জিনপিংয়ের সমালোচনার আস্পর্ধা! মাও-এর মেজাজে নেতাকে দল থেকে তাড়ালেন চিনা প্রেসিডেন্ট
বিশাল নির্মাণ সাম্রাজ্যের মালিক রেন ঝিকিয়াং। চিনের এই ব্যবসায়ী চিনা কমিউনিস্ট পার্টিরও সদস্য ছিলেন। এবং পার্টিতে থেকেই তিনি দেশের সর্বেসর্বা শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আস্পর্ধা দেখান। ব্যাস, আর যাবেন কোথায়। দলের সদস্যপদের উপর কোপ পড়ল তৎক্ষণাত। পাশাপাশি গলায় পরানো হল একাধিক দুর্নিতির অভিযোগের মালা।

রেনকে দল থেকে বহিষ্কার করে কী বলা হয়?
রেনকে দল থেকে বহিষ্কার করে চিনা কমিইনিস্ট পার্টির তরফে বলা হয়, রেন পার্টির রাজনৈতিক, সংগঠনিক মর্যাদাকে মাটিতে মিলিয়েছেন। তিনি দলের কাজকে গুরুত্ব দেননি। তিনি দুনৃর্নিতির সঙ্গে ওতপ্রত ভাবে জড়িত। ঘুষ নেওযা থেকে শুরু করে জনগণের অর্থের অপপ্রয়োগ করেছেন তিনি। এরপ জন্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হচ্ছে।

করোনা আবহেও জিনিপিংয়ের সমালোচনা
এর আগেও করোনা ভাইরাস সংক্রণ মোকাবিলা করার বিষয়ে শি জিনপিংয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় রেনকে বন্দি করা হয়েছিল। চিনা গণমাধ্যমে রেনের প্রচুর ভক্ত ও অনুগামী। সত্যি কথা কড়া ভাবে বলার জন্য পরিচিত রেনের ডাকনাম ক্যানন, অর্থাৎ, তোপ। তবে তাঁর এই জনপ্রিয়তা হজম হয়নি জিনপিংয়ের। তাই ২০১৬ সালে রেনকে সকল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।

মাও-এর সঙ্গে জিনপিংয়ের তুলনা
একদিকে করোনা সঙ্কট অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সীমান্তের জেরে গোটা বিশ্বেই ক্রমেই একঘরে হয়ে পড়েছে চিনের কমিউনিস্ট সরকার। কিন্তু এতসবের মধ্যেও চিনের রাষ্ট্রপতি তথা পিপলস লিবারেশন আর্মির প্রধান শি জিনপিং নিত্য নতুন নতুন চাল দিচ্ছেন। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একটা বড় অংশ তার বিদেশ নীতি দেখে ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে মাও সে-তুংয়ের তুলনা করছেন।

চিনের একছত্র অধিপতি এখন জিনপিং
চিনের গৃহযুদ্ধ চলেছিল ১৯২৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত। সেই সময় যুদ্ধ শুরু হয় চাইনিজ ন্যাশনালিস্ট পার্টি এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়নার মধ্যে। শেষ পর্যন্ত এই যুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টি জয়লাভ করে এবং গঠিত হয় পিপলস রিপাবলিক অফ চায়না। সেই কমিউনিস্ট পার্টিরই প্রধান দলনেতা ছিলেন মাও সে-তুং। ১৯৪৯ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনকালে চিনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল বেশ ভঙ্গুর। তবে রাজনৈতিক ভাবে তিনি কোনও প্রতিপক্ষকেই মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি। তাই একনায়ক হয়ে আমৃত্যু শাসন করে যান চিনের উপর। জিনপিংও এই একই পথে হাঁটছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications