কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা! জেপি নাড্ডাকে চ্যালেঞ্জ অভিষেকের
দিল্লি হয়ে যাবেন ত্রিপুরায়। তবে তার আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেছেন। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
রাজ্যে এসে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। তারই জবাব দিতে গিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেছেন। বলেছেন রিপোর্ট কার্ডের কথা। অন্যদিকে বিএসএফ-এর গুলিতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের দিনহাটার বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।

কেন্দ্র ও রাজ্যের রিপোর্ট কার্ডের তুলনা করা হোক
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের রিপোর্ট কার্ডের তুলনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন কে কতটা কাজ করেছে, তা নিয়ে কথা হোক, তারপরে সমালোচনা করা হোক। অভিষেক বলেন, লড়াই করুন গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপি সব আসনে প্রার্থী দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কোথাও মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করা হলে, তিনি নিজে গিয়ে মনোনয়ন করিয়ে দেবেন, ফের একবার বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি
শনিবার মাথাভাঙায় মঞ্চে ডেকে নিয়েছিলেন বিএসএফগুলির মৃত প্রেমকুমার বর্মণের বাবা-মা-দাদাকে। সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার রাজ্য সফরের দিনে এই ঘটনায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিনহাটার বাড়ি ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেছেন ১৯ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাড়ির সামনে দিনভর অবস্থান করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্যে সিপিআইএম-এর শাসনের সময় কৃষক মেরে কৃষক প্রেম দেখানো হত। আর কেন্দ্রে বিজেপি শাসনের সময় রাজবংশীদের মেনে রাজবংশী প্রেম দেখানো হচ্ছে। রাজবংশীদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর দিনহাটার গীতালদহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ভারবাধা গ্রামে বিএসএফ-এর গুলিতে বছর ২৪-এর যুবক প্রেমকুমার বর্মণের মৃত্যু হয়।
তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা নতুন কিছু নয়, চা-শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যাকে সামনে রেখে তাঁর নির্দেশে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আএনটিটিইউসি টানা দশদিন উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদ এবং বিধায়কদের বাড়ির সামনে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল।

পাল্টা হুঁশিয়ারি নিশীথের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেছেন, নোংরা রাজনীতির আমদানি করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, অভিষেকের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার উদাহরণ। তৃণমূলেরকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, দম থাকলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ঘেরাও করে দেখাক তারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকের বাড়িতে তাঁদের পরিজনরা থাকেন। বিজেপি যদি তৃণমূল নেতাদের বাড়ি ঘেরাওয়ের ডাক দেয়, তাহলে তারা তা সামলাতে পারবে তো, প্রশ্ন করেছেন তিনি।

মাথাভাঙার সমাবেশে আবেগ উস্কে দিয়েছিলেন
সামনেই পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে রাজবংশী ভোট টানার প্রতিযোগিতা তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। তাঁরাই কোচবিহারের ভোটে নির্ণয়ক শক্তি। সেই পরিস্থিতিতে শনিবার মাথাভাঙায় প্রেমকুমার বর্মণের বাবা-মা ও দাদাকে মঞ্চে তুলে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের আবেগকে উস্কে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজের রুমাল দিয়ে প্রেমকুমার বর্মণের মায়ের চোখের জল মুছিয়ে দেন।












Click it and Unblock the Notifications