মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান, আটক আন সান সু চি
মায়ানমারে (myanmar) সামরিক অভ্যুত্থান (military coup)। এই অভ্যুত্থানে আটক দেশের প্রেসিডেন্ট আন সান সু চি (aung san suu kyi)। তাঁর দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একবছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে। নভেম্বরের নি
মায়ানমারে (myanmar) সামরিক অভ্যুত্থান (military coup)। এই অভ্যুত্থানে আটক দেশের প্রেসিডেন্ট আন সান সু চি (aung san suu kyi)। তাঁর দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, একবছরের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে। নভেম্বরের নির্বাচনে জালিয়াতি হয়েছে, এই অভিযোগে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সে দেশে প্রায় পাঁচ দশক ধরে শাসন করে আসা সামরিক বাহিনী এবং সরকারের মধ্যে উত্তেজনার পারদ ক্রমেই চড়েছে।

আটক দেশের প্রেসিডেন্টও
গত সপ্তাহে দেশের সামরিক বাহিনী নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ দায়ের করে ক্ষমতা দখল করতে অস্বীকার করেছিল। নভেম্বরের নির্বাচনে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি সহজেই জয়লাভ করেছিল। সুচির দলের মুখপাত্র মায়ো নিন্ট বলেছেন, দেশের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্টের সঙ্গে সুচিকেও রাজধানী নাইফাইডাউতে আটক করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শুনেছেন, সামরিক বাহিনী তাঁদেরকে নিয়ে গিয়েছে। দেশে দুই নেতা সম্পর্কে তাঁরা খুবই ভয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

দেশে সামরিক অভ্যুত্থান
দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে বলেই মনে করছে সুচির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি। শুধু সুচি কিংবা দেশের প্রেসিডেন্টই নন, কারেন প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্য আঞ্চলিক মন্ত্রীদেরও আটক করা হয়েঠছে। প্রসঙ্গত সোমবার থেকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশ বসার কথা ছিল। নতুন সাংসদদের ক্ষেত্রে কী হবে, তাঁরা এখনও জানেন না বলেই সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন সুচির দলের মুখপাত্র মিয়ো নিন্ট।
দেশে ৪৯ বছরের সামরিক শাসনের পরে ২০১১ সালে প্রথমবার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। আর ২০২০ সালের নভেম্বরে হয় দ্বিতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ৭৫ বছর বয়সী সুচির দল বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাঁচবছরের জন্য ক্ষমতা দখল করে।

যোগাযোগের সমস্ত রাস্তা বন্ধ
দেশের দুই বড় নেতা, নেত্রী সহ অন্যদের আটক করার কয়েক ঘন্টার মধ্যে মায়ানমারের যোগাযোগের নেটওয়ার্কও বন্ধ করে দেওয়া হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল নেটওয়ার্ক। ইন্টারনেট শাটডাউনের জেরে বেসরকারি সংস্থাগুলিতে কাজের ব্যাপক ব্যাঘাত ঘয়েছে। দেশের রাজধানীতে কোনও ফোনই পাওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনে রিগিং-এর অভিযোগ
নভেম্বরের নির্বাচনে দেশে ব্যাপক হারে অনিয়মের অভিযোগ করেছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনের রিগিং-এর অভিযোগও করেছে তারা। দেশের নির্বাচনে প্রায় এক কোটি ভুয়ো ভোটার ছিল বলে অভিযোগ করেছে সেনাবাহিনী। সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন নির্বাচন কমিশন ক্রসচেকিং-এর জন্য ভোটার তালিকা প্রকাশ করেনি বলেও অভিযোগ করেছে সেনাবাহিনী। গত সপ্তাহে দেশের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনালের মিন আন লেং বলেছিলেন, ২০০৮ সালের সংবিধান প্রত্যাহার করা হবে। সেই থেকেই দেশে সেনা অভ্যুত্থানের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
১৯৪৮ সালে ব্রি্টেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পরে ১৯৬২ এবং ১৯৮৮ সালে দুটি অভ্যুত্থান হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications