পাকিস্তানে খাদ্য সংকট তীব্র! দুধ ২১০ টাকা লিটার, মুরগির মাংসের কেজি ৮০০ টাকা ছুঁই ছুঁই
দেউলিয়া হতে যাওয়া পাকিস্তানে তীব্র খাদ্য সংকট। তবে তার মধ্যেও দুটি চিত্র সেখানে। কেউ লাইন দিচ্ছেন আটার জন্য। কেউ বা দামি কফি খেতে।
পাকিস্তানে অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে খাদ্য সংকট। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এক লিটার দুধের দাম পাকিস্তানের মূল্যে ২১০ টাকা। ভারতে এখন যা দুধের দাম, তার ৫ গুণ। অন্যদিকে জ্যান্ত ব্রয়লার মুরগির প্রতি কেজির মূল্য পৌঁছে গিয়েছে ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকায়। যা ছিল ১৩০ টাকা।

মুরগির মাংসের দাম আকাশ ছোঁয়া
পাকিস্তানে মুরগির মাংসের দাম আকাশ ছোঁয়া। মুরগির মাংস সেখানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৮০ টাকা। যা আগে ছিল ৬২০ থেকে ৬৫০ টাকার মধ্যে। বোনলেস চিকেনের প্রতি কেজির মূল্য সেখানে একহাজার থেকে এগারোশো টাকা। বেড়েছে দুধের দামও। করাচির দোকানদাররা দুধের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সাপ্তাহিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে
পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী যেখানে খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। গতমাসে সেখানে সাপ্তাহিক মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে প্রায় ৩১.৮৩ শতাংশের মতো। সেখানকার অন্তত ১৭ টি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বহুগুণ বেড়েছে। যেসব জিনিসের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে মুরগির মাংস ( ১০১.৯৩ শতাংশ), পেঁয়াজ ( ৪৮২.০৭ শতাংশ), ডিম ( ৬৪.২৩ শতাংশ), চা (৬৫.৪১ শতাংশ), ডিজেল ( ৫৭.৩৪ শতাংশ), বাসমতি চাল (৫৬.০৯ শতাংশ), গমের আটা (৪৬.৩৮ শতাংশ) মুগ ডাল (৫৫.৬৩ শতাংশ), নুন (৪৯.৫০ শতাংশ), কলা (৪৭.৭৩ শতাংশ)।

আর্থিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা
বিভিন্ন জিনিসের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সামনের মাসগুলিতে পাকিস্তানের আর্থিক সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালের চুক্তি রূপায়ণ করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার পাকিস্তানকে ৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১.১ বিলিয়ন ডলার দিতে দেরি করছে। কেননা আইএমএফ এবং পাকিস্তান সরকারের মধ্যে আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন পাকিস্তান গত বছরেই ব্যাপক বন্যার সম্মুখীন হয়েছিল। সেই সময় পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সেই ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই বর্তমান পরিস্থিতির সম্মুখীন তারা।

পাক জনগণের সামনে আরও কঠিন দিন
পাকিস্তানের অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দেশের সামনে আরও কঠিন দিন আসতে চলেছে। ইতিমধ্যে পাকিস্তানবাসীকে খাদ্য ও জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তারপরেও আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার থেকে ঋণ নিতে গেলে খাদ্য ও জ্বালানির দাম আরও বাড়বে। ঋণ নেওয়া ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনও উপায় নেই বলেও মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে পাকিস্তানকে সেই ঋণের শর্ত মানতে হবে। যার অর্থ মূল্যবৃদ্ধ।












Click it and Unblock the Notifications