দোহা বৈঠকে তালিবানের সঙ্গে কথাবার্তা ভরসাজনক বললেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব
দোহা বৈঠকে তালিবানের সঙ্গে কথাবার্তা ভরসাজনক বললেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব
সম্প্রতি দোহায় ভারত সরকারের প্রতিনিধি তালিবানদের সঙ্গে একটি বৈঠকে বসেছিল৷ ক'দিন আগেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল আর তালিবানের প্রতিনিধি মহম্মদ স্ট্যানেকজাই৷ এই বৈঠকের চার দিন পর দেশের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, তালিবানের সঙ্গে বৈঠক এখকনও পর্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং 'যুক্তিসঙ্গত'। কিন্তু আফগানিস্তানে নতুন সরকার গঠন ও তার গতিপ্রকৃতির দিকে সতর্কভাবে নজর রাখছে ভারত।

কী বলেছেন হর্ষবর্ধন?
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, 'আমি মনে করি তারা (তালিবান) তাদের পক্ষ থেকে ভরসা দেওয়ার মতো কথাবার্তায় বলেছে। আগেও তালিবানের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল না৷ এমন নয় যে এখনও আমাদের মধ্য ভালো রকমের কথাবার্তা হচ্ছে! কিন্তু আমরা এখনও পর্যন্ত যতটুকু কথাবার্তা বলেছি তাতে তালিবানরা ইতিবাচক সদর্থক ভূমিকা পালনে আগ্রহ দেখিয়েছে৷

কী বলছে কেন্দ্র সরকার?
কেন্দ্র সরকার একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে তালিবানদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান মুহাম্মদ শের আব্বাস স্টানেকজাই এবং কাতারে ভারতীর রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল দোহাতে একটি বৈঠকে বসেছিলেন। তালিবানের অনুরোধে ভারতীয় দূতাবাসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগের সরকারের আমলে ভারত আফগানিস্তানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছিল৷ কিন্তু তালিবান আসাতে সেই কাজ বন্ধ। এতে আফগানিস্তানে আগ্রহী দেশগুলির কাছে নেতিবাচক বার্তা গিয়েছে৷ স্বাভাবিকভাবেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করে আফগানিস্তানে বিনিয়োগে আগ্রহী দেশগুলির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে তালিবানরা।

আদৌও কী কখনও তালিবানের আফগানিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক হবে ভারতের?
আশরাফ গনি দেশ ছাড়ার পর থেকে এখনও সে দেশে সরকার গঠন করতে পারেনি তালিবানরা। ২০০৯ এ আফগানিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসে বোমা হামলা হোক কিংবা ভারতের স্বার্থবিরোধী যে কোনও কাজে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে তালিবানের হাক্কানি গোষ্ঠী৷ হায়বাতুল্লাহ আখুন্দজাদা এবং তার ডেপুটি আবদুল গনি বরাদর-এর নেতৃত্বাধীন সরকার হতে পারে আফগানিস্তানে। এই আখুন্দজাদার ফলোয়ার তালিবানরা হাক্কানি গোষ্ঠী নামে পরিচিত, যার নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, খলিল হাক্কানি এবং আনাস হাক্কানি। যদিও সম্প্রতি এদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে বলে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে 'হেলমান্ডি'দের মধ্যে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তালিবান ক্ষমতা দখলের পর থেকেই সে দেশে এই হাক্কানি গোষ্ঠীর মিলিশিয়ারা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে৷

কী বলছেন কবির তনেজা?
অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো এবং লেখক কবির তনেজা বলেন, যে দিকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এগোচ্ছে সেখানে আখুন্দজাদা ও তার গোষ্ঠীভুক্ত হাক্কানি তালিবানরা যদি আফগানিস্তানে ক্ষমতার রাশ ধরে তাহলে আফগানিস্তানের মাটিতে ভারতের উপস্থিতি প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে৷ হাক্কানিরা যদি আফগানিস্তানে ক্ষমতার শীর্ষে বসে তাহলে অবশ্যই এটা ভারতের জন্য চিন্তার কারণ।












Click it and Unblock the Notifications