সংঘাত এড়িয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করুক দুই দেশ, পরামর্শ চিনা রাষ্ট্রদূতের
সংঘাত এড়িয়ে ধারাবাহিক আলোচনা করুক দুই দেশ, পরামর্শ চিনা রাষ্ট্রদূতের
চিন–ভারত সংঘর্ষের পর লাদাখের মাটিতে পরিস্থিতি পর্যালোচনার কাজ এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষ থেকে বিরত রাখার কাজ যখন চলছে তখনই প্রতিবেশী দুই দেশকে একত্রিত হয়ে থাকার বার্তা শোনা গেল চিনা রাষ্ট্রদূতের মুখে। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, চিন–ভারতের অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক সম্পর্ককে তথাকথিত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অর্থ হল নিজের লাভ ছাড়া কেবল অন্যকে ক্ষতি করে এবং তা শেষ পর্যন্ত নিজেরও ক্ষতি।

শত্রু নয়, ভারত চিনের অংশীদার হোক
ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডং শুক্রবার চিনের দূতাবাস থেকে তার ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, দুই দেশের উচিত অর্ধেক রাস্তায় দেখা করে এই জটিল সমস্যাকে অতিক্রম করা এবং দুই দেশ একই বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এর মোড় ঘুরিয়ে দিক। তিনি আরও জানিয়েছেন, উভয় দেশ শত্রুর চেয়ে অংশীদার হওয়া দরকার। পারস্পরিক বিশ্বাস গঠনের আহ্বান এবং মূল স্বার্থগুলোর প্রতি নজর দিলেই ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন মাত্রা আসবে বলে মনে করেন চিনা রাষ্ট্রদূত। তিনি আরও জানান, ‘উভয়েরই অবশ্যই একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের নীতিটি মেনে চলতে হবে'।

চিন–ভারত যুদ্ধ কাম্য নয়
চিন যুদ্ধের মতো বা জোরদার দেশ নয় উল্লেখ করে সান ওয়েডং বলেন, ‘কেন আমরা একে-অপরের সঙ্গে লড়াই করছি? যখন এই লড়াই নিজেদের ক্ষতি করে ও বিরোধী পক্ষকে সুযোগ করে দেয়।' ১৫ জুন গালওয়ান উপত্যকায় হওয়া সংঘর্ষ এবং যার জেরে ২০ জন ভারতীয় সেনা এবং অগণিত চিনা সৈনিকের নিহত হওয়ার ঘটনা স্মরণ করে তিনি জানিয়েছেন যে এ রকম পরিস্থিতি চিন না ভারত কেউই দেখতে পছন্দ করে না। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘গালওয়ান উপত্যকায় সম্প্রতি যেটা ঘটেছে সেটা ঠিক কী ভুল তা খুব স্পষ্ট। চিন খুব দৃঢ়ভাবে তার সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ও প্রশান্তি নিশ্চিত করছে।' ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘সীমান্ত সমস্যার স্থায়ী যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শান্তি ও সুস্থিতি বজায় রাখা প্রয়োজন।' তার মতে, ‘এক্ষেত্রে সংঘাত এড়িয়ে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই চিন এবং ভারতকে এগোতে হবে।'

চিনা পণ্য বয়কট অন্যায্য
রাষ্ট্রদূত তাঁর বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন ভারতের পক্ষ থেকে চিনা পণ্য বয়কট করা অন্যায্য। তিনি বলেন, ‘চিন ভারতের বহু বছর ধরে ব্যবসায়িক অংশীদার এবং ভারত মোট বিনিয়োগের ৮ বলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। চিন-ভারত অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা ভারতে মোবাইল ফোন, গৃহ সরঞ্জাম, পরিকাঠামো এবং অটোমোবাইল তৈরির মতো শিল্পগুলিকে কেবল উৎসাহই দেয়নি, তবে বিশাল সংখ্যক স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।' তিনি বলেন, ‘চিন-ভারতের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের তথাকথিত বিচ্ছিন্নতা নিয়ে কেউ খেলা করছে এবং চেষ্টা করছে যাতে মেড চায়না চিরতরে ঘুচে যায়।'

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও চিন–ভারত সমস্যা পৃথক
চিনের রাষ্ট্রদূত তাঁর বার্তায় সীমান্ত সমস্যার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টিকে পৃথক করারও আহ্বান জানান। তিনি দাবি করে বলেন, ‘সীমান্তে বিরোধের ছায়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনের উপর পড়লে তার পরিণাম দু'দেশের পক্ষেই খারাপ হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়ন। সান বলেন, ‘মেড ইন চায়না পণ্যে শুল্ক বহির্ভূত প্রতিবদ্ধকতা এবং বিধিনিষেধ আরোপ অনায্য। এ ক্ষেত্রে চিনা উৎপাদক এবং ভারতীয় উপভোক্তা, দু'পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।'

ভারত পিছু হঠাতে শুরু করেছে চিনকে
লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় চিনা ফৌজের হামলায় ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর পরে চিনের টেলিকম ও বিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ভারত সরকার। নিষিদ্ধ করা হয়েছে টিকটক-সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ। এই প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত সান ওয়েডংয়ের মন্তব্যেকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ' বলে মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications