করোনা এখন চিনে ছড়াচ্ছে, আবার ভয়ের উত্থান বিশ্বজুড়ে! কী ঘটতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে
করোনা এখন চিনে ছড়াচ্ছে, আবার ভয়ের উত্থান বিশ্বজুড়ে! কী ঘটতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে
করোনার তৃতীয় ঢেউ কেটে যাওয়ার পর অনেকটাই ভীতি দূর হয়েছিল বিশ্বে। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে করোনার বাড়বাড়ন্ত এতটাই হতে শুরু করেছে যে, আবারও ভয়ের উত্থান হয়েছে। আর এই ভয়ের উত্থানকে প্রবলভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে চিনে করোনার প্রকোপ।

চিনে করোনার ব্যাপকভাবে ছড়াতে শুরু করায় আমেরিকা, ব্রাজিল, জাপান, কোরিয়া-সহ অনেক দেশই আতঙ্কে রয়েছে। ভারতেও প্রবল ভীতির সঞ্চার করেছে করোনা ভাইরাস ও লকডাউন। কী ঘটতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
চিনে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মানুষের বাস। এই বিপুল সংখ্যক লোক সংক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেখানে তা দ্রুর বিস্তার ঘটচে। এবং একসঙ্গে বেশি সংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। গত কয়েক সপ্তাহে চিনে করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্তে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে চিনে এক মিলিয়ন বা ১০ লক্ষের বেশি মানুষ মহামারীর বলি হতে পারেন।
চিনে প্রতিদিন করোনার ফলে মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। সম্প্রতি সংবাদসংস্থার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ মোট মৃতের সংখ্যা ৫২৪২-এ পৌঁছে গিয়েছে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার করে সংক্রমণ হচ্ছে। এই সংখ্যা কয়েক সপ্তাহ আগে রিপোর্ট করা প্রায় ৪০ হাজার দৈনিক সংক্রমণের তুলনায় যথেষ্ট কম। তা সত্ত্বেও বেশ কিছু গণমাধ্যম চিনের হাল করোনায় খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে বলে জানিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে না।
চিনে বিগত কয়েকমাস ধরে লকডাউনের জেরে জনগণ প্রবল বিক্ষোভ দেখানোয় বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। যার ফলে দৈনিক সংক্রমণ বৃদ্ধি পা্চ্ছে। সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়েও পড়ছে। ডিসেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে। যদিও অফিসিয়ালি দৈনিক সংখ্যা অনেক কম।
চিন গত তিন বছর ধরে শূন্য কোভিড নীতি অনুসরণ করে আসছিল। যার ফলে কোনও ঊর্ধ্বগতির মোকাবিলা করতে হয়নি। বিধিনিষেধে মুড়ে রাখা হয়েছিল দেশকে। উপসর্গহীনদেরও বাধ্যতামূলক ছিল হাসপাতালে ভর্তি। ছোটো আকারে সংক্রমণ হলেও কঠোর লকডাউন জারি করা হয়েছিল চিনে। কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে বিদেশি ভ্রমণকারীদের। ১০ দিন বিচ্ছিন্ন থাকারপর পুনরায় টেস্টে নেগেটিভ এলে তাঁদের প্রবেশাধিকার মিলছিল।
এই ব্যবস্থা মানুষের কাছে বেদনাদায়ক হয়ে উঠছিল। তার ফলেই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছিল। আর তা করতে গিয়েই সংক্রমণ মাত্রা হয়েছিল আকাশচুম্বী। এই বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে চিনে প্রথমবারের সংক্রমণ হতে শুরু করেছিল উচ্চগতিতে। চিনে প্রভাবশালী ভাইরাস স্ট্রেন হল বিএফ.৭। এটি ওমিক্রনের একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট। বর্তমানে ৫০০টিরও বেশি সাব ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বে।
চিনের এই বাড়বাড়ন্ত বিশ্বের জন্য উদ্বেগ। যদিও ঢেউ চিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে আশঙ্কা যাচ্ছে না কিছুতেই। কেননা চিন থেকে অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। কারণ আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এখন প্রায় প্রাক-কোভিড স্তরে ফিরে এসেছে। ফলে আরও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে করোনা।












Click it and Unblock the Notifications