ভোটে জিতে 'গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা' বজায় রাখবে বিজেপি? বাড়ছে জল্পনা
ভোটে জিতে 'গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনা' বজায় রাখবে বিজেপি? বাড়ছে জল্পনা
৫রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মাত্র ২৪ ঘন্টা আগেই। প্রত্যাশা অনুযায়ী বেশ ভালোই ফল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুর এবং পাঞ্জাবের মধ্যে শুধুমাত্র পাঞ্জাব চলে গিয়েছে আম আদমি পার্টির হাতে। কিন্তু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রথম চার রাজ্য, অর্থাৎ উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, মণিপুরে ফের একবার বিজেপি সরকার গঠন হয়েছে। কিন্তু এইবারের এইসব রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল কৃষকদের বিক্ষুব্ধ মনোভাব। এবং বিতর্কিত ৩টি কৃষি আইন নিয়ে টানাপড়েন। তবে সেই সব খুব একটা ধোপে টেকেনি এই মেগা বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে, তা ফলাফল থেকেই কার্যত স্পষ্ট। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে বিজেপির ৪রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে এই জয়লাভের পর জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে আগামীতে কী ব্যবস্থা নিতে চলেছে কেন্দ্র।

বিনামূল্যে খাদ্য বণ্টন
এই মুহূর্তে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল সমাজের দুঃস্থ এবং আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য বণ্টন করা। উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুরে বিজেপির ক্ষমতায় ফিরে আসার পরে কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি নিয়ে, বিশেষত এই মাসের পরেও দরিদ্রদের বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ অব্যাহত রাখা হবে কিনা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। কারণ পিএম গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার বর্তমান সময়সীমা শেষ হয়ে যাচ্ছে আগামী ৩১ মার্চ। তারপরেও এপ্রিল থেকে এই প্রকল্প পুনরায় বহাল করা হবে কিনা তা নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক।

শস্য মজুতের উদ্যোগ
সূত্রের খবর, ভারতের খাদ্য নিগম অর্থাৎ ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার বা এফসিআই-এর সঙ্গে অতিরিক্ত গম এবং চালের বিষয়টি নিয়ে বিশেষ পর্যায়ে আলোচনাও করা হয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে। আর সেক্ষেত্রে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে জানা গিয়েছে যে, অতিরিক্ত চাল ও গমের বিষয়টি নিয়ে সরকার নতুন সংগ্রহের জন্য উদ্যোগ নিয়েছে। এবং এফসিআই গোডাউন গুলিতে যাতে পর্যাপ্ত পরিমানে শস্য মজুত করে রাখা যায় সেই কারণে আরও জায়গা খালি করার জন্য অতিরিক্ত স্টক রপ্তানি সহ বিভিন্ন বিকল্পের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে এই নয়া উদ্যোগ আগামী মাসের প্রথম থেকেই শুরু হয়ে যাবে।

খাদ্য নিগমের পরিসংখ্যান
ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার কাছে এই মুহূর্তে যে পরিমান খাদ্য শস্য মজুত আছে তার পরিমাণ হল প্রায় ৫২০ লক্ষ টন। এই বিপুল পরিমান খাদ্য শস্যের মধ্যে ২৪০ লক্ষ টনের কাছাকাছি গম এবং বাকি ২৮০ লক্ষ টন চাল মজুত রয়েছে। তাই ভারতীয় খাদ্য নিগমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার যদি বিনামূল্যে চাল, গম বা শস্য দেওয়ার এই কল্যাণ মূলক প্রকল্পটি চালিয়ে যায়, তাহলে খুব একটা সমস্যা দেখা দেবেনা। ভাঁড়ারে পড়বে না টানও। যেটা বেশ স্বস্তির কারণ হতে পারে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

খাদ্য বণ্টনের পরিমাণ
এই বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে কোভিড ত্রাণ প্যাকেজের অংশ হিসাবে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষদের মধ্যে প্রায় ২১ লাখ টন গম এবং চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল। যার মধ্যে কেন্দ্রের ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৬,০০০কোটি টাকা। এছাড়াও পিএম গরীব কল্যাণ অন্ন যোজনার অধীনে, 'বিপিএল' চিহ্নিত দরিদ্রদের প্রতি মাসে ৫ কেজি বিনামূল্যে খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়। তাই মনে করা হচ্ছে এবারেও সেই প্রকল্প বজায় রাখতে চলেছে কেন্দ্র।












Click it and Unblock the Notifications