বিয়ের পর স্ত্রীর দাবিকে নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না! গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের

বিয়ের পর স্ত্রীর দাবিকে নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না! গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বম্বে হাইকোর্টের

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর জীবন বিয়ে, সন্তান ধারণ এবং তাদের লালন-পালনের মধ্যঠে সীমাবদ্ধ। কোনও নারী যদি বিয়ে ও সন্তানের বাইরে গিয়ে তার পরিচয় গড়ে তুলতে চায় কিংবা আর্থিক স্বাধীনতার জন্য কাজ করতে চায়, তাহলে সমাজ ও পরিবার তাঁর বিরুদ্ধে যায়। একবিংশ শতকে এসেই অনেক পুরুষ বিয়ের সময় জানিয়ে দেয় তাঁর স্ত্রীকে বাইরের কানও কাজ করতে হবে না। সে কেবল ঘরের কাজ করবে ও সন্তানদের দেখাশোনা করবে।

 বিয়ের পরে স্ত্রীর কাজের মর্যাদা

বিয়ের পরে স্ত্রীর কাজের মর্যাদা

বিয়ের পরে স্ত্রী কাজ করুক অনেক স্বামীই পছন্দ করেন না। কাজ করলে হিন্দুদের ক্ষেত্রে বিবাহ বিচ্ছেদ আর মুসলিমদের ক্ষেত্রে তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এব্যাপারে বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে। যেখানে স্বামীর অমতে চাকরির জন্য স্ত্রীকে বিচ্ছেদ করতে বলা হয়েছিল। এব্যাপারে আদালত ওই মহিলার পক্ষে রায় দিয়ে বলেছে, বিয়ের পরে কোনও স্ত্রীর চাকরি করার ইচ্ছা কিংবা সন্তান না হওয়াকে স্বামীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়।

আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা খারিজ

আদালতে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা খারিজ

এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বিচারপতি অতুল চান্দুকার এবং উর্মিলা যোশীর ডিভিশন বেঞ্চ স্বামীর বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে স্ত্রীর চাকরি বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হতে পারে না। এক্ষেত্রে মামলা হতে পারত স্ত্রীর আচরণ এমন যে তার সঙ্গে বসবাস করা কঠিন হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী স্ত্রীর যে আচরণের কথা বলেছে, তাকে নিষ্ঠুরতা বলা যাবে না।
বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা করে স্বামী বলেছিল, বিয়ের পর থেকে স্ত্রী চাকরি করার ইচ্ছায় ঝগড়া ও নির্যাতন করে আসছে। সঙ্গে এ অভিযোগও করা হয়েছিল কোনও যুক্তি সঙ্গত কারণ ছাড়াই স্ত্রী শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে বাবা-মাসের সঙ্গে থাকতে শুরু করেছে এবং তাঁকে নির্যাতন করছে।

 নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পক্ষে আদালত

নারীদের আর্থিক স্বাধীনতার পক্ষে আদালত

বিয়ের পরে পারিবারিক দাসত্বের নামে নারীরা রোজগারের জন্য ঘরের বাইরে যেতে বাধ্য হন। আবার স্বামীর ওপরে আর্থিকভাবে নির্ভর হওয়ার কারণে তাঁরা সংসারে হিংসারও শিকার হন। এব্যাপারে আদালতের পর্যবেক্ষণ হল নারীরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হলে তাঁর জীবনের সিদ্ধান্ত সহজেই নিতে পারে।

মামলার পিছনের ঘটনা

মামলার পিছনের ঘটনা

এই মামলার পিছনের ঘটনা একনজরে দেখে নেওয়া যাক। তাঁদের বিয়ে হয়েছিল ২০০১-এর ৮ অগাস্ট।য বিয়ের এক বছরের মধ্যে তাঁদের সন্তান হয়। এর মধ্যে স্ত্রী স্নাতকোত্তরে পড়াশোনা শেষ করায় তিনি চাকরি করতে চান। প্রাথমিকভাবে তিনি পড়ানোর কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু সন্তানের দেখাশোনার কারণে তা বাদ দেন। ২০১৪-তে ওই মহিলা আবার দর্ভবতী হয়ে পড়েন। স্বামীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তিনি গর্ভপাত করান। যা নিয়ে দুজনের মধ্যে অশান্তি শুরু হলে ওই মহিলা বাবা-মায়ের কাছে চলে যান। তিনি আর ফিরে আসেননি। এর প্রেক্ষিতে স্বামী পারিবারিত আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন। যা খারিজ হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা, গর্ভপাত, চাকরি করার জেদের অভিযোগ করে বম্বে হাইকোর্টে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।
শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করে ভারতীয় সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের অধীনে সন্তান সম্ভাবা হওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি মহিলার ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে স্ত্রী বলেন অসুস্থতার কারণে তিনি গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এছাড়া স্বামী, স্ত্রী ও ছেলে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন এমন কোনও প্রমাণ নেই। এ ছাড়াও স্বামী তাঁর জন্য কোনও জীবিকার ব্যবস্থা করেননি। এছাড়াও স্ত্রী দাবি করেছেন, স্বামী ও তাঁর বোনেরা চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করায় তিনি শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে ছিলেন। অন্যদিকে আদালত বলেছে স্বামী যেখানে অভিযোগ করেছেন, স্ত্রী গর্ভপাত করিয়েছেন এবং তিনি সন্তান চান না। সেক্ষেত্রে এই অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্বও স্বামীকে নিতে হবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+