বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগে উত্তাল রাজপথ, দীপু দাস হত্যায় মুখ খুললেন শেখ হাসিনা
বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। ঢাকা সহ একাধিক শহরে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে, যার আঁচ পৌঁছেছে ভারতেও। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ মানুষজন। এই আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক হিন্দু যুবক দীপু দাস, যাঁকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা ও পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে অডিও বার্তায় কড়া ভাষায় নিন্দা জানালেন বাংলাদেশের অপসারিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দীপু দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। নবী অবমাননার কোনও প্রমাণ কেউ দেখাতে পারেনি বলেও দাবি করেন তিনি। দীপুকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন "এই বর্বর মানুষগুলো কোথা থেকে এল? এরা কি সেই মানুষ, যাদের আমি খাইয়েছি, পড়িয়েছি?"

শুধু নিন্দা নয়, দীপু দাসের পরিবারের উদ্দেশে সহানুভূতির বার্তাও দেন তিনি। পরিবারকে ধৈর্য ধরার আবেদন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "আমি যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন ন্যায়বিচারের জন্য লড়ব।"
দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপালের কাঠমান্ডু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশ হাই কমিশনের কাছে পৌঁছতে বাধা দেওয়া হলেও বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দেন ইউনূস সরকারের আমলে যদি দোষীদের শাস্তি না হয়, তবে এই প্রতিবাদ আরও বড় আন্দোলনের রূপ নেবে।
এদিকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হিংসার গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। চলতি সপ্তাহেই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা শহরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ছাত্রনেতৃত্বাধীন ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের অন্যতম সংগঠক মোতালেব শিকদার। মাথায় গুলি লাগে তাঁর। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগের প্রধান ও ওয়ার্কার্স ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক মোতালেবকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক মাহমুদা মিতু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথার বাঁ দিক দিয়ে গুলি ঢুকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় তাঁর। জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা।
এই হামলার কয়েকদিন আগেই ঢাকার বিজয়নগরে নির্বাচনী প্রচারের সময় মুখোশধারী দুষ্কৃতীদের গুলিতে আহত হন আরেক যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ৩২ বছরের হাদি ছিলেন 'ইনকিলাব মঞ্চ' এর মুখপাত্র ও আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের প্রার্থী।
হাদির মৃত্যুর পর মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশজুড়ে শোক ঘোষণা করে ও দোষীদের ধরতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। তবে একের পর এক হামলা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বাংলাদেশে কি আবার অস্থিরতার অন্ধকার অধ্যায় ফিরে আসছে?












Click it and Unblock the Notifications