মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন গণহত্যার সামিল, ঘোষণা করতে চলেছে আমেরিকা
মায়ানমারে রোহিঙ্গা নিপীড়ন গণহত্যার সামিল, ঘোষণা করতে চলেছে আমেরিকা
দীর্ঘদিন ধরেই মায়ানমারে (myanmar) রোহিঙ্গা ( rohingya) জনগোষ্ঠীর ওপরে নিপীড়ন চালাচ্ছে সেখানকার সামরিক প্রশাসন। যার জের বহু মানুষ সংলগ্ন বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকে আবার ঢুকেছে ভারতে। তবে সেখানে ২০১৭ সাল থেকে যে নিপীড়ন (repression) চলেছে, সেই ঘটনাকে গণহত্যার সঙ্গেই তুলনা করছে আমেরিকার। বাইডেন প্রশাসন খুব তাড়াতাড়ি মায়ানমারের ঘটনাকে গণহত্যা বলে ঘোষণা করতে চলেছে বলেই জানিয়েছেন সেখানকার আধিকারিকরা।

এখনও প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাইডেন প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেক্রেটারি অফ স্টেন অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউডিয়ামে এব্যাপারে কিছু ঘোষণা করতে পারেন বলে আশা করা হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে প্রকাশ্যে কিছুই ঘোষণা করা হয়নি। তবে আমেরিকার সম্ভাব্য পদক্ষেপকে ইতিমধ্যেই স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রাট সদস্য জেফ মার্কলে। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে নৃশংসতা চলছে, সেই ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য তিনি বাইডেন প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাতে চান। মানবাধিকার সংগঠন রিফিউজিস ইন্টারন্যাশনালও মার্কিন সরকারের সম্ভাব্য এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে।

২০১৭ সাল থেকে শুরু হয়েছে অভিযান
২০১৭ সাল থেকে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সেখানকার সামরিক সরকার। সেই সময় অনেকেরই মৃত্যু হয়। আবার অনেকে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী ভারত কিংবা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। ওই ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্তরে মিয়ানমারের ওপরে নিষেধা়জ্ঞা আরোপ করে আমেরিকার। সেক্ষেত্রে আমেরিকার এই অবস্থান নতুন কিছু নয়।

অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে মিয়ানমার
তবে আমেরিকার ওই ঘোষণার জেরে মিয়ানমারের সামরিক সরকার অতিরিক্ত আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে পারে। কেননা হেগের আন্তর্জাকি আদালতে ইতিমধ্যেই মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মানবাধিকার সংগঠনগুলি এবং সেখানকার আইনপ্রণেতারা ট্রাম্পের পরে বাইডেনের ওপরেও চাপ তৈরি করছেন বিষয়টি নিয়ে। এক মার্কিন সেনেটর মার্কলে বলেছেন, আমেরিকাকে নিশ্চিত করতে হবে, বিশ্বের কোথাও যেন এই ধরনের নৃশংসতা না ঘটে। এই ধরনের কোনও ঘটনাই যাতে ধামা চাপা পড়ে না যায় সেই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রায় সাতলক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে
২০১৭ সালের অগাস্টে সামরিক অভিযানের পর থেকে প্রায় ৭ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ২০১৭ সালে সেখানকার সামরিক প্রশাসন অভিযান শুরু করেছিল একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর আক্রমণের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে। তারপর থেকে সেখানকার সামরিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে হাজার হাজার বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications