করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড: অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাই চলবে বাংলাদেশে

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস টিকার প্রয়োগ অনেক দেশে স্থগিত হলেও বাংলাদেশ বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আনুষ্ঠানিক চিঠি দিলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
Getty Images
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাইরাস টিকার প্রয়োগ বিশ্বের অনেক দেশে স্থগিত হলেও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ বলছে, এই টিকার কার্যক্রম বাংলাদেশে অব্যাহত থাকবে

কয়েকদিন ধরেই আসছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত টিকাটির প্রয়োগ বিভিন্ন দেশ স্থগিত করছে, এই তালিকায় যুক্ত সর্বশেষ দেশ নেদারল্যান্ডস।

এর আগে রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডও একই ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে রক্তের মধ্যে ক্লট তৈরি করা বা জমাট বেধে ফেলে বলে নরওয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এরকম সন্দেহে বুলগেরিয়া, আইসল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক ও নরওয়ে এটির ব্যবহার স্থগিত করেছে।

তবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আবদুল মান্নান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এই টিকার কার্যক্রম বাংলাদেশে স্থগিত করার মতো কোন সিদ্ধান্ত তারা নেননি। এই টিকার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আর বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের এই একটিমাত্র টিকাই ব্যাবহার করা হচ্ছে, ফলে অন্য টিকা দিয়ে এই কর্মসূচী চালানোর কোন সুযোগও নেই।

দেশটিতে এরই মধ্যে সাতান্ন লাখের বেশি মানুষ এই টিকাটি গ্রহণের জন্য নিবন্ধন করেছে। মজুদ আছে ৭০ লাখ ডোজ। আর এরই মধ্যে প্রথম ডোজ টিকা প্রয়োগ করা হয়েছে প্রায় চুয়াল্লিশ লাখ মানুষের মধ্যে।

নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেও এই টিকাটির ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছেন, এটি একটি চমৎকার টিকা এবং এটি রক্ত জমাট বাধঁতে সহায়তা করে, এমন কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দেশগুলোর এই টিকার ব্যবহার অব্যাহত রাখা উচিত বলে বলছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস।

আরও পড়ুন:

করোনাভাইরাস দুই ডোজ টিকার আগে পুরোপুরি নিরাপদ নয়

টিকা নেয়ার ভাইরাল ভিডিওতে অভিনয়ের অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রীর ব্যাখ্যা

করোনাভাইরাস: টিকায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে বাংলাদেশে যা করা হবে

টিকা নিতে সুরক্ষা অ্যাপে যেভাবে নিবন্ধন করতে হবে

স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান যা বলছেন:

বাংলাদেশের স্বাস্ব্য সচিব মোঃ আবদুল মান্নান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''বাংলাদেশ আমরা টিকা স্থগিতের মতো কোন সিদ্ধান্ত পৌঁছেনি। যে পাঁচ-ছয়টি বা সাতটি দেশে তারা বন্ধ করেছে, তারা সন্দেহের বশবর্তী হয়ে সেটা করেছে। এখন পর্যন্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা অন্য দেশগুলো থেকে লিখিতভাবে কোন বারণ করেনি।''

''অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকায় যে উপাদানগুলো রয়েছে, রক্ত জমাট বাঁধার সঙ্গে তার কোন সম্পর্ক নেই বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন। যেহেতু সম্পর্ক নেই, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশে এই কার্যক্রম বন্ধ করতে পারি না। কারণ বাংলাদেশের মতো দেশগুলো শতভাগ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মেনে চলেছে'', স্বাস্থ্য সচিব বলেন।

''অক্সফোর্ডের যে টিকা আমরা নিয়ে এসেছি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে বলে যে, এটা দেয়া যাবে না, এটার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে, আনুষ্ঠানিকভাবে যদি তারা আমাদের চিঠি দেয়, তাহলে তাহলে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। আমরা অপেক্ষায় আছি।'' বলছেন মি. মান্নান।

এপ্রিলে টিকার বড় চালান আসছে

জানুয়ারি মাসের শেষ থেকে বাংলাদেশে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকাটির প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

এই টিকাটি ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট 'কোভিশিল্ড' নামে উৎপাদন করছে।

সেখান থেকে তিনকোটি টিকা কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।

এর মধ্যেই বাংলাদেশে প্রথম ডোজের টিকা দেয়া শুরু হয়েছে।

টিকার সরবরাহ নিয়ে কোন সংকট আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য সচিব বলছেন, ''সেখানে কোন জটিলতা হচ্ছে না। আমরা আশা করছি, যথাসময়েই পাবো। অক্সফোর্ডের টিকা এই মাসের শেষের দিকে পাবো। আর এই মাসের শেষে বা এপ্রিলের শুরুতে আমরা এক কোটির ওপরে, এক কোটি বিশ/ত্রিশ লক্ষ কোভিক্সের টিকাও পাবো।''

''আমাদের ধারাবাহিকতা, আমাদের চলমান যে কার্যক্রম আছে, সেটা কখনোই বন্ধ হবে না,'' করোনাভাইরাসের টিকার কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলছেন।

এর আগে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "যে কোনো ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে যেভাবে ঔষধের প্রতিক্রিয়া থাকে। তারপরও আমরা ভ্যাকসিন নিচ্ছি দীর্ঘকাল যাবৎ"।

"কাজেই এখানেও রিঅ্যাকশন হতে পারে। ইতোমধ্যেই আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়া আছে যে যেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে টিকা দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, কেউ যদি অসুস্থ বোধ করে তাদের চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা আমরা করেছি," স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান।

এই চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

মিয়ানমারে একদিনেই নিহত হলো ৩৮ জন বিক্ষোভকারী

মশা মারার কোন ঔষধটি নিরাপদ, কীভাবে বুঝবেন

কক্সবাজারে 'রহস্যময়' বিস্ফোরণ সম্পর্কে কী জানা যাচ্ছে

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোই কি এখন ফুটবল ইতিহাসের সেরা গোলদাতা?

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে যে পদক্ষেপ নেয়া হবে

টিকা নেবার পর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে কী করা হবে, টিকার মান নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা বিষয়ক ১৭ পৃষ্ঠার একটি প্রোটোকল জানুয়ারিতে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

তাতে বলা আছে টিকা যারা নিচ্ছেন তাদের উপর কী প্রতিক্রিয়া হয় তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে যেখান থেকে টিকা দেয়া হয়েছে সেখানে জানাতে হবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে একটি ফর্ম পাওয়া যাবে। সেখানেও জানানো যাবে।

যেসব হাসপাতালে টিকা দেয়া হবে তার সবগুলোতে একজন করে কর্মকর্তা থাকবেন যার দায়িত্ব হবে কারো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সে সম্পর্কে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো।

কেন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।

কোন্ পদের কর্মকর্তারা সেটি করতে পারবেন সেটিও সুনির্দিষ্ট করে বলা আছে।

তবে সকল পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঘটনা তদন্ত করা হবে না। যেসব ক্ষেত্রে প্রতিক্রিয়া গুরুতর, মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির বিষয় রয়েছে শুধু সেগুলো তদন্ত করা হবে।

কোন গ্রামে দুই বা তার বেশি ব্যক্তির পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে সেখানেও তদন্ত করা হবে।

তবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার সকল ঘটনা নথিভুক্ত করা হবে।

যিনি টিকা নিয়েছেন তিনি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শুরু করতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে হবে।

টিকায় পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, প্রোটকলে সেটিও বলা আছে।

BBC
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+