বাংলাদেশে বিএনপি-র জয় নিশ্চিত! তারেককে অভিনন্দন জানাল পাকিস্তান, ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বার্তা ইসলামাবাদের
বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। যদিও এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে, তবুও প্রাথমিক গণনা বলছে যে, দলটি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রয়েছে। সমস্ত কিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন।

পাকিস্তান থেকে শুভেচ্ছা
ফল স্পষ্ট হওয়ার পরেই অভিনন্দনের বার্তা এসেছে পাকিস্তানের তরফ থেকে। সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তারেককে তাঁর জয়ের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সেই পোস্টে তিনি লেখেন যে, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অনেক অভিনন্দন। সেইসঙ্গে তিনি নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করে দুই দেশের ঐতিহাসিক এবং বহুমুখী সম্পর্ক আরও মজবুত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি, স্থিতি এবং উন্নয়নকে তিনি যৌথ লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেছেন।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি-ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে পাকিস্তান সমর্থন করে। সেইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক এবং প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নতুন সরকারের সাথে কাজ করতে চায় ইসলামাবাদ।
এই বারের নির্বাচনে শেখ হাসিনা-র দল আওয়ামী লীগ অংশ নেয়নি। মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রমকে স্থগিত করেছে। এর ফলে বিএনপি এবং জামাতের মধ্যেই মূল লড়াই ছিল।
গণনা এখনও চলমান রয়েছে, তবে খালেদা জিয়ার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ইংরেজি এবং বাংলায় পোস্ট করে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন যে, "বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে নির্ণায়ক জয়ের জন্য তারেক রহমানকে আমার তরফ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।"
সেই সঙ্গে ভারত এবং বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করে তোলার কথাও উল্লেখ করেছেন মোদী। তিনি জানান, দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়নের লক্ষ্যে একসাথে কাজ করার জন্য তিনি আগ্রহী। তাঁর বার্তায় আরও বলা হয়েছে যে, প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের পাশে ভারত ভবিষ্যতেও সবসময় থাকবে।
তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে আমেরিকাও। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের তরফ থেকে সমাজমাধ্যমে বাংলা এবং ইংরেজিতে দেওয়া বিবৃতিতে বাংলাদেশের জনগণকে সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে বিএনপি এবং তারেক রহমানের 'ঐতিহাসিক বিজয়'-এর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, দুই দেশের সমৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার লক্ষ্যে বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়ছে। অনেকদিন পর ঢাকা থেকে করাচি বিমান পরিষেবা চালু হয়েছে। এবার নতুন সরকার গঠন হওয়ার আগেই বাণিজ্য এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল পাকিস্তান।












Click it and Unblock the Notifications