পর্যটনের স্বর্গ ওয়েনাড়, ভেসে গিয়েছে একাধিক রিসর্ট, নিরাপদে রয়েছেন তো পর্যটকরা?
দেবতার নিজের দেশ বলা হয় কেরলকে। এই কেরল দিয়েই মৌসুমী বায়ুর প্রবেশ এবং প্রস্থান। শিক্ষা-সংস্কতি সব দিক দিয়ে দেশে শীর্ষে রয়েছে কেরল। অর্থনৈতিক দিক দিয়েও দেশের অন্যান্য রাজ্যের থেকে অনেকটাই উন্নত একেবারে দক্ষিণের এই রাজ্য।
আবার পর্যটন মানচিত্রেও কেরল একেবারেই পিছিয়ে নেই। সারাবছরই প্রায় কেরলে পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। কেরলের ব্যাকওয়াটার্স যেমন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। ততটাই জনপ্রিয় এই ওয়েনাড়। কেরলের স্বর্গ বলা হয় এই ওয়েনাড়কে। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার আমোঘ সৌন্দর্যের দেখা মেলে এই ওয়েনাড়ে। পাহাড়, চাবাগান-কফি বাগান-জঙ্গল একেবারে পিকচার পারফেক্ট বললে ভুল হবে না। এতোটাই সুন্দর ওয়েনাড়।

এই বর্ষায় নাকি সম্মোহন তৈরি করে ওয়েনা়ড়। সেকারণে বর্ষাতেই এখানে পর্যটকদের আগমন বেশি। তাতে বাঙালি পর্যটকদের সংখ্যা যে নেহাত কম নয় সেটা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্ষায় ওয়েনাড়ের অপরিসীম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রত্যক্ষ করতে ছুটে আসেন পর্যটকরা।
- কী রয়েছে ওয়েনা়ড়ে
কেরলের পশ্চিমঘাট পর্বতমালায় অবস্থিত একটি জায়গা ওয়েনাড়। প্রকৃতি সব সৌন্দর্য এখানে উজার করে দিয়েছে। এই ওয়েনাড়েই রয়েছে প্রাচীন গুহা। যার নাম এডাক্কাল কেভ। পশ্চিমঘাট পর্বতমালার গর্ভে এই গুহাগুলি এক অ্যাডভেঞ্চারের মতো। পর্যটকরা অ্যাডভেঞ্চারের টানে এখানে এসে হাজির হয়ে যান।
বর্ষার ট্রেকিংয়ের জন্যও জনপ্রিয় ওয়েনাড়। এখানকার চেম্বরা পিক পর্যন্ত ট্রেকিংয়ে যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে পাবেন পর্যটকরা তা দেশ কেন বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। এক কথায় তার জুরি মেলা ভার। এই পিকে পৌঁছতে পেরিয়ে যেতে হয় চা বাগান, হার্ট শেপের লেক। আর সবুজ উপত্যকায় মেঘের খেলা তো রয়েইছে।
ওয়েনাড়ের আরেকটি আকর্ষণ হল সোচিপাড়া ওয়াটারফলস এটি সেন্টিনেল জলপ্রপাত নামে বেশি পরিচিত। এটি দেখতে হলে জঙ্গলের মধ্যদিয়ে ট্রেক করে পৌঁছতে হয় পাহাড়ের উপরে। তিনটি ধাপে নেমে এসেছে জলপ্রপাতটি। এছাড়াও রয়েছে বাণাসুর সাহর জলাধার। দেশের সবচেয়ে বড় জলাধারগুলির মধ্যে একটি এটি। ব্রহ্মগিরি পর্বতের উপরে বিষ্ণুর তিরুতেন্নি মন্দিরের অবস্থান এতোটাই সুন্দর যে সেই সৌন্দর্যের টানেই এখানে চলে আসেন পর্যটকরা। রয়েছে পোকোডে হ্রদ। প্রাকৃতিক এই হ্রদের অবস্থান এতোটাই সুন্দর এখানে এলে মনে হবে স্বর্গে চলে এসেছেন।
ওয়েনাড়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এখানকার জঙ্গল। ওয়েনাড় ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঞ্চুয়ারি। হাতি তো রয়েইছে এছাড়া বাঘ, চিতাবাঘ, একাধিক বিরল প্রজাতির পাখির বাস এই জঙ্গলে। তার সঙ্গে ফ্লোরা এবং ফনা গাছের দেখা মেলে। জঙ্গলের কাছেই রয়েছে মীনমুট্টি ওয়াটারফলস। ৩০০ ফুট উচ্চতা থেকে পড়েছে জলপ্রপাতটি। নীলগিরি পর্বতমালার অরণ্য তো মুগ্ধ করবেই।
এককথায় ওয়েনাড় ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ। বর্ষায় সেটি আরও সুন্দর হয়ে ওঠে।
কী অবস্থা পর্যটকদের
ওয়েনাড়ের এই বিপর্যটের পর পর্যটকরা কতটা নিরাপদ রয়েছে তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কারণ যে জায়গাগুলিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা নেহাত কম ছিল না। বর্ষার কারণে প্রায় সব হোটেল রিসর্টেই পর্যটকদের ভিড় ছিল। পাহাড়ের কোলে ছোট ছোট কটেজ তৈরি করে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে অনেক জায়গাতেই। অনেক রিসর্টই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। সেখানে থাকা পর্যটকা কী অবস্থায় রয়েছেন তা কেই জানেন না। কেরল সরকারও এই নিয়ে কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত দেননি।












Click it and Unblock the Notifications