কাবুলে ক্রস বর্ডার হামলায় পাক আফগান উত্তেজনা! নিহত টিটিপি নেতার ছেলে, পাকিস্তানের জবাবি বার্তা
ফের সীমান্তে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি! আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল কেঁপে উঠল পরপর জোরা বিস্ফোরণে, সঙ্গে চলল ব্যাপক গুলিবর্ষণ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের আকাশে ঘুরছিল একটি যুদ্ধবিমান এরপরই শোনা যায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ওই হামলা ছিল পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান টিটিপি এর প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ এর ওপর লক্ষ্যভেদী বিমান আঘাত।

একটি সূত্রের দাবি পূর্ব কাবুলে আল কায়দা ও টিটিপি এর একটি নিরাপদ ঘাঁটি ছিল ওই আক্রমণের লক্ষ্য। হামলায় ওই কম্পাউন্ডটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হলেও পরে তিনি নিরাপদে পাকিস্তানে রয়েছেন তবে এই আক্রমণে তাঁর পুত্র নিহত হয়েছে।
এই ঘটনায় প্রবল প্রশ্ন উঠেছে পাকিস্তান কি এবার সরাসরি কাবুলে আঘাত হানল? ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাওয়াজা আসিফ প্রকাশ্যে আফগানিস্তানকে জঙ্গিদের আশ্রয়দাতা বলে অভিযোগ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলা সেই মন্তব্যেরই প্রতিশোধ হতে পারে সম্ভবত পাকিস্তানেরই গোপন অভিযানের অংশ, যেখানে বিদেশি প্রযুক্তিগত সহায়তাও ছিল।
তালিবান সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, এই হামলা আফগান সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ, ২০২১ সালে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথমবার পাকিস্তান কাবুলের মাটিতে সরাসরি বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ। আফগানিস্তানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সীমিত এবং প্রাক্তন আফগান বিমানবাহিনী এখন নিষ্ক্রিয়, ফলে এমন হামলা রুখে দেওয়া তাদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব।
ঘটনার সময়ে ভারত সফরে ছিলেন আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তিনি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা ছিল।
এদিকে, মেহসুদের পরিবারের ওপর এই হামলা টিটিপি এর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধাক্কা দিতে পারে। সংগঠনের নেতৃত্ব বর্তমানে বিভক্ত একপক্ষে কাবুলপন্থী, অন্যপক্ষে রাওয়ালপিণ্ডিপন্থী গোষ্ঠী। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই বিভাজন থেকে তৈরি হতে পারে ভয়ঙ্কর ক্ষমতার লড়াই, যার প্রভাব পড়তে পারে সীমান্তবর্তী কুনার, নানগরহার ও পাকতিকা অঞ্চলেও। ফলে পাকিস্তান ও তালিবান শাসিত আফগান সরকারের মধ্যে সম্পর্ক আরও সংকটময় হয়ে উঠছে।












Click it and Unblock the Notifications