'শ্রী শ্রা শিব দুর্গা মাতার পুজো'।

'সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে'
সপ্তগ্রামের আদি নিবাসী পরশুরাম দত্তের সুযোগ্য পৌত্র জানকীরাম দত্ত মহাশয় এই পুজো শুরু করেন। ১৭৭৪ সাল থেকে শুরু হওয়া সেই পুজো কৈলাসচন্দ্র দত্তের হাত ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলেছে সেই ট্র্যাডিশন চলছে। কৈলাসচন্দ্র দত্তের পুত্র গিরিশ চন্দ্র দত্তের ৫৫ নম্বর প্রামাণিক রোডের বাড়িতে আজও হয়ে চলেছে পুজো।

পূজিত হন গৃহদেবতাও
গৃহদেবতা মধুসূদনও পূজিত হন দুর্গাপুজোর সময়। অলংকার ভূষিত মধুসূদনের রূপও নয়নাভিরাম।

মায়ের আসনে অভিনবত্ব
পাশাপাশি মায়ের আসনে আলপনাতেও আছে অভিনবত্ব। অলংকার চিহ্ন দিয়ে সুসজ্জিত হয় মা দুর্গার আসন।

পুজোর বিশেষ আচার
পুজোর অষ্টমীতে একটি বিশেষ আচারণ হয়। যার নাম ধুনো পোড়ানো। পার্বতী -শিবকে সাধনা করার এক পদ্ধতি এই ধুনো পোড়ানো। বাড়ির মহিলারা দেবীর সামনে বসে নিজেদের উৎসর্গ করেন। মাথার ওপর সরা করে আগুন জ্বালানো হয়। সেই আগুনের তাপ যেন সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। যিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন তাঁদের পবিত্র মনে করা হয়। তাঁকে সবাই প্রণাম করেন। ছোট বড় নির্বিশেষে সকলে তাঁর কোলে বসেন।

প্রচলিত আচার পালন
এছাড়াও অষ্টমী ও নবমীর সংযোগে সন্ধি পুজো, এবং নবমীর দিন কুমারী পুজোও হয়।

বরণ ও সিঁদুর খেলা
দশমীর দিন এসে যায় আরও একবার বাপের বাড়ি থেকে উমার কৈলাসে ফেরত যাওয়ার সময় এসে যায়। দেবীর বরণ হয়ে যায় তারপর বাড়ির মেয়েরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। মনে থাকে একটাই প্রার্থনা। আবার একবছরের অপেক্ষা , কবে আসবেন ঘরের মেয়ে।












Click it and Unblock the Notifications