• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

বাংলাদেশের বুকে নয়া রূপকথা লিখলেন হাসিনা, পদ্মাপারে বাঙালির আরও এক নবজাগরণ

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ যে আতঙ্ককে সবচেয়ে বেশি সয়েছে তা হলে খুনের আতঙ্ক। ইসলাম বিরোধী কথা বললেই একেক জনের পরিণতি হয়েছে ভয়ঙ্কর। বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে সন্ত্রাসের জ্বলন্ত আগুন-কে। হোলি আর্টিজেনের সেই ভয়ঙ্কর রাত আজও হাড় হিম করে দেয় অধিকাংশ বাংলাদেশির। অথচ, একটা সময় মুক্তমনা চেতনার জন্যই জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্র। বাংলা ভাষার দাবিতে একটা গোটা জাতি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিল। কিন্তু, সেই মুক্ত-চিন্তা-ভাবনাতেও যে সন্ত্রাসের করাল গ্রাস পড়েছিল তার বলি হয়েছিলেন খোদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান। শেখ হাসিনা এই শেখ মুজিবরের কন্য়া। বাবার হত্য়াকাণ্ডের সময় একদম কিশোরী ছিলেন তিনি। চরম মৌলবাদ আর ধর্মান্ধতার বেড়াজাল থেকে বাংলাদেশকে বের করে আনার প্রথম সুযোগ হাসিনা পেয়েছিলেন ১৯৯৬ সালে। কিন্তু বাংলাদেশে তখনও যেভাবে রাজাকারদের প্রভাব-প্রতিপত্তি ছিল তাকে পুরোপুরি কব্জা করে উঠতে পারেননি তিনি। পরিণতিতে ২০০১ সাল থেকে বিরোধী আসনে বসতে হয়েছিল শেখ হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামি লিগকে।

vবাংলাদেশের বুকে নয়া রূপকথা লিখলেন হাসিনা, পদ্মাপারে বাঙালির আরও এক নবজাগরণ

পাকাপাকিভাবে তিনি বাংলাদেশকে ধর্মান্ধতার বেড়াজাল থেকে বের করে আনার সুযোগ পান ২০০৮ সালে। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রী পদে দুটো মেয়াদকাল কাটিয়ে এবার চতুর্থ মেয়াদ-এর সামনে দাঁড়িয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আর তাঁর এই চতুর্থ মেয়াদকালের সূচনা লগ্নে ভোটের ফল যা এসেছে তাতে একে বাংলাদেশের নবজন্ম বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। বাংলাদেশে একাদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এবার আসন ছিল ৩০০টি। একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্য়ুতে ভোট হয় ২৯৯টি আসনে। ভোটের ফল বলছে এই ২৮৮টি আসন পেয়েছে আওয়ামি লিগ জোট। যারমধ্যে আওয়ামি লিগ একাই জয় পেয়েছে ২৫৯ আসনে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী হয়ে শেখ হাসিনা পেয়েছেন ২২৯,৫৩৯টি ভোট। তার সমস্ত প্রতিপক্ষ মোট ভোট সংখ্যা ২০৮ সংখ্যা পার করতে পারেনি।

বাংলাদেশের মানুষের আওয়ামি লিগ এবং তার জোটসঙ্গীদের প্রতি এই বিপুল সমর্থন এই মুহূর্তে প্রমাণ করে দিচ্ছে তামাম দেশবাসী আজ এক নতুন ভোরের সূচনা চাইছে। যেখানে উন্নয়ন থাকবে, যেখানে কর্মসংস্থান থাকবে। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের সম্মান মাথা উঁচু করে বিরাজ করবে। বাংলাদেশ এমন এক রাষ্ট্রে পরিণত হবে যার নিজস্ব আর্থিক বুনিয়াদ থাকবে। অর্থের জন্য অন্য কোনও দেশের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকতে হবে না। ২০০৮ সালে পুনরায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশবাসীকে এক স্বপ্ন দেখার মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছেন হাসিনা। আর তারই প্রতিদান যেন তিনি এবার পেলেন।

[আরও পড়ুন:বাংলাদেশ নির্বাচনে হিরো আলমের কী হাল হল! জেনেনিন ভোট পরিসংখ্যান ]

এবারের নির্বাচন যে হাসিনা এবং তাঁর দলের কাছে সহজ ছিল তা নয়। কারণ রাজাকারদের ফাঁসি, জামায়াতের উত্থান এবং মৌলবাদীদের আস্ফালন স্বাভাবিকভাবেই একটা চিন্তার মেঘ তৈরি করেছিল। তারউপরে দুর্নীতির তদন্তে খালেদা জিয়া-র কারাবাস এবং তাঁর ছেলেকেও জেলে ভরার আদালতে রায়-কে বিএনপি সরকারি শক্তির পীড়ন বলে প্রচার করেছিল। বিশেষ করে খালেদার অনুপস্থিতিতে যেভাবে বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফকরুলরা আক্রমণ তীব্র করেছিলেন তাতে হাসিনার ক্ষমতা ধরে রাখায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীদের দাদাগিরি। যার জেরে তরুণ প্রজন্মের একটা অংশের মনে আওয়ামি লিগ-এর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। এদের অনেকেই আবার বিএনপি-র ছাতার তলায় ভোটে প্রার্থীও হয়েছিলেন।

[আরও পড়ুন: ফলাফল প্রত্যাখ্যান! নতুন দাবিতে সরব বাংলাদেশের বিরোধী জোট]

আওয়ামি লিগের দাদাগিরি, শেখ হাসিনার একক ক্ষমতার রাষ্ট্রীয় সরকারের ভাবনার বিরোধিতার তুলনায় হাসিনার নতুন দিশায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপেই বেশি করে আস্থা রাখল দেশবাসী। যার বিস্ফোরণ ঘটল ভোট বাক্সে। কারণ, বাংলাদেশের মানুষ এই একুশ শতকে বুঝতে পেরেছে উন্নয়নের স্বাদ এবং ধর্ম নিয়ে মাতামাতি করার থেকেও বেশি দরকার কাজের সংস্থান। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের রফতানি ব্যবসা বিশেষভাবে বিস্তার লাভ করেছে। গারমেন্টস-এর রফতানি-তে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে বিশ্বের দ্বিতীয় দেশে পরিণত হয়েছে। এই গারমেন্টস শিল্প-কে ঘিরে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে। অপ্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সংখ্যাটা এর সঙ্গে মেলালে তা চোখ কপালে তুলে দেবে। হোলি আর্টিজেন-এর সন্ত্রাসের ভয়ানক রক্তকে প্রত্যক্ষ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু, হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সন্ত্রাস নিধনে যে ভূমিকা নিয়েছে তা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। মুক্তমনা ব্লগার-দের হত্যাতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে হাসিনা সরকার। জামায়াত জঙ্গিরা ভারতের একটা অংশ এবং সমগ্র বাংলাদেশ মিলে যে ইসলামিক রাষ্ট্রের কল্পনা করেছিল-তাতে জোর ধাক্কা হেনেছে। ভারত সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জামায়াত জঙ্গিদের ধরপাকড় এবং প্রয়োজনে নিকেশ করার মতো অবস্থানকেও পরিস্কার করে তুলেছে বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের এক মজবুতি বুনিয়াদ যা এই মুহূর্তে সেই দেশের অর্থনীতিতে একটা শক্তি এনেছে তাকেও প্রত্যক্ষ করেছে ন বাংলাদেশবাসীরা। এমনকী রাষ্ট্রপুঞ্জও বাংলাদেশকে 'লিস্ট ডেভলপড কান্ট্রি'-র তালিকা থেকে বের করে 'ডেভলপিং কান্ট্রি'-র তালিকাভুক্ত করার কথা ভাবছে। এর ফলে দেশের পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিকস্তরে আর্থিক অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা অর্জন করতে পারবে বাংলাদেশ।

[আরও পড়ুন:বাংলাদেশে ভোট! প্রতিবেশী দেশের পর্যবেক্ষকরা জানালেন তাঁদের কথা ]

বেনজির সরকারি দুর্নীতি-র জেরে বাংলাদেশের উন্নয়ন ইনডেক্স অনেকটাই প্রভাবিত হয়েছিল। হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা অভিযোগ থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগ সেভাবে সামনে আনতে পারেনি বিরোধীরা। আন্তর্জাতিক দুনিয়ার মতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বুকে চিনা মডেল-কে হাতিয়ার করেছেন। আর বাংলাদেশের মানুষ এই মুহূর্তে হাসিনা-র এই মডেলেই বেশি আস্থা পোষণ করছেন। দুর্নীতি-ধর্মান্ধতা ও সন্ত্রাসের বেড়াজালে দেশের আখেরে যে উন্নতি হয়নি তা এরশাদ ও খালেদা জিয়া-র জামানা প্রমাণ করে দিয়েছে। আর সেই কারণে বাংলাদেশের মানুষের আশীর্বাদ অকাতরে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামি লিগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটেই বর্ষিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ আজ এক নতুন ঊষাকিরণে সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একে 'হাসিনার রূপকথা' ছাড়া আর কীভাবেই বা ব্য়াখ্যা করা যায়।

[আরও পড়ুন: টানা তৃতীয়বার জয়! হাসিনাকে অভিনন্দন মোদীর]

English summary
Many questions are answered, many dilema in Bangladesh politics are now halted for a certain period and all these things are happened after the huge huge victory of Awami League. Sheikh Hasina the daughter of Sheikh Mujibur Rahman has written a new era in Bangladesh Democracy.
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X