টমেটো ৬০০ টাকা কেজি! পাক-আফগান সংঘাতে বাজারের এ কি হাল? মাথায় হাত সাধারণ মানুষের!
ভারতের অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ধাক্কা সামলাতে নাকানি-চোবানি অবস্থা হয়েছিল পাকিস্তানের। এবার আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতে নাজেহাল হতে হচ্ছে পাকিস্তানি নাগরকিদের। আগুন লেগেছে সবজির বাজারে। টমেটোর কেজি ছাড়িয়েছে ৬০০ টাকা কেজি।

বুধবার পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে চলমান উত্তেজনার কারণে সারা দেশে সবজির দাম বেড়ে গেছে। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি এলাকায় টমেটো ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ট্রিবিউন রাওয়ালপিন্ডির সবজি ব্যবসায়ী ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কাদেরের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানি দৈনিক এক্সপ্রেস জানিয়েছে, "টমেটোর সরবরাহ কম থাকলেও চাহিদা বেশি। আফগানিস্তান থেকে আর টমেটো আমদানি করা হচ্ছে না। যতক্ষণ না সরবরাহ পুরোপুরি ঠিক না হয়, টমেটোর দাম কমবে না।"
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বেশি দামের কারণে ছোট সবজি বিক্রেতারা টমেটো, মটর, আদা ও রসুন বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "রসুন ৪০০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, আর আদার দাম বেড়ে ৭৫০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে। পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা কেজি, আর মটর ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। ক্যাপসিকামের দাম কমে ৩০০ টাকা কেজিতে চলে এসেছে, আর ঢেঁড়সও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। শসা ১৫০ টাকা কেজি এবং লাল গাজর ২০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। লেবু ৩০০ টাকা কেজি, এখন ছোট ছোট ছোলার দাম ৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।"
রিপোর্ট বলছে, সবজির পাশাপাশি ফলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। আপেল ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, আঙ্গুর ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেদনা ৪০০ টাকা কেজি, পেয়ারার দাম ১৭০ টাকা কেজি। একটি নারকেল ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কমলালেবুর দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা এবং কলার দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা প্রতি ডজন হয়েছে।
ইতিমিধ্যে পাক-আফগান সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে। এক্স (X)-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ বিরতির চুক্তিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের নিরাপত্তা বাহিনীকে আক্রমণ এড়ানো ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্ত বিষয়ে সমাধান করার ওপর সম্পূর্ণ জোর দেওয়া হয়েছে। এই শর্তাবলীর বাইরে যেকোনও বিবৃতি অবৈধ বলে ধারা হবে।
অনেকে মনে করছেন পাক-আফগানিস্তান সংঘর্ষের ফলে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পাকিস্তান কাবুলে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকেই এই সংঘাত শুরু হয়। তবে ইসলামাবাদ ও কাবুল উভয়ই একে অপরের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসনের অভিযোগ এনেছে। এই সংঘর্ষের পিছনেও নাকি নয়াদিল্লির হাত রয়েছে বলে মনে করছে পাকিস্তান। এমনটাই এক ইন্টারভিউতে বলেছেন পাকিস্তানের মন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications