পাকিস্তানে ফের টার্গেট কিলিং! অজ্ঞাত পরিচয়ের গুলিতে মৃত্যু সরবজিৎ সিংয়ের খুনি ও হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠের
পাকিস্তানে ফের এক টার্গেট কিলিং। সেখানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় বন্দি সরবজিৎ সিংকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আমির সরফরাজ তম্বাকে লাহোরে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত পরিচয় বন্দুকধারীরা। আমির সরফরাজ তম্বা লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা এবং ছাব্বিশ এগারোয় মুম্বই সন্ত্রাসবাদী হামলার মাস্টার মাইন্ড হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। পাকিস্তানের লাহোরের ইসলামপুরা এলাকায় আমির সরফরাজ তম্বার ওপরে হামলা চালায় বেশ কয়েকজন বাইক আরোহী হামলাকারী।
আমির সরফরাজ তম্বাকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আমির সরফরাজ তম্বার বাবা সরফরাজ জাভেদও লস্কর প্রতিষ্ঠাতার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেখানকার লক্ষপত কারাগারে থাকা সরবজিৎ সিংয়ের ওপরে আমির সরফরাজ তম্বা এবং অন্য বন্দিরা হামলা চালিয়েছিল। ইট ও লোহার রড দিয়ে সেই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ ছিল। প্রায় একসপ্তাহ সংজ্ঞাহীন থাকার পরে ২০১৩ সালের দোসরা মে লাহোরের জিন্না হাসপাতালে সরবজিৎ সিংয়ের মৃত্যু হয়।

প্রসঙ্গত পঞ্জাবের ভিখিবিন্দের বাসিন্দা সরবজিৎ সিং দুর্ঘটনাবশত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাকিস্তানে চলে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁকে ১৯৯০ সালে পঞ্জাব প্রদেশে হওয়া বোমা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও সেই অভিযোগ বারে বারে অস্বীকার করেছে ভারত সরকার।
পাকিস্তানের জেলে ২০ বছরের বেশি সময় কাটিয়েছিলেন সরবজিৎ সিং। তাঁর বোন দলবীর কাউর ভাইকে সেখান থেকে মুক্ত করতে আইনি লড়াই করেছিলেন। তিনি বারে বারেই বলেছিলেন, সরবজিৎ সিং নির্দোষ। ভুল বশত পাকিস্তানে চলে যাওয়ায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দলবীর কাউরও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন।
মৃত্যুর আগে সরবজিৎ সিং আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁকে জেলের মধ্যে স্লো পয়জনিং করা হচ্ছে। ব্যথার ওষুধ চাইলে, জেল কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। জেলে তাঁকে নির্জন সেলে রাখার অভিযোগও করেছিলেন সরবজিৎ সিং।
গত সপ্তাহে দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনে ভারত বিদেশের মাটিতে বসবাসকারী জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করার নীতির অংশ হিসেবে ২০২০ সাল থেকে কমপক্ষে ২০ জনকে হত্যা করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই প্রতিবেদন নিয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া না জানালেও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, দেশের শান্তি বিঘ্নিত করার পরে যে কেউ পাকিস্তানে পালিয়ে গেলে ভারত তাকে হত্যা করবে। পাকিস্তান এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়।












Click it and Unblock the Notifications