Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

হিরোশিমায় পরমাণু হামলার শেষ ঘাতকও প্রয়াত

ছবি
আটলান্টা, ৩১ জুলাই: হিরোশিমায় পরমাণু বোমা ফেলেছিল যে দলটি, তার শেষ ঘাতকও প্রয়াত হলেন। এর ফলে ইতিহাসের একটি জীবন্ত অধ্যায়ে দাঁড়ি পড়ল। গত সোমবার রাতে থিওডর ভ্যান কার্ক মারা গেলেও খবরটি জানাজানি হয় অনেক পরে। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্বে জার্মানিকে কাবু করে ফেলেছিল ইঙ্গ-মার্কিন ও রুশ ফৌজ। কিন্তু জাপানকে কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছিল না। একের পর এক ভূখণ্ড দখল করে দুর্বার গতিতে এগোচ্ছিল জাপানিরা। তাই জাপানকে আটকাতে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলার সিদ্ধান্ত নেন তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি হ্যারি এস ট্রুম্যান। দু'টি আলাদা শহরে বোমা মারার জন্য দু'টি আলাদা দল গঠন করা হয়। হিরোশিমা মিশনের জন্য গঠিত দলে ছিলেন থিওডর ভ্যান কার্ক। তাঁর সঙ্গে ছিল আরও ১১ জন। ওই ১১ জন এর আগে মারা গেলেও এতদিন ইতিহাসের সাক্ষী থিওডর ভ্যান কার্ক বেঁচেছিলেন। তিনি মারা যাওয়ায় যবনিকা পড়ে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সবচেয়ে রোমহর্ষক অধ্যায়ে।

হিরোশিমায় পরমাণু বোমা বিস্ফোরণে তৎক্ষণাৎ মারা গিয়েছিল ১,৪০,০০০ মানুষ

কেমন ছিল ১৯৪৫ সালের ৬ অগস্ট, যেদিন হিরোশিমায় পরমাণু বোমা পড়েছিল? ২০০৫ সালে একটি সাক্ষাৎকারে সেই কথা বলেছিলেন থিওডর ভ্যান কার্ক। তিনি বলেছিলেন, "তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। অন্ধকার চারদিকে। ন'হাজার পাউন্ডের সেই বোমাটা নিয়ে বি-২৯ বিমানে করে আমরা ঢুকে পড়েছিলাম জাপানে। বোমা ফেলার পরও দেখলাম কিছু হল না। সময় চলে যাচ্ছে। বুঝতে পারছিলাম না, ওটা ফাটল কি না। মনে হচ্ছিল, ব্যাপারটা ফালতু। ৪৩ সেকেন্ড কেটে গিয়েছিল। তার কিছু পরই হঠাৎ আলোর ঝলকানি। একটা পাকানো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। বুঝলাম, পরমাণু বোমাটা ফেটেছে। তার পরই আমরা ফিরে আসি।" প্রসঙ্গত, হিরোশিমায় পড়া বোমাটির নাম ছিল 'লিটল বয়' এবং এর বিস্ফোরণে তৎক্ষণাৎ মারা গিয়েছিল ১,৪০,০০০ মানুষ। পরবর্তী সময়ে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায় আরও অন্তত এক লক্ষ লোক। হিরোশিমার পর নাগাসাকিতে তিনদিন পর পড়ে আর একটি পরমাণু বোমা, 'ফ্যাট ম্যান'। এর পরই আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় জাপান।

আপনার মনে অনুশোচনা হয়নি, এতগুলি নিরীহ মানুষ মরে গেল? ২০০৫ সালের ওই ইন্টারভিউতে প্রশ্ন করা হয়েছিল থিওডর ভ্যান কার্ককে। তিনি বলেছিলেন, "আমি বিশ্বাস করি, পরমাণু বোমা ব্যবহার করায় দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ এড়ানো গিয়েছিল। তখন ওটা না করলে জাপান আত্মসমর্পণ করত না। যুদ্ধও থামত না। ফলে আরও কয়েক লক্ষ লোক মারা যেত। অতিরিক্ত প্রাণহানি ঠেকাতেই আমাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।"

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি আমেরিকায় বীরের মর্যাদা পেয়েছিলেন। থিওডর ভ্যান কার্কের ছেলে টম ভ্যান কার্ক বলেন, "বাবা যে এমন একটা কাজ করেছে, জানতামও না। পরে খবরের কাগজ পড়ে আর আত্মীয়দের কাছ থেকে শুনে বুঝেছি।" তিনি আরও জানান, "আগামী ৫ অগস্ট পেনসিলভানিয়ার নর্দাম্বারল্যান্ডে বাবার অন্ত্যেষ্টি সম্পন্ন হবে। মায়ের সমাধির পাশে বাবাকে রাখা হবে। ওটাই বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল।"

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+