পিলারে চকের আঁকিবুকি, ব্যাগ-ভর্তি বই নিয়ে নিখোঁজ ১০ বছরের মেয়ে, পূর্বালোকে চাঞ্চল্য
রবিবার দুপুরের পর থেকেই আর দেখা মেলেনি ১০ বছরের মেয়েটির। রাতের বেলাতেও দিদামা কান্নার ভেজা কন্ঠে পাড়া তোলপাড় করে খুঁজেছেন আদরের নাতনি-কে। কিন্তু, খোঁজ মেলেনি।
পিলারে কালো চকের আঁকিবুকি। নিচে আবার নামও লেখা হয়েছে। চলতে-ফিরতে কোনও এক সময় আঁকা। কিন্তু যে এটা এঁকেছে তাঁর রহস্যময় অন্তর্ধান নিয়েই এখন শোরগোল পড়েছে। রবিবার দুপুরের পর থেকেই আর দেখা মেলেনি ১০ বছরের মেয়েটির। রাতের বেলাতেও দিদামা কান্নার ভেজা কন্ঠে পাড়া তোলপাড় করে খুঁজেছেন আদরের নাতনি-কে। কিন্তু, খোঁজ মেলেনি। রহস্যময় এই অন্তর্ধানের এই ঘটনায় এখন শোরগোল পড়েছে পূর্ব যাদবপুর থানার পূর্বালোক এলাকায়।

জানা গিয়েছে, পূর্বালোক একটি নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাটের কেয়ার-টেকার হিসাবে ৬ মাস আগে কাজ শুরু করেন এক বয়স্ক ব্যক্তি। নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাটের চত্বরেই একটি ঘরে নাতনি ও স্ত্রীকে সঙ্গে করে থাকেন ওই ব্যক্তি। রবিবার স্ত্রী কাজে গিয়েছিলেন। নাতনি-কে সঙ্গে করে বাসাতেই ছিলেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু, দুপুরের পর থেকে নাতনির আর দেখা পাননি তিনি। দাদুর দাবি, বিকেলে তিনি দেখেন ঘরে নাতনির স্কুল ব্যাগ ও বই-খাতা নেই। এমনকী, তার জামা-কাপড়ও উধাও। এরপরই খোঁজ শুরু হয়। দিদিমা সন্ধ্যায় কাজ থেকে ফিরে এসে নাতনির রহস্যময় অন্তর্ধানের কথা জানতে পারেন। এরপর রাতে পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। কিন্তু, পুলিশি তদন্তে মোটেও নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না দাদু-দিদা। অভিযোগ দায়েরের পর ১২ ঘণ্টা কেটে গেলেও পুলিশ সেভাবে জোরদার তদন্তই শুরু করেনি বলে অভিযোগ।

পূর্ব যাদবপুর থানা সূত্রে খবর ১০ বছরের এই বালিকা মুকুন্দপুর স্কুলে পড়ত। মেয়েটি-কে তাঁর বাবা-মা নিয়ে যেতে পারে বলেও সন্দেহ করছে পুলিশ। যদিও, নিখোঁজ বালিকার দাদু-দিদিমার দাবি, নাতনি-কি নিয়ে যাওয়ার জন্য মেয়েকে অনেকবার বলেছেন। কিন্তু, নাতনিকে নিয়ে যায়নি মেয়ে। নিখোঁজ মেয়েটির দাদু-দিদার অভিযোগ, কেরলে তাঁর মেয়ে ও জামাই এক নাতি-কে সঙ্গে করে থাকত। সম্প্রতি জামাইয়ের সঙ্গে বিবাদ হওয়ায় নাতি-কে নিয়ে মেয়ে কলকাতায় চলে আসে। কিন্তু, মেয়ে তাঁর কর্মস্থলের ঠিকানা সম্পর্কে কোনও তথ্যই তাঁদের দেননি বলে দাবি। জিঞ্জেস করাতে মেয়ে নাকি খালি জানিয়েছিল যে, সে বালিগঞ্জ এলাকায় কাজ করে।
শনিবার নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাটবাড়ি যেখানে তাঁর বাবা-মা থাকছে সেখানে মেয়ে এসেছিল। সারাদিন থেকে মেয়ে নাকি চলেও যায়। সেদিনও মেয়ে নাকি তাঁর কর্মস্থল সম্পর্কে কোনও তথ্যই বাবা-মা-কে দিয়ে যায়নি। এরপর রবিবার রহস্যময়ভাবে নাতনির নিখোঁজ হয়ে যাওয়া। সোমবার সকালে নাতনির নিখোঁজের খবর মেয়ে-কে জানান বাবা-মা। কিন্তু, এরপর থেকে যতবারই মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা তারা করেছেন প্রত্যেকবারই ফোন সুইচ অফ ছিল।
নিখোঁজ ১০ বছরের বালিকার দিদা ই এম বাইপাস সংলগ্ন হাইল্যান্ড পার্ক এলাকায় একটি বাড়িতে কাজ করেন। সেই বাড়ির কর্ত্রীও এই ঘটনা জানতে পেরে ছুটে আসেন। নিখোঁজ বালিকার কানে একটা সমস্যা ছিল। কম শুনতে পেত। এর চিকিৎসা করাচ্ছিলেন এই গৃহকর্ত্রী। সম্প্রতি তিনি নিখোঁজ মেয়েটিকে বহু গরম-জামাকাপড়ও উহার দেন। কিন্তু, সে সবেরও খোঁজ মিলছে না।

নির্মিয়মাণ ফ্ল্যাটে কাজ করা মিস্ত্রীদের সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল নিখোঁজ মেয়েটির। মিস্ত্রীদের অধিকাংশেরই দাবি, বুদ্ধিমত্তার জন্য তাদের সকলেরই কাছেই প্রিয় ওঠেছিল বছর দশেকের ওই বালিকা। রঙ মিস্ত্রীদের সাইকেলে চড়েও সে ঘুরে-বেড়াতে ভালবাসতো। এই অন্তর্ধানের ঘটনায় মিস্ত্রীদের কোনও যোগ আছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications