সাশ্রয়ী হবে জাইকোভ–ডি, সেপ্টেম্বরের শেষে ভারত পাবে এই ভ্যাকসিন, আশ্বাস জাইডাসের
সাশ্রয়ী হবে জাইকোভ–ডি, সেপ্টেম্বরের শেষে ভারত পাবে এই ভ্যাকসিন, আশ্বাস জাইডাসের
ভারতের নিজস্ব দ্বিতীয় কোভিড–১৯ ভ্যাকসিন জাইকোভ–ডি প্রযুক্তি, ক্ষমতা ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এর মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তা আয়ত্তের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছেন জাইডাস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডঃ শর্ভিল প্যাটেল। প্রসঙ্গত এই সংস্থাই ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে। গত ২০ অগাস্ট ভারতের ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলের বা ডিজিসিআই–এর কাছ থেকে জরুরী ব্যবহার অনুমোদন পেল জাইডাস ক্যাডিলার তৈরি কোভিড টিকা জাইকোভ-ডি। ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিনের পর এটাই স্বদেশীয় দ্বিতীয় করোনা ভ্যাকসিন।

মূল্য নির্ধারণ হয়নি
প্যাটেল বলেন, 'সরকারের সঙ্গে আলোচনা করার পরই জাইকোভ-ডি-এর মূল্য নির্ধারণ করা হবে। প্রযুক্তি, ক্ষমতা এবং পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে এই ভ।আকসিনের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।' প্যাটেল আশ্বস্ত করেছেন যে ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত মূল্য সাধ্যের মধ্যে হবে। তিনি বলেন, 'পুরো মহামারিতে জাইডাস সাশ্রয়ী মূল্যে থেরাপিউটিক্স, ডায়গনোস্টিক ও প্রতিরোধক সরবরাহ করেছে এবং জাইকোভ-ডি সেখান থেকে আলাদা হবে না।'

১২–১৭ বছর বয়সী শিশুদের ওপর প্রয়োগ করা হবে
জাইকোভ-ডি এটি বিশ্বের প্রথম ডিএনএ ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে, যা ভারতে ১২-১৭ বছর বয়সীদের ওপর প্রয়োগ করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংস্থা ইতিমধ্যেই ৩০-৫০ লক্ষ ডোজ মজুত করে রেখেছে তবে তার গুণগত মান ও সুরক্ষা অনমোদিত গবেষণাগারে পরীক্ষা হওয়ার পরই তা সরবরাহ করা হবে। প্যাটেল অবশ্য বলেছেন, 'সেপ্টেম্বরের শেষে আমরা ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ সরবরাহ হওয়া দেখতে পারব।' বর্তমানে জাইডাস ক্যাডিলার লক্ষ্য হল প্রত্যেক বছর ১০-১২ কোটি ডোজ উৎপাদন করার।

তিনটে ডোজের ভ্যাকসিন
বর্তমানে এই ভ্যাকসিনের তিনটে ডোজ নিতে হবে, প্রথম ডোজ, ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ ও ৫৬ দিন পর তৃতীয় ডোজ নিতে হবে। তবে প্যাটেল জানিয়েছেন যে সংস্থা পরিকল্পনা করেছে যে দুটি ডোজের ভ্যাকসিনের জন্য তারা অনুমোদন চাইবে সরকারের কাছ থেকে। তবে এই ভ্যাকসিনের সঠিক সময়রেখা প্রকাশ করেনি সংস্থা। তিনি বলেন, 'জাইকোভ-ডি-এর ট্রায়ালের সময় সংস্থা ৩ মিলিগ্রাম ডোজ ব্যবহার করে একটি দুই ডোজ পদ্ধতিও মূল্যায়ন করেছিল এবং ইমিউনোজেনিসিটি ফলাফলগুলি বর্তমান তিনটি ডোজ পদ্ধতির সমতুল্য বলে প্রমাণিত হয়েছিল।'

৬৬.৬ শতাংশ কার্যকার
প্লাজমিড ডিএনএ প্ল্যাটফর্মে তৈরি এই তিন ডোজের ভ্যাকসিন কোভিড-১৯ উপসর্গে ৬৬.৬ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা। যদিও এই বিশ্লেষণের এখনও পিয়ার-রিভিউ হয়নি। প্যাটেল বলেন, 'আমাদের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এখনও চলছে, আমরা অন্তর্বর্তী বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রিপোর্ট প্রস্তুত করছি এবং শীঘ্রই এটি একটি স্বনামধন্য জার্নালে প্রকাশের জন্য জমা দেব।'

জাইকোভ–ডি কীভাবে কাজ করবে
ভারত সরকারে বায়োটেকনোলজি বিভাগের বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিসটেন্স কাউন্সিল এবং জাইডাস ক্যাডিলার যৌথ উদ্যোগে বিকশিত এই ভ্যাকসিনটি কার্যকর হওয়ার জন্য ৩টি ডোজ প্রয়োজন। এই টিকা মানব শীররে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন উৎপন্ন করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে। এটি একদিকে রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়, পাশাপাশি ভাইরাল লোড ক্লিয়ারেন্সেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, ডিএনএ ভিত্তিক এই টিকা সহজেই ভাইরাসের মিউটেশনেরও মোকাবেলা করতে পারে বলে দাবি করছে সংস্থা।

২৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৩ মাস ভালো থাকবে জাইকোভ–ডি
বর্তমানে স্কুল খোলার সম্ভাব্য বিকল্পের জন্য জাইকোভ-ডি গুরুত্বপূর্ণ ভ্যাকসিন হিসাবে বিবেচ্য হতে পারে। সংস্থা কীভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ শুরু করার পরিকল্পনা করছে জানতে চাইলে প্যাটেল বলেন যে তারা লজিস্টিক পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে। প্যাটেল এও জানিয়েছেন যে তাঁরা আশা করছেন সেপ্টেম্বরের শেষে তাঁরা এই ভ্যাকসিনের সরবরাহ শুরু করে দিতে পারবেন এবং জাইকোভ-ডি ২৫ ডিগ্রিতেও ৩ মাস পর্যন্ত ভালো থাকবে বলেও জানান তিনি।












Click it and Unblock the Notifications