মিথ্যা বলছেন যোগী আদিত্যনাথ, মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন - ধৈর্যের বাধ ভাঙল ডাক্তারের
ড. কাফিল খান সোমবার অভিযোগ করেন যোগি আদিত্যনাথ গোরক্ষপুর শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ওই ঘটনায় কোনও অক্সিজেনের অভাব ছিল না।
২০১৭ সালের গোরক্ষপুরের হাসপাতালে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী রাজনীততি করছেন। ভুল তথ্য দিয়ে মানুষকে ভুলপথে চালনা করছেন। অবশেষে নীরবতা ভেঙে সাংবাদিক সম্মেলন করে এভাবেই যোগী আদিত্যনাথকে বিধলেন ডা. কাফিল খান। আদিত্যনাথের নির্দেশেই তাঁকে ওই ঘটনায় দায়ী করে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

সোমবার সাংবাদিকদের সামনে ডা. কাফিল খান বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী ভুল কথা বলছেন। অক্সিজেন সাপ্লায়াররা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে জানিয়েছিল তাদের বকেয়া না মেটালে অক্সিজেন সরবরাহ করা হবে না।'
২০১৭ সালের জুলাই মাসে উত্তরপ্পরদেশের গোরক্ষপুরে বাবা রাঘব দাস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে ৬০ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। অবশ্য প্রথম থেকেই অক্সিজেনের অভাবের কথা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দাবি করেছিলেন জাপানী এনসেফালাইটিসের জন্যই শিশুদের মৃত্যু হয়েছে।
গত শনিবারও এক অনুষ্ঠানে আদিত্যনাথ যুক্তি দেন অক্সিজেনের অভাব ঘটলে ভেন্টিলেটরে রাখা শিশুদের আগে মৃত্যু ঘটত। কিন্তু তা ঘটেনি। তিনি দাবি করেন হাসপাতালের ডাক্তারদের ভেতরের রাজনীতির জন্যই ওই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। এমনকী এরজন্য নাকি ডাক্তারদের আলাদা করে কাইন্সেলিং-ও করাতে হয়।

এতদিন যোগীর বিরুদ্ধে ডা. কাফিল খানের মুখে একটি শব্দও শোনা যায়নি। কিন্তু এতদিনে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল। সরাসরি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর 'মিথ্যাভাষণ'-এর বিরুদ্ধে মুখ খুললেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন জাপানী এনসেফালাইটিসে শিশুমৃত্যুর যে তত্ত্ব যোগী দিচ্ছেন, তা সঠিক নয়। কারণ শিশুদের এনসেফালাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছিলেন ঘটনার দিন ডা. কাফিল খান নিজের উদ্যোগে ওইদিন অক্সিজেনের ব্যবস্থা করে অনেক শিশুর প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু যোগি সরকার তাঁর বিরুদ্ধে প্রাইভেট প্র্যাকটিশ করা, হাসপাতালে বেআইনি অক্সিজান চক্র চালানো, দুর্নীতির মতো অভিযোগ আনে। দীর্ঘ সাতমাস জেলেই কাটিয়ে গত এপ্রিল মাসের শেষদিকে তিনি জামিন পান।












Click it and Unblock the Notifications