ঋণের টোপ দিয়ে দেশ কিনছে চিন! সারা বিশ্বে এভাবেই ছড়িয়ে বেজিংয়ের ৬৮টি কাঠপুতুল
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ব ব্যাঙ্ককে টেক্কা দিয়েছে চিন। হ্যাঁ, ৬৮টি উন্নয়নশীল ছোটো দেশকে এই ঋণের টোপ দিয়েই নিজেদের হাতের মুঠোয় রেখেছে চিন। শুধু তাই নয়, গত ৪ বছরে এই ঋণের পরিমাণ দুই গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে চিন। অর্থাৎ, এই দেশগুলি চিনের ঋণের বোঝায় আরও নুইয়ে পড়েছে।

চিনের ব্যবসায়িক চাল
আপাতত দৃষ্টিতে উন্নয়নশীল দেশকে ঋণ দেওয়া চিনের মহানুভব হিসাবে দেখা যেতে পারে। তবে আসল কথা এই বিশাল ঋণের বোঝা থেকে কখনই নিজেদের বের করতে সক্ষম হবে না এই ছোট দেশগুলি। তখন এই দেশগুলি বকলমে চিনের কাঠপুতুল হয়ে দাঁড়াবে। অনেক ক্ষেত্রএই করোনার প্রকোপে এই দেশগুলি পুরোপুরি চিনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

১০১.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে চিন
চিন এই সব ছোটো দেশগুলিকে ইতিমধ্যেই ১০১.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। বিশ্ব ব্যাঙ্ক সেখানে এই দেশগুলিকেই ১০৩.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। অর্থাৎ প্রায় বিশ্ব ব্যাঙ্কের সমান পরিমাণ ঋণ দিয়েছে চিন। বা আরও সঠিকভাবে বলতে হলে বলা যায় বিশ্ব ব্যাঙ্কের দেওয়া ঋণের ৯০ শতাংশ ঋণ চিন দিয়েছে।

ঋণের বোঝায় ঝুঁকে পড়েছে এই ৬৮টি দেশ
এই ৬৮টি দেশের মধ্যে ২৬টি দেশের ঋণের পরিমাণ ইতিমধ্যেই তাদের জিডিপির ৫ শতাংশেরও বেশি। ১৪টি দেশ এমন আছে যাদের জিডিপির ১০ শতাংশ পরিমাণকে অতিক্রম করে গিয়েছে চিনের দেওয়া এই ঋণ। আফ্রিকার দেশ জিবৌটির তো জিডিপির ৩৯ শতাংশ পরিমাণ চিনের দেওয়া ঋণ। এর মাধ্যমে চিন আরও যেটা করছে তা হল, ডলারের পাশাপাশি তাদের মুদ্রা ইউয়ানের গ্রহণযোগ্যতা বাজারে বাড়াচ্ছে।

ঋণের উপর চড়া সুদের হার
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ০.৬ শতাংশ প্রতি বছর বা বিশ্ব ব্যাঙ্কের ১ শতাংশ প্রতি বছরের তুলনায়, চিনের দেওয়া ঋণের পরিমাণ হয় ৩.৫ শতাংশ। যা ধীরে ধীরে এই দেশগুলিকে ঋণের জালে ফেঁসে যেতে বাধ্য করে। এরপরই চিনের কথা মতো সেই দেশগুলি উঠতে বসতে বাধ্য হয়। যেমন ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা বন্দরটি চিনকে ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিতে বাধ্য হয় সেদেশটি।

পিওকে-তে চিনা ড্রিম প্রোজেক্ট
এই কারণেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বাল্টিস্তান অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা একটু একটু করে পাকিস্তান চিনকে 'দান' করেছে। এই অঞ্চলের এই এলাকাগুলি চিনের হাতে তুলে দেওয়ার মূল লক্ষ্য ছিল চিন-পাকিস্তান ইকনমিক করিডোরের রাস্তা আরও মসৃণ করা। ৩২১৮ কিলোমিটার লম্বা এই করিডোর আদতে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের 'ড্রিম প্রোজেক্ট।' এভাবেই অন্য একটি দেশে নিজেদের ইচ্ছা মতো প্রোজেক্ট তৈরি করছে চিন। এই একই রকম ইকোনমিক করিডোর তৈরি হচ্ছে মায়ানমারেও।

করোনা আবহে বাণিজ্য যুদ্ধ
এদিকে বিশ্বজুড়ে করোনা প্রকোপে ধসে পড়েছে অর্থনীতি। করোনা মহামারী এমন এক সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যে পড়ে বিশ্ব বাণিজ্য হুমকির মুখে। মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ গুরুতর অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে এই মহামারীর জেরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এটিই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সময় সমগ্র বিশ্বের জন্য। অবশ্য বাণিজ্যযুদ্ধ ছাড়িয়ে এখন উত্তেজনা ছড়িয়েছে সীমান্তে, সমুদ্রে, সব স্থানেই।

প্রকোপ শেষে দাঁড়িয়ে থাকবে শুধুমাত্র চিন?
যখন এই প্রকোপ শেষ হবে, তখন কী শুধু চিনই বীরদর্পে দাঁড়িয়ে থাকবে? এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর গোটা বিশ্বে ২৬ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত এই সংক্রমণে। আমেরিকা, যে কী না বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী দেশ, এই করোনার জেরে নুইয়ে পড়েছে। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ এখন সেটি। এরপরই তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল ও ভারত। চিনের প্রতিবেশী দেশ এখন করোনা আবহে দাবার ঘুঁটি হয়ে গিয়েছে। লাদাখ নিয়ে বাড়তে থাকা চাপানউতোরের মাঝেই আমেরিকা ভারতকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে যুদ্ধ যদি বাঁধেই তবে এই ঋণগ্রস্ত দেশগুলি তখন চিনের ইশারায় নাঁচতে বাধ্য হবে।












Click it and Unblock the Notifications