চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে খালে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবকের মৃত্যু
বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরে চুরির সন্দেহে উত্তেজিত জনতার তাড়া খেয়ে পালাতে গিয়ে খালে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যু হলো এক হিন্দু যুবকের। মৃতের নাম মিঠুন সরকার (২৫)। বুধবার পুলিশ সূত্রে এই ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। নওগাঁ পুলিশের সুপার মহম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর সহায়তায় খাল থেকে দেহ উদ্ধার করা হয়েছে ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
এই মৃত্যুর ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলা ও জনরোষের ঘটনা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশটি প্রথম সংসদীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তার মধ্যেই একের পর এক হিংসাত্মক ঘটনার খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকায় স্থানীয়দের একাংশ মিঠুন সরকারকে চুরির অভিযোগে ধাওয়া করে। প্রাণভয়ে তিনি পাশের খালে ঝাঁপ দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশে হিন্দুদের লক্ষ্য করে হামলার ধারাবাহিকতা চোখে পড়ছে। নরসিংদী শহরে সোমবার রাতে ধারালো অস্ত্রের হামলায় খুন হন ৪০ বছরের মুদি দোকানি শরৎ মণি চক্রবর্তী। ব্যস্ত বাজারে দোকান চালানোর সময় অজ্ঞাত পরিচয় হামলাকারীরা তাঁকে গুরুতর জখম করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কিংবা ভর্তি হওয়ার পরপরই তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যশোর জেলায় গুলিতে নিহত হন ৪৫ বছরের এক কারখানা মালিক ও সংবাদপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রানা প্রতাপ। মাথায় গুলি করে এবং গলা কেটে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ছিল।
এর আগে ৩ জানুয়ারি খোকন চন্দ্র দাস (৫০) নির্মম হামলায় আহত হয়ে পরে মারা যান তাঁকে কুপিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে অমৃত মণ্ডল নামে আরেক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার ঘটনাও সামনে আসে।
এই ধারাবাহিকতার সূচনা ধরা হচ্ছে গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি। ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ১৮ ডিসেম্বর গুজবের জেরে 'ধর্ম অবমাননা'র অভিযোগ তুলে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তদন্তে সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।
সংখ্যালঘুদের উপর এই হামলা নিয়ে ভারতও বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জনতার হাতে আইন তুলে নেওয়া এবং গোপন হামলা বাংলাদেশের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় সংকট হয়ে উঠছে। ২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ হিন্দু বসবাস করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ।
একাধিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রশ্ন তুলছে আইনের শাসন ও সংখ্যালঘু সুরক্ষায় রাষ্ট্র কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছে।












Click it and Unblock the Notifications