আরবিআই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত, গৃহঋণ কি বাড়বে?
আরবিআই রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যমান গৃহঋণ গ্রহীতারা বড় স্বস্তি পেয়েছেন, কারণ ইএমআই বা মাসিক কিস্তি বাড়ার যে আশঙ্কা তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কাটল। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ঘোষণার সময় জানিয়েছেন, মানিটরি পলিসি কমিটি (এমপিসি) সর্বসম্মতভাবে নীতিগত রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের 'নিরপেক্ষ’ অবস্থান বজায় রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং এল নিনোর প্রভাবে ভারতের বর্ষার ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া কারণ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর ঝুঁকি তৈরি করছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বর্তমান সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

পাঠকদের সুবিধার্থে জানানো প্রয়োজন, রেপো রেট হলো সেই সুদের হার, যে হারে আরবিআই বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ প্রদান করে। ব্যাঙ্কগুলি মূলত এই হারের ওপর ভিত্তি করেই ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে থাকে। যেহেতু রেপো রেট অপরিবর্তিত রয়েছে, তাই বর্তমান গৃহঋণ গ্রাহকদের মাসিক কিস্তিতে কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। যাদের ফ্লোটিং-রেট হোম লোন রয়েছে, তাদের মাসিক পরিশোধের পরিমাণ আপাতত স্থিতিশীল থাকবে, যদি না ব্যাঙ্কগুলি তাদের নিজস্ব ঋণ প্রদানের হারে কোনো বড় পরিবর্তন আনে।
যারা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই স্থিতিশীলতা সুখবর, কারণ নিকট ভবিষ্যতে ঋণের খরচ বাড়ার আশঙ্কা কম। নিওলিভ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও মোহিত মালহোত্রা জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এই সিদ্ধান্ত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি বলেন, “রেপো রেট বজায় রাখার সিদ্ধান্তটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা আবাসন শিল্পের জন্য বেশ ইতিবাচক।”
মোহিত মালহোত্রা আরও যোগ করেন, সুদের হার নিম্নমুখী হলে তা মধ্যবিত্তদের আবাসন প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন সহজ করবে এবং সাধারণ মানুষকে নিজেদের স্বপ্নের বাড়ি কিনতে উৎসাহিত করবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিকাশে সহায়তা করবে। শিল্পমহলের অভিমত, রেপো রেট না কমলেও, সুদের হারের এই স্থায়িত্ব ডেভেলপার এবং ক্রেতাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করার সুযোগ করে দেয়, যা বাজারের জন্য নিঃসন্দেহে সহায়ক ও স্বস্তিদায়ক।
অনন্ত রাজ লিমিটেড-এর ডিরেক্টর ও সিইও অমন সারিন মনে করেন, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার এই সময়ে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংকটের কারণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পণ্যের মূল্যের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে সুদের হারের স্থায়িত্ব বজায় রাখা বাজার ও গ্রাহকদের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য জরুরি।” তিনি আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে গৃহঋণের সুদের হার যথেষ্ট সহনীয় এবং ক্রেতাদের কাছে এখন সুদের হারের চেয়েও মাসিক কিস্তির স্থায়িত্ব অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।
ক্রেতাদের উদ্দেশ্যে বলা যায়, ভবিষ্যতের সুদের হার কমার অপেক্ষায় না থেকে বরং নিজস্ব আর্থিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকায় ইএমআইয়ের কোনো বাড়তি বোঝা গ্রাহকদের ওপর এখনই পড়ছে না। বিদ্যমান ঋণগ্রহীতারা স্বস্তিতে থাকতে পারেন এবং নতুন ক্রেতারা স্বচ্ছতার সঙ্গে তাদের সম্পত্তি কেনার পরিকল্পনা করতে পারেন। অর্থাৎ, আপাতত স্থিতিশীলতাই গৃহঋণ ও রিয়েল এস্টেট বাজারের মূল মন্ত্র।












Click it and Unblock the Notifications