ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে টিএসসিতে কাওয়ালি গানের আসরে হামলার অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাওয়ালি গানের আসরে হামলা চালিয়ে আসরটি বানচাল করা হয়েছে এবং এজন্য অভিযোগ করা হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কাওয়ালি গানের আসরে হামলা চালিয়ে আসরটি বানচাল করা হয়েছে এবং এজন্য অভিযোগ করা হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।
হামলার সময় আয়োজক ও শিল্পীদের মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই অনুষ্ঠানে কাওয়ালি ব্যান্ড 'সিলসিলা'র গান পরিবেশন করার কথা ছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আয়োজকেরা বলছেন, বিকেলে যখন অনুষ্ঠানের সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে লোকজনের আসার কথা, তারা আসতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বলে যে তাদের আসতে মানা করা হয়েছে।
এরপর একটি দল এসে প্রথমে 'আগুন আগুন' বলে সোরগোল তোলে। কিন্তু যখন দেখা গেল যে সত্যি সত্যি আগুন লাগেনি, তখন আবার অনুষ্ঠান শুরুর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তখন একদল ছাত্র এসে অতর্কিতে হামলা চালায়।
তারা মঞ্চ ভেঙে ফেলে, বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর করে, এবং অতিথিদের জন্য রাখা প্লাস্টিকের চেয়ারও ভাঙচুর করে।
এসময় শিল্পী এবং আয়োজকদের মারধর করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া সে সময় উপস্থিত কেউ কেউ ভাঙচুরের দৃশ্য ভিডিও করতে গেলে তাদের কয়েকজনের ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আরো পড়তে পারেন:
টিকা নেবার পরও লোকে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছে কেন?
আরো একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
সরকারি ওয়েবসাইটে করোনা সংক্রমণের রেড জোনে ঢাকা ও রাঙ্গামাটি
আয়োজনকারীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাওয়ালির এই আসরের আয়োজন করেছিল।
তাদের একজন মীর হুযাইফা আল মামদূহ অভিযোগ করেছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে।
কিন্তু ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন হামলা চালানো কিংবা বাধা সৃষ্টি এবং হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি দাবি করেছেন, ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।
বিষয়টি কাওয়ালি আয়োজকদের নিজেদের ভেতরকার মতবিরোধের জন্য ঘটে থাকতে পারে বলে মি. হোসেনের দাবি।
আয়োজকরা বলেছেন, হামলার সময় কোন সংগঠনের নাম ধরে স্লোগান দিয়ে হামলা চালানো হয়নি। কিন্তু তাদের অভিযোগ যে অনুষ্ঠানটি যাতে না হয়, সেজন্য বুধবার দুপুর থেকে নানাভাবে তাদের চাপ দেয়া হচ্ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথমবারের মতো কাওয়ালি গানের কনসার্ট আয়োজন করা হয়েছিল। আয়োজকেরা বলেছেন, অনুষ্ঠানটি করার জন্য আরো দুই সপ্তাহ আগে অনুমতি নেয়া হয়েছিল।
কিন্তু হঠাৎ করে বুধবার দুপুরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কথা বলে তাদের অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র টিএসসি কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী বিবিসিকে বলেছেন, অনুষ্ঠানের অনুমতি আগে নেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ফলে আজই আয়োজকদের অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে বলা হয়।
আয়োজকেরা বলছেন, তাদের অনুমতি বাতিল করা হয়নি, এবং তাদের লিখিতভাবে কোন নির্দেশনাও দেয়া হয়নি, সেজন্য তারা অনুষ্ঠান চালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ ও সতর্কতা ১৩ই জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে তারা অনুষ্ঠান বাতিল করেননি। আয়োজকরা বলছেন, আজই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো দুটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে, সেগুলোও বাতিল করেনি কর্তৃপক্ষ।
প্রোক্টর বলেছেন, অভিযোগ পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, এবং নিষেধ করার পরও অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়া এবং হামলা দুইটি বিষয়টি-ই তারা তদন্ত করবেন।














Click it and Unblock the Notifications