কেন উত্তর-পূর্ব ভারতে ক্রমেই জাঁকিয়ে বসেছে বিজেপি, কী করেছে মোদী সরকার
কোন কারণে বিজেপি উত্তর-পূর্ব ভারতকে প্রায় কব্জা করে ফেলেছে তা দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
একটা সময়ে যেখানে দূর-দুরান্ত পর্যন্ত পদ্মের কোনও চিহ্ন ছিল না, সেখানে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে শুধু অস্তিত্ব জানান দেওয়া নয়, একেবারে সাম্রাজ্য দখল করে নিয়েছে বিজেপি। গোটা উত্ত-পূর্ব ভারতে এখন সবচেয়ে বেশি দাপট বিজেপিরই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'অ্যাক্ট ইস্ট' নীতিই সবচেয়ে বড় অনুঘটকের কাজ করেছে। সবমিলিয়ে কোন কারণে বিজেপি উত্তর-পূর্ব ভারতকে প্রায় কব্জা করে ফেলেছে তা দেখে নেওয়া যাক একনজরে।

রেলের বিস্তার
২০০৮ সালে মিটার গেজ রেল চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত ত্রিপুরার সঙ্গে সারা দেশের রেলপথে যোগাযোগ ছিল না। নরেন্দ্র মোদী সরকারে এসে ব্রড গেজ লাইন চালু করেছেন। ৯০০ কিলোমিটার ট্র্যাক ব্রড গেজে বদলে ফেলা হয়েছে। ত্রিপুরা থেকে দিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেস চালু হয়েছে। ২০১৬ সালে রেল ২৩১৫ কোটি টাকা প্রকল্পের ৮৮ কিমি ধানসিরি-কোহিমা রেল ট্র্যাকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। ইম্ফল, আইজল, শিলংকে জুড়তে রেল প্রকল্প চালু হয়েছে। এছাড়া ত্রিপুরা ও চট্টগ্রামের মধ্যে রেল যোগাযোগ গড়তে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছে।

রাস্তা ও হাইওয়ে
উত্তর-পূর্ব জুড়ে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে উত্তর-পূর্বে উন্নয়ন থমকে ছিল। ৩২ হাজার কোটি টাকা ৩৮০০ কিমি জাতীয় সড়ক তৈরির জন্য বরাদ্দ হয়েছে। যার মধ্যে গত তিন বছরে ১২০০ কিমি রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্র আরও ৬০হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। গতবছরে শিলং থেকে তুরা প৪যন্ত ২৭১ কিমি লম্বা রাস্তার উদ্বোধন মোদী নিজে গিয়ে করে এসেছেন।

বিমান সংযোগ
এয়ারপোর্ট অথোরিটি অব ইন্ডিয়া ৩৪০০ কোটি টাকা দিয়েছে উত্তর-পূর্বের বিমানবন্দরগুলি সংষ্কার করার জন্য। তার মধ্যে ৯৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বাকীটা দুই বছরের মধ্যে হয়ে যাবে। এছাড়া আগরতলা, শিলচর, ডিমাপুর, শিলংয়ে বিমানবন্দরে উন্নয়নের কাজ জোরকদমে চলছে।

অন্যান্য নীতি
গতবছরে প্রধানমন্ত্রী মোদী তুইরিয়াল হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্পের সূচনা করেছেন মিজোরামে। এই প্রকল্প বছরে ২৫১ মিলিয়ন ইলেকট্রিসিটি দেবে। ১৯৯৮ সালে এটা অটল বিহারীর আমলে শিলান্যাস হয়েছিল। এখন গিয়ে তা ফের চালু হয়েছে। মোদী সরকার এছাড়াও ১৩৬০ কিমি ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড হাইওয়ে বানাচ্ছে। যা ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ করবে। এর পাশাপাশি বাজেটেও উত্তর-পূর্বের উন্নতিতে নানা প্রকল্পের কথা বলেছে মোদী সরকার। সবমিলিয়ে উত্তর পূর্বের প্রতি বিশেষ নজরই মোদীকে জিতিয়ে আনতে সাহায্য করতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications