হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের বসানো নৌ মাইনই এখন খুঁজে পাচ্ছে না ইরান
মার্কিন আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, ইরান নিজেদের বসানো মাইন সনাক্ত ও অপসারণে ব্যর্থ হওয়ায় হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নৌযান চলাচলের চাপ থাকলেও, মার্কিন বোমা হামলার এক মাস পরেও ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খুলতে ইরান নিজেদের বসানো নৌ মাইন খুঁজে পাচ্ছে না। এছাড়া, সেগুলো অপসারণের কারিগরি সক্ষমতাও তাদের নেই; এটিই মূল সমস্যা।

এই সমস্যা গত মাস থেকে শুরু। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর ইরান ছোট নৌকা ব্যবহার করে জলপথে মাইন বসাতে শুরু করে।
মাইন বসানোর আগেই বিঘ্ন শুরু হয়। গত ২ মার্চ, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসের তরফে প্রণালী বন্ধের ঘোষণা করা হয়। সতর্ক করা হয়, কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে তা 'আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া' হতে পারে। এতে নৌ চলাচল স্থবির হয়, বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়ে।
মাইন স্থাপনের পর প্রভাব আরও গভীর হয়। ট্যাঙ্কার চলাচল তীব্রভাবে কমে। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঝুঁকি বাড়ায়। এই ট্র্যাফিক সংকট সংঘাতকালে তেহরানকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেয়।
এই কৌশল বর্তমানে ইরানের বিকল্প সীমিত করছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, মাইনগুলো এলোমেলোভাবে স্থাপন হয়েছিল। তেহরান সেগুলোর অবস্থান রেজিস্টার করেছিল কিনা, অস্পষ্ট। কিছু যন্ত্র ভেসে যাওয়ায় পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরান একটি সরু পথ খোলা রেখেছিল, যা দিয়ে টোল দিতে ইচ্ছুক জাহাজ চলাচল করতো। রেভল্যুশনারি গার্ডস জাহাজগুলোকে মাইন আঘাতের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেছে। আধা-সরকারি গণমাধ্যম নিরাপদ রুট নির্দেশ করে মানচিত্র প্রকাশ করলেও, সেগুলো সীমিত।
জলপথ দ্রুত পরিষ্কার করতে না পারায় ট্রাম্প প্রশাসনের আহ্বানে ইরানের সাড়া দিতে দেরি হচ্ছে। মঙ্গলবার এক পোস্টে ট্রাম্প মার্কিন-ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে "প্রণালীর সম্পূর্ণ, তাৎক্ষণিক এবং নিরাপদ উন্মুক্তকরণ"-এর সাথে যুক্ত করেছেন।
ইরান এই সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিয়েছে। বুধবার বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, প্রণালীটি "প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার যথাযথ বিবেচনা সাপেক্ষে" খোলা হবে।
আরাঘচির নেতৃত্বে ৭০ সদস্যের ইরানি প্রতিনিধি দল এদিন ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসবে। এই বৈঠকে মাইন সমস্যাটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাইন অপসারণ স্থাপন করার চেয়ে জটিলতর। মার্কিন সামরিক বাহিনী উন্নত ব্যবস্থা নিয়েও মাইন অপসারণের জন্য বিশেষায়িত লিটোরাল কমব্যাট জাহাজের উপর নির্ভরশীল, তাদের ব্যাপক ক্ষমতা নেই। কর্মকর্তারা জানান, ইরান দ্রুত এমন অভিযান চালানোর সামর্থ্য রাখে না, এমনকি নিজেদের বসানো মাইনগুলোও সরাতে পারছে না।












Click it and Unblock the Notifications