Greenland Election: ট্রাম্পের নজরে থাকা গ্রিনল্যান্ড চায় স্বায়ত্তশাসন, মঙ্গলে দ্বীপরাষ্ট্রে হাইভোল্টেজ ভোট
Greenland Election: বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা গ্রিনল্যান্ড আধা স্বশাসিত। প্রকাশ্যে জনসমক্ষেই তা দখল করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। মঙ্গলবার সেখানেই সাধারণ নির্বাচন (General Election)। পরবর্তী সরকার নির্বাচিত করবেন স্বল্পসংখ্যক অধিবাসী। ট্রাম্পের সরাসরি হুঁশিয়ারির পর এবারের নির্বাচন নিঃসন্দেহে তাই তাৎপর্যপূর্ণ।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড। পূর্বে রাশিয়া ও পশ্চিমে উত্তর আমেরিকার মাঝে অবস্থান এই দ্বীপরাষ্ট্রের। গত সপ্তাহের মার্কিন কংগ্রেসে ট্রাম্প বলেছিলেন, যেন তেন প্রকারেণ গ্রিনল্যান্ড তারাই দখল করতে চলেছেন। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের পর তীব্র বিরোধিতাও ধেয়ে আসে গ্রিনল্যান্ডের বিভিন্ন নেতাদের তরফে। তার দিনকয়েকের মধ্যেই মঙ্গলবার নির্বাচন গ্রিনল্যান্ডে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৬ হাজার জনতার মধ্যে ৪১ হাজার মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গ্রিনল্যান্ডের সংসদে মোট ৩১ জন সদস্যের ভাগ্যনির্ধারণ করা হবে। ৩১ আসনের সংসদে প্রতি চার বছর অন্তর নির্বাচন হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গেলে ন্যূনতম ১৬টি আসন প্রয়োজন। সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হবে ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে মোট ৬টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বুধবার সকালের মধ্যেই ফলাফল স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ইঙ্গিত।
গ্রিনল্যান্ডে বরাবরের মতো ভোটের প্রধান ইস্যু স্বায়ত্তশাসন। আধা শাসন থেকে বেরিয়ে স্বশাসনের পথে হাঁটতে চায় গ্রিনল্যান্ডবাসী। তবে দ্বীপরাষ্ট্রের দিকে নজর রয়েছে ট্রাম্পের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দখল নিলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের জেরেই ডেনমার্কের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার দিকে ঝুঁকতে চাইছে গ্রিনল্যান্ড।
পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের অন্যতম ইস্যু দেশের অর্থনীতি। মৎস্যশিল্পের উপর নির্ভরশীল অর্থনীতি। বাকিটা নির্ভর করে ডেনমার্কের অর্থনৈতিক সহায়তার উপর। গ্রিনল্যান্ডের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী একাধিক দলেরই মত, দেশের খননকার্য, পর্যটন ও সম্পদ উত্তোলনের মতো বিষয়গুলিতে আরও গুরুত্ব আরোপ করা প্রয়োজন। এর ফলে গ্রিনল্যান্ড অর্থনৈতিক দিক থেকেও স্বাধীন হবে। নির্বাচনের পর ডেনমার্ক তো বটেই, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আইসল্যান্ড ও কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে গ্রিনল্যান্ড।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে প্রথম গ্রিনল্যান্ড কিনে নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথমবার মার্কিন মসনদে বসেই গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ ও কূটনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আগ্রহ দেখান তিনি। দ্বিতীয়বার মসনদে বসেও সেই সুপ্ত ইচ্ছে ফের প্রকাশ্যে এনেছেন ট্রাম্প।
গ্রিনল্যান্ডে এমনিতেই মার্কিন বায়ুসেনার ঘাঁটি রয়েছে। তার পরিধিও বাড়াতে চায় আমেরিকা। জলপথে ব়্যাডারের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সামরিক যোগাযোগ নিবিড় করতে চান ট্রাম্প। এতকিছুর মাঝে গ্রিনল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচন। ফলাফলের পর কী হয়, তাই এখন দেখার।












Click it and Unblock the Notifications