Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

কোভিড: বেশিরভাগ জেলায় কমলেও পঞ্চগড়ে কেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেশি?

বেশিরভাগ জেলায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকলেও সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার প্রায় তিরিশ শতাংশের কাছাকাছি। এর কারণ কী?

করোনার সংক্রমণ কমাতে হলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
Getty Images
করোনার সংক্রমণ কমাতে হলে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে গত কয়েকমাসের তুলনায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেশ কমে এসেছে।

জুন-জুলাই মাসে শনাক্তের হার বিশ শতাংশ পার হয়ে গেলেও গত সোমবার সেটা নেমে এসেছে ৫.৬৭ শতাংশে। বাংলাদেশে মোট শনাক্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ।

বেশিরভাগ জেলায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকলেও সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার অনেক বেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো গত এক সপ্তাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এই জেলায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৭৮ শতাংশে।

এই জেলায় এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৩ হাজার ৭১৮ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের।

জেলাটির বাসিন্দা প্রায় ১০ লাখ হলেও এখন পর্যন্ত এখানে মোট পরীক্ষা হয়েছে মাত্র ১১০৭৩টি।

কেন পঞ্চগড়ে এতো বেশি সংক্রমণ ঝুঁকি?

পঞ্চগড় জেলার একজন বাসিন্দা শারমিন আক্তার মৌরি বলছেন, উত্তরবঙ্গের কম উন্নত এই জেলায় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সতর্কতার প্রচণ্ড অভাব তার চোখে পড়েছে।

তিনি বলছিলেন, ''বাসা থেকে বাইরে বের হলে কারও মধ্যে আর কোন স্বাস্থ্য সচেতনতা দেখি না। বেশিরভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। আমি মাস্ক পরে বের হলে সবাই উল্টো তাকিয়ে থাকে। হাসপাতাল, বাজারঘাট, কোথাও - করোনাভাইরাস নিয়ে তাদের কোন চিন্তা আছে বলে মনে হয় না।''

সংক্রমণ বাড়ার পেছনে মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
BBC
সংক্রমণ বাড়ার পেছনে মানুষের অসচেতনতাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ফজলুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''করোনাভাইরাসের ওয়েবটা অন্যান্য জেলার চেয়ে আমাদের এখানে অনেক পরে আসছে। পরে আসছে বলে হয়তো পরে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত: যখন সারা দেশে বিধিনিষেধ শিথিল করা হলো, সবকিছু স্বাভাবিক করে দেয়া হলো, তখন পঞ্চগড়ের মানুষ আসলে একদমই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। এসব কারণে সংক্রমণ বাড়তে পারে।

পঞ্চগড়েই রয়েছে একটি সীমান্ত বন্দর বাংলাবান্ধা। সোমবার পর্যন্ত যাত্রী চলাচল বন্ধ থাকলেও এই বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন করা হতো।

তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার কারণে এই সংক্রমণ বেড়েছে বলে তিনি মনে করেন না। যুক্তি হিসাবে তিনি বলছেন, রোববার পর্যন্ত এই জেলার সীমান্ত বন্দর বন্ধই ছিল, সোমবার থেকে সেটি চালু হয়েছে। ''

সিভিল সার্জন ডা. মোঃ ফজলুর রহমান জানাচ্ছেন, টেস্ট কম হচ্ছে, ফলে সংক্রমণের হার বেশি দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে জেলায় বা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অনেক কম।

''মানুষ শেষ মুহূর্তে টেস্ট করতে আসছে, যখন খুব বেশি সমস্যা দেখছে, তখন টেস্ট করতে আসছে। তখন পজিটিভ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তবে আমাদের জেলায় ৫০/৬০ জন করে রোগী ভর্তি থাকতো। এখন আমাদের হাসপাতালে ভর্তি আছেন সাত/আটজন।''

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দল পঞ্চগড়ে

আশেপাশের অন্যসব জেলায় যেখানে সংক্রমণের হার কমে আসছে, তখন উত্তরের সীমান্তবর্তী এই জেলায় উচ্চহারে সংক্রমণ ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

এর কারণ অনুসন্ধান করতে বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বিবিসি বাংলাকে বলছেন, আসলে তিন-চারটি জেলায় আমরা এরকম দেখতে পেয়েছি। মুন্সীগঞ্জ, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া- এসব জেলায় আমাদের টিম কাজ করছে।

তিনি বলছেন, কেন এই জেলায় সংক্রমণের হার বেশি, সেটি বোঝার জন্য স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল সেখানে পাঠানো হয়েছে।

সিভিল সার্জন মোঃ ফজলুর রহমান জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিনে আবার সংক্রমণের হার কমতে শুরু করেছে।

সচেতনতা আর সুরক্ষার বিকল্প নেই

বাংলাদেশে এর আগেও অন্যান্য জেলার তুলনায় নারায়ণগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সাতক্ষীরা ইত্যাদি জেলায় করোনাভাইরাসের উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের হার দেখা গেছে।

সেসময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সচেতনতার অভাবের পাশাপাশি কোন কোন জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে এবং ভারতে মানুষজনের চলাচলকে দায়ী করেছিলেন। সেসব জেলায় ভারতীয় ভ্যারিয়্যান্টও পাওয়া গিয়েছিল।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যায়নি, ফলে বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণ বেশি কম হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেজন্য প্রত্যেকের ব্যক্তিগতভাবে সতর্ক হওয়ার বিকল্প নেই।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ভাইরোলজিস্ট নুসরাত সুলতানা লিমা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ''করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কিন্তু এখনো পাঁচের নীচে আসেনি। অন্তত চার সপ্তাহ পাঁচের নীচে না থাকলে আমরা বলতে পারবো না যে, দ্বিতীয় ওয়েব নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন বিভিন্ন জেলায় বাড়তে দেখা যাচ্ছে, ঢাকাতেও হয়তো বাড়তে পারে।''

''টিকা কিন্তু করোনাভাইরাস পুরোপুরি ঠেকাতে পারবে না। টিকা নেয়ার পরেও অনেককে আমরা আক্রান্ত হতে দেখছি। ফলে এর একটাই বিকল্প আছে, স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলা, নিজে সচেতন হওয়া,'' তিনি বলছেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

পাঁচ ধরণের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমেছে

তিন দেশের হঠাৎ সাবমেরিন চুক্তিতে কঠোর বাস্তবতার মুখোমুখি ফ্রান্স

ছড়িয়ে পড়ছে 'চায়না দুয়ারী' - মৎস সম্পদের জন্য কেন এটি বিপজ্জনক?

পুরুষেরা যেসব অসুখ নিয়ে লজ্জা ও সংকোচ বোধ করেন

BBC
More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+